
এখনো অচলাবস্থা কাটেনি আমেরিকায় শার্টডাউনের। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছে এফবিআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। কয়েকজন অফিসার জানান, বেতন না পাওয়ায় সোর্সদের আর হাতে রাখা যাচ্ছে না।
গোয়েন্দা সংস্থার ওই অফিসারেরা নিজেদের নাম গোপন রেখে ‘এফবিআই এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে এক রিপোর্টে এই সব তথ্য প্রকাশ্য করেছেন। এর আগে এফবিআইয়ে কোনো দিন এমন ঘটেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিসাররা। তারা বলেছেন, অর্থের অভাবে বিশ্ব জুড়ে নানা অভিযানে রাশ টানতে হচ্ছে। দেশের সব চেয়ে লম্বা শাটডাউনে দেশেরই সব চেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে— আপোষ করতে হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়ের সঙ্গে।
এক অফিসারের দাবি, ‘শাটডাউনে আমরা কিছুই করে উঠতে পারছি না। শত্রুরা বুঝতে পারছে, এ বার তারা যা খুশি করতে পারে।’ এফবিআই স্বাভাবিকভাবেই এই রিপোর্ট থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। এক বিবৃতিতে তাদের দাবি, ‘এফবিআই এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ‘ভয়েসেস ফ্রম দ্য ফিল্ড : এফবিআই এজেন্ট অ্যাকাউন্টস অব দ্য রিয়্যাল কনসিকুয়েন্সেস অব দ্য গভর্নমেন্ট শার্টডাউন’ নামে তারা যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তার সঙ্গে এফবিআইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।’
নাম প্রকাশ না করা ওই অফিসারের দাবি, যে সব গোপন সূত্রে খবর আসে, তাদের অর্থ জোগাতে না পেরে বড়সড় চাপের মুখে পড়ছে এফবিআই। তাদের বক্তব্য, তথ্য তো হাতছাড়া হচ্ছেই, পাশাপাশি সোর্সদেরও হারাতে হচ্ছে।
শাটডাউনের জেরে এফবিআইয়ের গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞসহ অন্তত পাঁচ হাজার সদস্যকে আপাতত বাড়িতে বসে থাকতে বলা হয়েছে। সংস্থার মোট ৩৫ হাজার কর্মী এই মাসের শেষেও বেতন পাবেন না। শাটডাউন আরও গড়ালে শুধু ‘সোর্স’ নয়, তরুণ কর্মীদেরও হারাবে এফবিআই— এমনটাই জানিয়েছেন অফিসারেরা। তাদের কথায়, ‘তরুণ ছেলেমেয়েরা বলছে, শাটডাউন না উঠলে অন্য জায়গায় চলে যাবো।’