ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo মাদক সেবনের দায়ে শাহরাস্তিতে যুবকের কারাদণ্ড Logo ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসায় ভর্তুকি, মালয়েশিয়ায় স্কুল বন্ধ Logo নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী Logo বিভিন্ন খাতে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ইমরান সমর্থকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসন Logo উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রণয়ন হচ্ছে জাতীয় বন্দর কৌশল: নৌপরিবহনমন্ত্রী Logo জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশন বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ Logo কুমিল্লা-৬ আসনের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরীর মতবিনিময় Logo ফেনীতে পৃথক অভিযানে ৩৯ কেজি গাঁজা, ইয়াবা ও ইস্কাপসহ আটক ৪

মেহেরপুরে পরিবেশ সচেতনতায় ফিরছে পাখির কোলাহল

নিজস্ব প্রতিনিধি

পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, পাখি শিকার কমিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগের কারণে জেলায় পাখির সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ঘুঘু, লালকন্ঠি ঘুঘু ও শালিকের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো। একসময় যেসব পাখির দেখা মিলতো খুব কম, এখন সেগুলো মেহেরপুরের গ্রাম-গঞ্জের আকাশ ও গাছপালায় যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছে।

ঘুঘু পাখিকে সাধারণত অত্যন্ত নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের পাখি হিসেবে ধরা হয়। এরা লাজুক প্রকৃতির পাখি হলেও মানুষের খুব কাছাকাছি বসবাস করতে অভ্যস্ত এবং সহজে কারও ক্ষতি করে না। তবে সচরাচর কারো সামনে আসে না। তাদের মৃদু, সুরেলা ডাক গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। বিশেষ করে ভোর কিংবা কাঠফাঁটা দুপুর ও বিকেলের নীরবতায় ঘুঘুর ডাক এক ধরনের আবেগময় অনুভূতির জন্ম দেয়।

সদর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ সাদ হোসেন জানান, কয়েক বছর আগেও নির্বিচারে পাখি শিকারের কারণে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে ছিল।

কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগের কঠোরতা এবং সামাজিকভাবে শিকারবিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে।

হরিরামপুর গ্রামের আরেক বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘আগে সকাল বিকেল শিকারিরা বন্দুক নিয়ে বের হতো। এখন সেই দৃশ্য আর নেই। ফলে পাখিরা নিরাপদে বাসা বাঁধছে, বংশবিস্তার করছে। আমার বাড়িতে একটি কুল গাছে দুই জোড়া ঘুঘু বাসা বেঁধে ডিম পেড়েছে। এলাকায় ঘুঘুর অবাধ বিচরণ এখন চোখে পড়ে। বছর দুই আগেও এমন ঘুঘু দেখা যেত না। তবে ঘুঘু বাসা বানাতে জানেনা। অল্প খড় কুটো জড়ো করে ডিম পাড়ে। অনেক সময় ডিম পড়ে ভেঙে যায়।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশেষ করে ঘুঘু ও লালকন্ঠি ঘুঘুর মৃদু ডাক আবার  গ্রামবাংলায় চেনা সুর হয়ে উঠেছে। শালিকের দলবদ্ধ উড়াউড়িও চোখে পড়ে বেশ। কৃষিজমি, বাঁশঝাড়, ফলের বাগান ও বসতভিটার গাছপালায় এদের বিচরণ বাড়ছে।

পাখি বিশারদ সদানন্দ মন্ডলের মতে, পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি জানান, পাখি প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে আমরা স্কুলে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা এখন নিজেরাই পাখি রক্ষার কথা বলে।

মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে বনভূমি রক্ষা, গাছ লাগানো এবং পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ জরুরি। আমরা অবৈধ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদার করেছি। তাতে মানুষের সচেতনতা ও উদ্যোগে প্রকৃতি যেন ধীরে ধীরে তার হারানো সুর ফিরে পাচ্ছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
১৮ বার পঠিত হয়েছে

মেহেরপুরে পরিবেশ সচেতনতায় ফিরছে পাখির কোলাহল

আপডেট এর সময় : ০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, পাখি শিকার কমিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগের কারণে জেলায় পাখির সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ঘুঘু, লালকন্ঠি ঘুঘু ও শালিকের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো। একসময় যেসব পাখির দেখা মিলতো খুব কম, এখন সেগুলো মেহেরপুরের গ্রাম-গঞ্জের আকাশ ও গাছপালায় যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছে।

ঘুঘু পাখিকে সাধারণত অত্যন্ত নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের পাখি হিসেবে ধরা হয়। এরা লাজুক প্রকৃতির পাখি হলেও মানুষের খুব কাছাকাছি বসবাস করতে অভ্যস্ত এবং সহজে কারও ক্ষতি করে না। তবে সচরাচর কারো সামনে আসে না। তাদের মৃদু, সুরেলা ডাক গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। বিশেষ করে ভোর কিংবা কাঠফাঁটা দুপুর ও বিকেলের নীরবতায় ঘুঘুর ডাক এক ধরনের আবেগময় অনুভূতির জন্ম দেয়।

সদর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ সাদ হোসেন জানান, কয়েক বছর আগেও নির্বিচারে পাখি শিকারের কারণে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে ছিল।

কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগের কঠোরতা এবং সামাজিকভাবে শিকারবিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে।

হরিরামপুর গ্রামের আরেক বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘আগে সকাল বিকেল শিকারিরা বন্দুক নিয়ে বের হতো। এখন সেই দৃশ্য আর নেই। ফলে পাখিরা নিরাপদে বাসা বাঁধছে, বংশবিস্তার করছে। আমার বাড়িতে একটি কুল গাছে দুই জোড়া ঘুঘু বাসা বেঁধে ডিম পেড়েছে। এলাকায় ঘুঘুর অবাধ বিচরণ এখন চোখে পড়ে। বছর দুই আগেও এমন ঘুঘু দেখা যেত না। তবে ঘুঘু বাসা বানাতে জানেনা। অল্প খড় কুটো জড়ো করে ডিম পাড়ে। অনেক সময় ডিম পড়ে ভেঙে যায়।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশেষ করে ঘুঘু ও লালকন্ঠি ঘুঘুর মৃদু ডাক আবার  গ্রামবাংলায় চেনা সুর হয়ে উঠেছে। শালিকের দলবদ্ধ উড়াউড়িও চোখে পড়ে বেশ। কৃষিজমি, বাঁশঝাড়, ফলের বাগান ও বসতভিটার গাছপালায় এদের বিচরণ বাড়ছে।

পাখি বিশারদ সদানন্দ মন্ডলের মতে, পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি জানান, পাখি প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে আমরা স্কুলে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা এখন নিজেরাই পাখি রক্ষার কথা বলে।

মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে বনভূমি রক্ষা, গাছ লাগানো এবং পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ জরুরি। আমরা অবৈধ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদার করেছি। তাতে মানুষের সচেতনতা ও উদ্যোগে প্রকৃতি যেন ধীরে ধীরে তার হারানো সুর ফিরে পাচ্ছে।