ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo গাজায় ত্রাণকর্মী হত্যার তদন্ত বন্ধের ইসরাইলি সিদ্ধান্তে ‘ক্ষুব্ধ’ অস্ট্রেলিয়া Logo পশ্চিম তীরের বসতি প্রকল্প নিয়ে ইসরাইলি দূতকে তলব যুক্তরাজ্যের Logo কাবুলের স্কুলের কাছে হামলার নিন্দা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের Logo ওসমান হাদি হত্যা : সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২৭ সেপ্টেম্বর Logo খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী ভেলু গ্রেপ্তার Logo ইরান চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের Logo যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহত্তম জলাধারে রেকর্ড পরিমাণ পানির ঘাটতি Logo প্রধানমন্ত্রীর রাজস্ব সম্মেলনে যোগদান Logo জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যের শ্রদ্ধা Logo ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিম তীরের বসতি প্রকল্প নিয়ে ইসরাইলি দূতকে তলব যুক্তরাজ্যের

প্রতিনিধির নাম :

 পশ্চিম তীরে বড় ধরণের বসতি প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে ইসরাইলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর বুধবার এ পদক্ষেপ নেয় ব্রিটেন।

গত বছর অনুমোদিত ই১ প্রকল্পটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দা হয়েছে। সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছিলেন, প্রকল্পটি একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ তৈরি করছে।

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রকল্পটি পূর্ব জেরুজালেমকে পশ্চিম তীর থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। পূর্ব জেরুজালেম ইসরাইল দখল ও সংযুক্ত করেছে। সেখানে প্রধানত ফিলিস্তিনিরা বসবাস করে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলবে’।

এক বিবৃতিতে মিলিব্যান্ড বলেন, ‘ইসরাইল সরকারকে অবিলম্বে ই১ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে, দরপত্র প্রত্যাহার করতে হবে এবং সব ধরণের বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।’

মিলিব্যান্ড বলেন, তিনি ও ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারের কাছে সরাসরি এই বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ‘ব্যাপক কিছু পদক্ষেপ’ ঘোষণা করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ‘অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে’ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও থাকবে।

মিলিব্যান্ড বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের বিষয়টি ব্রিটেন নীরবে মেনে নেবে না।’

জেরুজালেমের ঠিক পূর্বে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার  আয়তনের ই১ এলাকায় গত বছরের আগস্টে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় ইসরাইল।

এই প্রকল্পের আওতায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ওই এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকাটি জেরুজালেম ও ইসরাইলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝখানে অবস্থিত।

ইসরাইলি বেসরকারি সংস্থা পিস নাও জানিয়েছে, সর্বশেষ দরপত্রে ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন ইউনিট রয়েছে।

পিস নাও জানায়, ইসরাইলের আবাসন মন্ত্রণালয় ১৮ আগস্ট দরপত্র প্রকাশ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে এতে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়।

দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। ইসরাইলে নির্ধারিত নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এই সময়সীমা শেষ হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা।

সংস্থাটি বলেছে, এসব বাড়ি ই১ প্রকল্পের পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। নির্বাচনের আগে নির্মাণকাজের প্রতিশ্রুতি এগিয়ে নিতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের চলাচলে ইসরাইল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পূর্ব জেরুজালেম বা ইসরাইলে প্রবেশের জন্য তাদের চেকপোস্ট পার হতে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।

গত বছর ই১ প্রকল্পের অনুমোদনের নিন্দা জানিয়েছিল যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ২১টি দেশ। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে
১৮ বার পঠিত হয়েছে

পশ্চিম তীরের বসতি প্রকল্প নিয়ে ইসরাইলি দূতকে তলব যুক্তরাজ্যের

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে

 পশ্চিম তীরে বড় ধরণের বসতি প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে ইসরাইলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর বুধবার এ পদক্ষেপ নেয় ব্রিটেন।

গত বছর অনুমোদিত ই১ প্রকল্পটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দা হয়েছে। সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছিলেন, প্রকল্পটি একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ তৈরি করছে।

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রকল্পটি পূর্ব জেরুজালেমকে পশ্চিম তীর থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। পূর্ব জেরুজালেম ইসরাইল দখল ও সংযুক্ত করেছে। সেখানে প্রধানত ফিলিস্তিনিরা বসবাস করে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলবে’।

এক বিবৃতিতে মিলিব্যান্ড বলেন, ‘ইসরাইল সরকারকে অবিলম্বে ই১ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে, দরপত্র প্রত্যাহার করতে হবে এবং সব ধরণের বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।’

মিলিব্যান্ড বলেন, তিনি ও ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারের কাছে সরাসরি এই বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ‘ব্যাপক কিছু পদক্ষেপ’ ঘোষণা করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ‘অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে’ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও থাকবে।

মিলিব্যান্ড বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের বিষয়টি ব্রিটেন নীরবে মেনে নেবে না।’

জেরুজালেমের ঠিক পূর্বে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার  আয়তনের ই১ এলাকায় গত বছরের আগস্টে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় ইসরাইল।

এই প্রকল্পের আওতায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ওই এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকাটি জেরুজালেম ও ইসরাইলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝখানে অবস্থিত।

ইসরাইলি বেসরকারি সংস্থা পিস নাও জানিয়েছে, সর্বশেষ দরপত্রে ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন ইউনিট রয়েছে।

পিস নাও জানায়, ইসরাইলের আবাসন মন্ত্রণালয় ১৮ আগস্ট দরপত্র প্রকাশ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে এতে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়।

দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। ইসরাইলে নির্ধারিত নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এই সময়সীমা শেষ হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা।

সংস্থাটি বলেছে, এসব বাড়ি ই১ প্রকল্পের পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। নির্বাচনের আগে নির্মাণকাজের প্রতিশ্রুতি এগিয়ে নিতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের চলাচলে ইসরাইল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পূর্ব জেরুজালেম বা ইসরাইলে প্রবেশের জন্য তাদের চেকপোস্ট পার হতে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।

গত বছর ই১ প্রকল্পের অনুমোদনের নিন্দা জানিয়েছিল যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ২১টি দেশ। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button