1. rajubdnews@gmail.com : 24jibonnews : admin
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
শেয়ারবাজারে বড় পতন, সূচক কমেছে ২৩১ পয়েন্ট পাঁচ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিশ্ব রেকর্ড রানডেলের নেত্রকোণায় ঈদ উপলক্ষে ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশের নিরাপত্তা সভা উদ্ধার হওয়া ২২ ইরানি নাবিককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিল শ্রীলঙ্কা পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো নিশ্চিত করতে ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে ভাতা দিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেব: মির্জা ফখরুল বাড়ির দরজা খুলেই প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘চলেন যুদ্ধে যাই’ তেহরানে তেল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা যুদ্ধের আতঙ্কে ঢাকার বাজারে সয়াবিন তেলের টান স্বাধীনতা দিবসে থাকবে না আলোকসজ্জা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বছরজুড়ে শেয়ারবাজারে রক্তক্ষরণ

প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০১৯
?????????????????????????????????????????????????????????

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের মিল নেই। অর্থনীতির বেশ কিছু সূচক ইতিবাচক থাকলেও শেয়ারবাজারে সংকট যেন কাটছে না। বিদায়ী ২০১৮ সালের পুরোটাই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ হয়েছে।

এ সময়ে বাজার থেকে শিল্পায়নের জন্য পুঁজি সংগ্রহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজারমূলধন থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকা হাওয়ায় মিশে গিয়েছে। লেনদেন ও মূল্যসূচক সবকিছুই যেন নিস্তেজ। বছরব্যাপী শেয়ারবাজারের উত্থান-পতনে দুর্বল কোম্পানিই নেতৃত্ব দিয়েছে।

অর্থাৎ এ কোম্পানির আড়ালে বাজার থেকে দুষ্টচক্রের পকেট ভারি হয়েছে। আর সংকটের কথা বলে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বেশ কিছু সুবিধা নিয়েছে বাজারসংশ্লিষ্টরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বাড়তি কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। অন্যদিকে পুরো বছরই মামলা সংকটে ছিল শেয়ারবাজারের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তবে এত সমস্যার মধ্যেও ইতিবাচক খবর হল, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ডিএসইর শেয়ার কিনেছে চীন।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট ছিল। এখনও তা কাটেনি। আর আস্থা সংকট না কাটলে বাজার ইতিবাচক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তিনি আরও বলেন, বাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনার কথা আসছে। কিন্তু প্রণোদনা দিলে বাজার সাময়িকভাবে উপকৃত হয়। এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। তার মতে, দেশের শেয়ারবাজার অবমূল্যায়িত। কিন্তু বিনিয়োগ হুজুগে মাতে। এতে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে প্রণোদনার পরিবর্তে এখানে আইন কানুন সংস্কার জরুরি। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যসব সূচক এগিয়ে গেলেও শেয়ারবাজার পিছিয়েছে। কিন্তু শেয়ারবাজার পিছিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনাও ঘটেনি।

বাজার পরিস্থিতি : আলোচ্য বছরের বেশির ভাগ সময়ই নিস্তেজ ছিল বাজার। ২০১৮ সালের শুরুতে ডিএসইর ব্রডসূচক ছিল ৬ হাজার ২৫৪ পয়েন্ট। আর বছর শেষে তা কমে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এ হিসাবে ডিএসইর মূল্যসূচক ৮৬৩ পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে ডিএসইর বাজারমূলধন ৪ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা কমে ৩ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে এক বছরে ডিএসইর বাজারমূলধন ৩৬ হাজার কোটি টাকা কমেছে। অপরদিকে বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়েই লেনদেন ছিল ৫শ’ কোটি টাকার নিচে।

নতুন কোম্পানি : ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে যে আইপিও (প্রাথমিক শেয়ার) অনুমোদন হয়েছে, তা ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিু। এ সময়ে তিন মাধ্যমে বাজার থেকে শিল্প খাতে মোট ৬৫৫ কোটি টাকার পুঁজি এসেছে। এগুলো হল- নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতি, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি এবং রাইট শেয়ার। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে যা ছিল ১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে ছিল ৯৫০ কোটি টাকা, ২০১৫ সালে ৬৭৫ কোটি, ২০১৪ সালে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি, ২০১৩ সালে ৯১০ কোটি, ২০১২ সালে ১ হাজার ৮৪২ কোটি, ২০১১ সালে ৩ হাজার ২৩৩ কোটি, ২০১০ সালে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি এবং ২০০৯ সালে বাজার থেকে ৯১৭ কোটি টাকার পুঁজি সংগ্রহ হয়েছিল।

প্রণোদনা : চলতি বছরের বাজেটে বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশের আলোকে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়াও চীনের কাছে শেয়ার বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া গেছে, তা শেয়ারবাজারে তিন বছরে বিনিয়োগের শর্তে ১০ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা দেয়া হয়েছে।

মামলা শূন্য ট্রাইব্যুনাল : শেয়ারবাজারের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ২০১৮ সালে নতুন কোনো মামলা যোগ হয়নি। ২০১৫ সালে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। রাজধানীর হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনে এ ট্রাইব্যুনাল প্রথম বছরে ৬টি মামলার রায় দেন।

এরমধ্যে ২০১৭ সালে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের মামলার রায় হয়েছে। এতে মামলার আলোচিত দুই আসামি ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান এ রউফ চৌধুরী এবং ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে প্রায় সবগুলো মামলার ওপর উচ্চ আদালতের স্থগিত আদেশ রয়েছে।

কৌশলগত বিনিয়োগকারী সংকট : স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (পর্ষদকে ম্যানেজমেন্ট আলাদাকরণ) অন্যতম শর্ত ছিল কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ারের বড় একটি অংশ বিক্রি করা।

এর অংশ হিসাবে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছে চীন। এক্ষেত্রে শেয়ারের জন্য ভারতে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম এবং চীনের শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম আবেদন করে। অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত চীনকে শেয়ার দেয়া হয়।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড
Theme Customized BY LatestNews