ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo এক রানেরও কম ইকোনমিতে রেকর্ড বইয়ে রবিনসন Logo শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদক জব্দ Logo ইইউর সদস্যপদ বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, এ নিয়ে আইসল্যান্ডে গণভোট Logo বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, প্রাণহানি ৬৩৩ Logo ৭৪ জনকে চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান প্রধানমন্ত্রীর Logo গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ : আলী রীয়াজ

প্রতিনিধির নাম :

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জাতি ১৬ বছর মুক্তির প্রহর গুনছিল; ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান তাদের ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ রয়েছে। তাই আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে সে জন্যই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে এবং জুলাই সনদ কার্যকরের জন্যই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, ‘হ্যাঁ’ এর প্রার্থী কে? আমি বলি-হ্যাঁ এর প্রার্থী আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ, হ্যাঁ আমাদের সবার জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে।

আজ রোববার সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময়ে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

ড. রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত এ জাতি আর কোন স্বৈরশাসন, দুঃশাসন চায় না। তারা একটি আলোকিত আগামী গড়তে চায়, নতুন দিন আনতে চায়; সে দিন হবে সাম্য, সমতা আর আনন্দের। যেখানে কোনো কোন অন্তরাত্মা কাঁপানো বাহিনীর হাতে গুম হবার ভয় থাকবে না, গায়েবী মামলায় গ্রেফতার হবার আতংক থাকবে না, যেদিনের স্বপ্ন দেখেছিল আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, যেদিন আনতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অকাতরে জীবন বিনিময় করেছে আমাদের ছাত্র-জনতা।

তনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে রয়েছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সে উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি গণভোটে অংশ নিয়ে হ্যাঁ-তে রায় দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

‘হ্যাঁ’- ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসাথে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, যার ফলে বিচারের বাণী আর নিরবে নিভৃতে কাঁদবে না। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যে পথ আমাদের সংবিধানের দুর্বলতায় তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন, হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদ প্রমুখ।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৪ বার পঠিত হয়েছে

ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ : আলী রীয়াজ

আপডেট এর সময় : ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জাতি ১৬ বছর মুক্তির প্রহর গুনছিল; ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান তাদের ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ রয়েছে। তাই আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে সে জন্যই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে এবং জুলাই সনদ কার্যকরের জন্যই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, ‘হ্যাঁ’ এর প্রার্থী কে? আমি বলি-হ্যাঁ এর প্রার্থী আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ, হ্যাঁ আমাদের সবার জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে।

আজ রোববার সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময়ে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

ড. রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত এ জাতি আর কোন স্বৈরশাসন, দুঃশাসন চায় না। তারা একটি আলোকিত আগামী গড়তে চায়, নতুন দিন আনতে চায়; সে দিন হবে সাম্য, সমতা আর আনন্দের। যেখানে কোনো কোন অন্তরাত্মা কাঁপানো বাহিনীর হাতে গুম হবার ভয় থাকবে না, গায়েবী মামলায় গ্রেফতার হবার আতংক থাকবে না, যেদিনের স্বপ্ন দেখেছিল আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, যেদিন আনতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অকাতরে জীবন বিনিময় করেছে আমাদের ছাত্র-জনতা।

তনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে রয়েছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সে উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি গণভোটে অংশ নিয়ে হ্যাঁ-তে রায় দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

‘হ্যাঁ’- ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসাথে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, যার ফলে বিচারের বাণী আর নিরবে নিভৃতে কাঁদবে না। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যে পথ আমাদের সংবিধানের দুর্বলতায় তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন, হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদ প্রমুখ।