
ঢাকা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনা এগিয়ে নিতে এ মাসেই মিয়ানমারে যেতে পারেন তিনি।
রোববার (০৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমার সফরের বিষয়টি আগেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু এর মধ্যে মিয়ানমারের ঘটনায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তবে এ মাসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর ২৫ আগস্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে চিহ্নিত করেছে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূলের’ চেষ্টা হিসেবে।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে আপত্তি জানিয়ে আসা মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় যাচাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ প্রস্তুত আছে।
সে সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এরপর সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে ঢাকায় এসে গত ২ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয় সেখানে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য বৈঠকে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলকে ওই চুক্তির খসড়াও হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই মিয়ানমার সফরে যাবেন বলে সেদিন জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, এ বিষয় নিয়ে (মিয়ানমার সফরে) আলোচনা হবে। এছাড়া আগে ইয়াবা চোরাচালানসহ অন্যান্য যেসব বিষয় নির্ধারিত ছিল, তা নিয়েও আলোচনা হবে। বাংলাদেশ সরকার বলে আসছে, মানবিক কারণ সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া হলেও তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতেই হবে। তার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের জরুরি সহায়তা দিয়ে যাবে।
ইতোমধ্যে কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আকার বাড়িয়ে সেখানে সব রোহিঙ্গাকে রাখার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাদের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনার জন্য চলছে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত শনিবার পর্যন্ত ৯১ হাজার ৪০৩ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার জনের নিবন্ধন করা হচ্ছে।
৯৯৯ নম্বরে ৩ জরুরি সেবা : আগামী নভেম্বর থেকে ৯৯৯ নম্বরে কল করে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের জরুরি সেবা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ সভায় শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জরুরি সেবা পেতে এখন আর একাধিক নম্বরে কল করতে হবে না। ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, একটি নম্বরে ডায়াল করলেই সমস্ত ইমার্জেন্সি সেবাগুলো যাতে হাতের কাছে এসে যায় এবং নাগরিক সেই সুবিধা ভোগ করতে পারেন সেটাই এর মূল উদ্দেশ্য।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, গত এক বছর ধরে আইসিটি বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে ৯৯৯ এর সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে ৩৩ লাখ কল রিসিভ করা হয়েছে। ৯৯৯ অপারেট করবে পুলিশ।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনা ছিল উন্নত বিশ্বের আদলে একটি নম্বরে একাধিক জরুরি সেবা দেওয়ার। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ৯৯৯ নম্বরে তিনটি সেবা পাওয়া যাবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকসহ বিজিবি, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ স্থলবন্দরে শিগগিরই বসছে স্ক্যানিং মেশিন : অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে দেশের ১৬টি স্থলবন্দরে শিগগিরই স্ক্যানিং মেশিন ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ বছর অস্ত্র উদ্ধার বেড়েছে বলেও তিনি জানান।
রোববার সচিবালয়ে চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির অপর এক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, দেশের ১৬টি স্থলবন্দরে শিগগিরই স্ক্যানিং মেশিন ব্যবহার করা হবে, যাতে আমদানি পণ্যের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। অস্ত্র ও চোলাচালান বন্ধে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার জন্য এ ব্যবস্থা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়। ৫৩৭ কোটি টাকারও বেশি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত মোট ৩২৫টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। চলতি বছর একই সময়ে ৫০১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধার একটু বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন চোরাচালান মামলায় ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ৪১৯ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিভাগ ধরে চোরাচালান প্রতিরোধের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, বিজিবি, কোস্টগার্ড, অন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।