
আরও জটিল হয়ে উঠেছে ভারত শাসিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে গৃহবন্দি করা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতিকে। এছাড়া কংগ্রেস নেতা উসমান মজিদ এবং সিপিএম বিধায়ক এমওয়াই তারিগামিকেও রাতে আটক করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
সেইসঙ্গে শ্রীনগর আর জম্মু অঞ্চলে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের গৃহবন্দি দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীই। টুইটারকে হাতিয়ার করে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে তারা।
একইভাবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছেন মেহবুবা মুফতি। তিনিও ট্যুইটারে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শ্রীনগর শহরকে। শহর ছাড়া গ্রামীণ এলাকাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় পুলিশ চৌকি তৈরি করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই ভারত শাসিত কাশ্মীরে বাড়তি ২৮ হাজার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষী পাঠানোর সিদ্ধান্ত, হিন্দুদের পবিত্র অমরনাথ যাত্রা বন্ধ করে ওই রাজ্য থেকে সব তীর্থযাত্রী আর পর্যটকদের রাজ্য ছেড়ে দ্রুত চলে যাওয়ার পরামর্শ – এসবের পরে সেখানে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে।
ভারত শাসিত কাশ্মীরের প্রশাসন আর ভারতীয় সেনাবাহিনী বলছে, অমরনাথ যাত্রাপথ থেকে পাকিস্তানে তৈরি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যও বলছে যে সন্ত্রাসী হামলা চলতে পারে অমরনাথ যাত্রার ওপরে।
এরপরেই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তীর্থযাত্রী আর পর্যটকদের রাজ্য ছাড়ার পরামর্শ দেয় প্রশাসন।