
নিজেদের মতো করে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছিলো একটি কোম্পানি। তাতে কোম্পানিটি আয় দেখিয়েছিলো ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা। ৬১ লাখ টাকার বেশি করও জমা দিয়েছিলো তারা। কিন্তু এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সন্দেহ হলে তদন্তে নামে তারা। তাতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। দেখা যায় আলোচ্য কর বছরে কোম্পানিটি আয় করেছে ৩৬৬ কোটি ৬ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এ হিসেবে কোম্পানিটির মোট আয়করের পরিমান ৫৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এনবিআর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশী ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কোম্পানি জিবিএক্স লজিস্টিক লি: আমদানি ও রপ্তানিকারকদের নানা সেবা দিয়ে থাকে। তারা বিভিন্ন আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মালামাল বিদেশে পাঠানোর জন্য জাহাজ এবং এয়ারলাইন্সের কার্গো স্পেস বুকিং করে থাকে। এ বিপরীতে তারা সংশ্লিষ্ট আমদানি ও রপ্তানিকারকের কাছ থেকে কমিশন পেয়ে থাকে।
কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানিটি ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস লাইন এবং অপর বিদেশী কোম্পানি হ্যাপাগ লইয়েড থেকে যে কমিশন পেয়েছে তার বিপরীতে উেস কর বাবদ ৬১ লাখের একটু বেশি পরিমান টাকা জমা দেন। বিষয়টি এনবিআর-এর সন্দেহ হলে তারা তদন্তে নামে।
এনবিআর-এর সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল বিস্তারিত তদন্ত করে বিভিন্ন ব্যাংকে কোম্পানিটির মোট ছয়টি একাউন্ট এর সন্ধান পায়। এসব একাউন্টের লেনদেনও ওই সেলের নজরে আসে। তাতে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির একাউন্টগুলোতে কমিশন বাবদ মোট জমা হয়েছে ১৬১ কোটি ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৯ টাকা। টাকাগুলো ব্যাংক এশিয়ার গুলশান শাখা, ওয়ান ব্যাংকের চট্রগ্রাম আগ্রাবাদ শাখা, জনতা ব্যাংকের চট্রগাম পোর্ট কর্পোরেট শাখা, সোনালী ব্যাংকের কমলাপুর রেলস্টেশন শাখা, মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকের গুলশান শাখা, এবং এইচএসবিসি ব্যাংকে জমা হয়েছে।
এদিকে, এনবিআর এর সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট ঘটনা তদন্ত করে জমা দেয়ার পর ওই কোম্পানির বিপরীতে উপ-কর কমিশনার একটি দাবী সম্বলিত চিঠি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠান। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুমোদন দেননি। এতে ওই কোম্পানি থেকে অনাদায়ী কর আদায় দূরুহ হয়ে পড়েছে বলে এনবিআর সূত্র জানায়।