নিজস্ব প্রতিনিধি
বাক্ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ঠাকুরগাঁওয়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রায় ১১ বছর আগে এক বাক্ প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মমিন (৪১)কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত।
একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদ- এবং ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক আলী মনসুর আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৫ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সংঘটিত এক বাক্ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় এ রায় দেওয়া হয়। আসামি আব্দুল মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে, আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদ- এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
আব্দুল মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী এলাকার মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের পুত্র।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়, ‘অর্থদণ্ডের অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হলো।’
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়িতে একা থাকা ১৪ বছর বয়সী বাক্ প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের সময় তার মা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে একই মামলার অন্য আসামি এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে সন্তুষ্ট ভিকটিমের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনতাজুল ইসলাম বলেন, আজকের এ রায় সমাজে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।
যারা অপরাধী তাদের এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করা থেকে নিরুৎসাহিত করবে। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এ জন্য যে, ভিকটিমের মা আদালতের কাছে একটি ন্যায় বিচার পেয়েছেন।




















