
ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তি প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগেই উপহার দিল এক রোমাঞ্চকর লড়াই। পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৫-৪ গোলের জয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল ফরাসি ক্লাবটি। একই সঙ্গে সেমিফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়ে এই দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের গতি। হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে বায়ার্ন শুরুতে এগিয়ে গেলেও পিএসজি এক পর্যায়ে ৫-২ ব্যবধানে লিড নেয়। তবে বায়ার্ন দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্যবধান ৫-৪ এ নামিয়ে আনলে পরের সপ্তাহের মিউনিখ লেগের রোমাঞ্চ এখন তুঙ্গে।
খেলার শুরুতেই বায়ার্নের আলফনসো ডেভিস একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করার পর পাল্টা আক্রমণে লুইস দিয়াজ বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। গোলরক্ষক সাফোনভকে ভুল পথে পাঠিয়ে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। এর মাধ্যমে রবার্ট লেভানদোভস্কির পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বায়ার্নের হয়ে টানা ৫টি নকআউট ম্যাচে গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করেন ইংলিশ অধিনায়ক।
পিএসজি সমতায় ফেরে ২৪ মিনিটে। উসমান ডেম্বেলে সহজ সুযোগ মিস করার পর খভিচা কভারাস্খেলিয়া দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে গোল করেন। এরপর জোয়াও নেভেসের হেডে লিড নেয় পিএসজি। বিরতির ঠিক আগে মাইকেল ওলিসে একক প্রচেষ্টায় বায়ার্নকে সমতায় ফেরান (২-২)। তবে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ কিকে বিতর্কিত এক পেনাল্টি থেকে ডেম্বেলে গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পিএসজির তাণ্ডব শুরু হয়। আশরাফ হাকিমির পাস থেকে কভারাস্খেলিয়া নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এবং এর দুই মিনিট পর ডেম্বেলে অসাধারণ এক শটে ব্যবধান ৫-২ করে ফেলেন। কিন্তু বায়ার্ন হাল ছাড়েনি। জোশুয়া কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে দায়ো উপামেকানো হেডে গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর কেইনের পাস থেকে লুইস দিয়াজ লক্ষ্যভেদ করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-৪। শেষ দিকে সেনি মায়ুলু পিএসজির হয়ে এবং কিমিখ বায়ার্নের হয়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস করলে ব্যবধান আর বাড়েনি। গত মৌসুমে বার্সেলোনা বনাম ইন্টার মিলানের সেই মহাকাব্যিক লড়াইকেও ছাপিয়ে গেল এই ম্যাচ। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে আয়াক্সের কাছে ৫-২ গোলে হারার পর এই প্রথম ইউরোপীয় কোনো আসরে ৫ গোল হজম করল বায়ার্ন মিউনিখ।
অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে পিএসজি চারবার কোনো এক ম্যাচে ৫ বা তার বেশি গোল করার কৃতিত্ব দেখাল, যা ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিভারপুলের গড়া রেকর্ডের সমান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের ইতিহাসে এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭ গোল হয়েছিল, যা আজ ৯ গোলে গিয়ে ঠেকল। বিস্ময়কর তথ্য হলো, ম্যাচে মোট ২২টি শটের মধ্যে ৪০.১ শতাংশই গোলে রূপান্তরিত হয়েছে, যা বিশ্বমানের ফিনিশিংয়ের প্রমাণ দেয়।
আগামী সপ্তাহে বায়ার্নের ঘরের মাঠ মিউনিখে দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে কার হাতে উঠবে ফাইনালের টিকিট। তবে প্রথম লেগের এই নয় গোলের থ্রিলার ফুটবল প্রেমীদের মনে অনেক দিন গেঁথে থাকবে।