হরমুজ প্রণালীতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন, দাবি ইরানের
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।
এর এক দিন আগে হরমুজ প্রণালীতে আরও পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছিল তেহরান। তবে এসব ঘটনার কোনোটি এখন পর্যন্ত সামুদ্রিক নিরাপত্তা বা নৌ-চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করছে ইরান। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরানের এ পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড গত মাসে জানিয়েছিল, গ্রীষ্মকাল থেকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে তারা। সম্প্রতি সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, ওই জলপথ থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।
তবে শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়াই হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর একটি হরমুজ প্রণালীর পূর্বদিকে এবং অন্যটি প্রণালীর ভেতরে ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়ম লঙ্ঘনকারী ওই দুটি তেলবাহী ট্যাংকার তাদের নৌ-চলাচল ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় জাহাজ দুটি হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলো চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে একই ধরনের ঘটনায় আগুন লেগেছে।
তবে এসব ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সামুদ্রিক নিরাপত্তা বা নৌ-চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।










