ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ Logo ইইউ-মার্কোসুর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের Logo তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার Logo কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া Logo ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত বাংলাদেশ Logo জুলাই মাসেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের মূল্য Logo বাক্ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ঠাকুরগাঁওয়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে ফ্রান্স Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি : মির্জা ফখরুল Logo জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ

হঠাৎ এত পুলিশ! নিস্তব্ধ সীমান্ত মুহূর্তেই পরিণত হয় কৌতূহলে

অনলাইন ডেস্ক

হঠাৎ এত পুলিশ! কী হয়েছে?— মঙ্গলবার গভীর রাতে এমন প্রশ্নেই ঘুম ভাঙে দক্ষিণ শালিকা গ্রামের বাসিন্দাদের। নিস্তব্ধ সীমান্ত গ্রামটি মুহূর্তেই পরিণত হয় কৌতূহল, আতঙ্ক আর ফিসফাসে ভরা এক অস্থির জনপদে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে কয়েকটি গাড়ির শব্দ শোনা যায়। এরপর দেখা যায়, পুলিশের একাধিক দল চারপাশ ঘিরে ফেলছে একটি গুদামঘর। ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয়রা। কেউ দূর থেকে দেখছেন, কেউ আবার সাহস করে কাছে গিয়ে জানতে চাইছেন—কী হচ্ছে এখানে?

পরে জানা যায়, আবু সুফিয়ানের মালিকানাধীন ‘ফারাবী ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানের গুদামে চালানো হচ্ছে অভিযান। একে একে বের করে আনা হয় লোহার ব্যারেল। গুনে দেখা যায়, ২৬টি ব্যারেলে ভরা মোট পাঁচ হাজার ৩৭৫ লিটার ডিজেল।

গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা তো ভাবতেই পারিনি, আমাদের পাশের গুদামে এত তেল রাখা আছে। রাতে হঠাৎ পুলিশ দেখে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম।

আরেকজন জানান, অনেক দিন ধরেই দেখতাম, গুদামটায় রাতের বেলা কিছু না কিছু নড়াচড়া হতো। কিন্তু কী হতো, তা বুঝতে পারিনি।

সীমান্তের তারকাঁটা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার ভেতরের এই গ্রামে এমন গোপন তেলের ভাণ্ডার মিলায় বিস্মিত সবাই। অনেকেই এখন শঙ্কা প্রকাশ করছেন—এটি কি শুধু মজুত, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র কাজ করছে?

অভিযান চলাকালে পুরো এলাকায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শিশু থেকে বয়স্ক—অনেকে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার ফিসফিস করে নানা গুঞ্জন ছড়ান।

পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা তেলের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু তেল জব্দ করলেই হবে না—এর পেছনের পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটন করতে হবে।

রাত গড়িয়ে ভোর এলেও দক্ষিণ শালিকা গ্রামের মানুষের মনে রয়ে গেছে সেই রাতের অস্বস্তি। তাদের একটাই প্রশ্ন—চোখের সামনে এত কিছু ঘটছিল, অথচ তারা কিছুই জানত না কেন?

গ্রেফতার আবু সুফিয়ান দক্ষিণ শালিকা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে এবং ফারাবী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—আবু সুফিয়ান অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করে তা বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশে সংরক্ষণ করছিলেন। তবে অভিযানের সময় তিনি জ্বালানি মজুতের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
৫ বার পঠিত হয়েছে

হঠাৎ এত পুলিশ! নিস্তব্ধ সীমান্ত মুহূর্তেই পরিণত হয় কৌতূহলে

আপডেট এর সময় : ১২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

হঠাৎ এত পুলিশ! কী হয়েছে?— মঙ্গলবার গভীর রাতে এমন প্রশ্নেই ঘুম ভাঙে দক্ষিণ শালিকা গ্রামের বাসিন্দাদের। নিস্তব্ধ সীমান্ত গ্রামটি মুহূর্তেই পরিণত হয় কৌতূহল, আতঙ্ক আর ফিসফাসে ভরা এক অস্থির জনপদে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে কয়েকটি গাড়ির শব্দ শোনা যায়। এরপর দেখা যায়, পুলিশের একাধিক দল চারপাশ ঘিরে ফেলছে একটি গুদামঘর। ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয়রা। কেউ দূর থেকে দেখছেন, কেউ আবার সাহস করে কাছে গিয়ে জানতে চাইছেন—কী হচ্ছে এখানে?

পরে জানা যায়, আবু সুফিয়ানের মালিকানাধীন ‘ফারাবী ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানের গুদামে চালানো হচ্ছে অভিযান। একে একে বের করে আনা হয় লোহার ব্যারেল। গুনে দেখা যায়, ২৬টি ব্যারেলে ভরা মোট পাঁচ হাজার ৩৭৫ লিটার ডিজেল।

গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা তো ভাবতেই পারিনি, আমাদের পাশের গুদামে এত তেল রাখা আছে। রাতে হঠাৎ পুলিশ দেখে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম।

আরেকজন জানান, অনেক দিন ধরেই দেখতাম, গুদামটায় রাতের বেলা কিছু না কিছু নড়াচড়া হতো। কিন্তু কী হতো, তা বুঝতে পারিনি।

সীমান্তের তারকাঁটা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার ভেতরের এই গ্রামে এমন গোপন তেলের ভাণ্ডার মিলায় বিস্মিত সবাই। অনেকেই এখন শঙ্কা প্রকাশ করছেন—এটি কি শুধু মজুত, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র কাজ করছে?

অভিযান চলাকালে পুরো এলাকায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শিশু থেকে বয়স্ক—অনেকে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার ফিসফিস করে নানা গুঞ্জন ছড়ান।

পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা তেলের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু তেল জব্দ করলেই হবে না—এর পেছনের পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটন করতে হবে।

রাত গড়িয়ে ভোর এলেও দক্ষিণ শালিকা গ্রামের মানুষের মনে রয়ে গেছে সেই রাতের অস্বস্তি। তাদের একটাই প্রশ্ন—চোখের সামনে এত কিছু ঘটছিল, অথচ তারা কিছুই জানত না কেন?

গ্রেফতার আবু সুফিয়ান দক্ষিণ শালিকা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে এবং ফারাবী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—আবু সুফিয়ান অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করে তা বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশে সংরক্ষণ করছিলেন। তবে অভিযানের সময় তিনি জ্বালানি মজুতের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।