ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

বাবা-চাচাই নির্মমভাবে হত্যা করে গাছে ঝোলায় তুহিনকে

প্রতিনিধির নাম :

দিরাইয়ে শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে খুনের নেপথ্যে ছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, আর এর পেছনের নাটের গুরু ছিলেন তুহিনের চাচা আবদুল মুছাব্বির মোল্লা- এমনটাই মনে করছেন কেজাউড়া গ্রামের আপামর মানুষ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিনের স্বজনরাই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন- এই তথ্য শোনার পর তারা কিছুটা অবাক হলেও মুছাব্বির মোল্লার অতীত কর্মকান্ডের কারণে এমনটা তার পক্ষে করা সম্ভব বলে জানান প্রতিবেশীরা। এক সময়ের শান্তিপ্রিয় কেজাউড়া গ্রামটি অশান্ত হয়ে ওঠে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর অন্তর্দ্বন্দ্বে। এক পক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং অপর পক্ষে মাওলানা আবদুল মুছাব্বির। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের সর্বশেষ নির্মম শিকারে পরিণত হয় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন। ২০০১ সালে কৃষক মুজিব ও ২০১৫ সালে খুন হন গৃহবধূ নিলুফা। দুটি খুনের ঘটনায়ই বিবদমান দুটি পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে নিলুফার খুন হলে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ আসে মুছাব্বির পক্ষের। ওই ঘটনায় আনোয়ার মেম্বার পক্ষের ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পুরুষশূন্য ঘরবাড়িতে লুটপাট করেন মুছাব্বির মোল্লার লোকজন। তুহিন খুনের ঘটনার পরদিন মুজিব হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তুহিনের বাবা আবদুল বাছিরের। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, তুহিন খুনের নৃশংস ঘটনায় তার বাবা, তিন চাচা ও চাচাতো ভাই জড়িত ছিল। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ঠান্ডা মাথায় বাবা-চাচারা মিলে খুন করে ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিনকে। ঘুমন্ত শিশুটিকে বাবা আবদুল বাছির কোলে করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। বাবার কোলেই ঘুমন্ত শিশু তুহিনকে জবাই করে চাচা নাসির উদ্দিন।

ছেলের নৃশংস খুনের পর বাকরুদ্ধ তুহিনের মা মনিরা বেগম এখন বাবার বাড়িতে শয্যাশায়ী। দুই শিশুপুত্র মাহিন, ফাহিম এবং ১৫ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে অন্ধকার ভবিষ্যতের প্রহর গুনছেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। সোমবার সকালে এ ঘটনায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা করেন তুহিনের মা মনিরা বেগম। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা আবদুল মুছাব্বির, নাসির উদ্দিন, জমসের আলী ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ারকে। আটক তুহিনের এক চাচি ও চাচাতো বোনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তুহিনের চাচা নাসির ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার। বাবা আবদুল বাছির, চাচা মুছাব্বির আলী ও জমসের আলীকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
১৮ বার পঠিত হয়েছে

বাবা-চাচাই নির্মমভাবে হত্যা করে গাছে ঝোলায় তুহিনকে

আপডেট এর সময় : ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

দিরাইয়ে শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে খুনের নেপথ্যে ছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, আর এর পেছনের নাটের গুরু ছিলেন তুহিনের চাচা আবদুল মুছাব্বির মোল্লা- এমনটাই মনে করছেন কেজাউড়া গ্রামের আপামর মানুষ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিনের স্বজনরাই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন- এই তথ্য শোনার পর তারা কিছুটা অবাক হলেও মুছাব্বির মোল্লার অতীত কর্মকান্ডের কারণে এমনটা তার পক্ষে করা সম্ভব বলে জানান প্রতিবেশীরা। এক সময়ের শান্তিপ্রিয় কেজাউড়া গ্রামটি অশান্ত হয়ে ওঠে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর অন্তর্দ্বন্দ্বে। এক পক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং অপর পক্ষে মাওলানা আবদুল মুছাব্বির। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের সর্বশেষ নির্মম শিকারে পরিণত হয় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন। ২০০১ সালে কৃষক মুজিব ও ২০১৫ সালে খুন হন গৃহবধূ নিলুফা। দুটি খুনের ঘটনায়ই বিবদমান দুটি পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে নিলুফার খুন হলে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ আসে মুছাব্বির পক্ষের। ওই ঘটনায় আনোয়ার মেম্বার পক্ষের ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পুরুষশূন্য ঘরবাড়িতে লুটপাট করেন মুছাব্বির মোল্লার লোকজন। তুহিন খুনের ঘটনার পরদিন মুজিব হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তুহিনের বাবা আবদুল বাছিরের। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, তুহিন খুনের নৃশংস ঘটনায় তার বাবা, তিন চাচা ও চাচাতো ভাই জড়িত ছিল। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ঠান্ডা মাথায় বাবা-চাচারা মিলে খুন করে ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিনকে। ঘুমন্ত শিশুটিকে বাবা আবদুল বাছির কোলে করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। বাবার কোলেই ঘুমন্ত শিশু তুহিনকে জবাই করে চাচা নাসির উদ্দিন।

ছেলের নৃশংস খুনের পর বাকরুদ্ধ তুহিনের মা মনিরা বেগম এখন বাবার বাড়িতে শয্যাশায়ী। দুই শিশুপুত্র মাহিন, ফাহিম এবং ১৫ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে অন্ধকার ভবিষ্যতের প্রহর গুনছেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। সোমবার সকালে এ ঘটনায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা করেন তুহিনের মা মনিরা বেগম। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা আবদুল মুছাব্বির, নাসির উদ্দিন, জমসের আলী ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ারকে। আটক তুহিনের এক চাচি ও চাচাতো বোনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তুহিনের চাচা নাসির ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার। বাবা আবদুল বাছির, চাচা মুছাব্বির আলী ও জমসের আলীকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।