ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া’র কবিতা রোবটের জয় Logo ৫ কারণে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ Logo শিক্ষা ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের মাধ্যমেই বজায় থাকবে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব: শিক্ষামন্ত্রী Logo নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি Logo সেনা পাহারায় আল-আকসায় ঢুকে পড়ল শত শত ইসরাইলি Logo মন্ত্রিসভায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশের সংশোধনী অনুমোদন Logo কোস্টগার্ডকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী Logo কুবি-র সহযোগী অধ্যাপকের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ারের লাশ উদ্ধার Logo উত্তর কোরিয়ার জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

মধ্যরাত থেকে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট

প্রতিনিধির নাম :

নৌযান শ্রমিকরা ১১ দফা দাবি আদায়ে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহীসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

নৌযান শ্রমিকদের আটটি সংগঠনের জোট বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। এ নিয়ে গত এক বছরে তিনবার ধর্মঘটের ডাক দিল ফেডারেশন।

নেতাদের দাবি, নৌযান মালিক ও সরকার বারবার ওয়াদা ভঙ্গ করায় তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এবার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ১১ দফা উপস্থাপন করা হলেও তাদের মূল দাবি ২০১৬ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে সমকালকে বলেন, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তারা তিনবার ধর্মঘটে গেছেন। প্রতিবারই শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করানো হয়। পরবর্তীতে মালিকরা দাবি মেনে নেন না।

শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, এবারও ধর্মঘট বন্ধ করতে বুধবার শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সভা হয়। সেখানে অয়েল ট্যাঙ্কার মালিক ছাড়া অন্য নৌযানের মালিক প্রতিনিধিরা আসেননি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেডারেশনভুক্ত সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা হয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যাত্রীবাহীসহ সব নৌযানের মালিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক হবে না। কোনো আশ্বাসও শ্রমিকরা মানবেন না।

ফেডারেশনের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ, ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন প্রদান, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদান, মালিক কর্তৃক খাদ্য ভাতা প্রদান, নৌযান শ্রমিকদের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ।

এদিকে ধর্মঘট সফল করতে দেশের অন্যতম বৃহৎ নৌবন্দর বরিশালে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন নৌযান শ্রমিকরা। তারা গতকাল বরিশাল নৌবন্দরে বিক্ষোভ করেন।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল জেলা সভাপতি হাশেম মাস্টার জানান, তারা ধর্মঘটের সমর্থনে বিক্ষোভ, লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। আজ সকাল ও বিকেলে নৌবন্দরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৯
২৫ বার পঠিত হয়েছে

মধ্যরাত থেকে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট

আপডেট এর সময় : ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৯

নৌযান শ্রমিকরা ১১ দফা দাবি আদায়ে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহীসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

নৌযান শ্রমিকদের আটটি সংগঠনের জোট বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। এ নিয়ে গত এক বছরে তিনবার ধর্মঘটের ডাক দিল ফেডারেশন।

নেতাদের দাবি, নৌযান মালিক ও সরকার বারবার ওয়াদা ভঙ্গ করায় তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এবার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ১১ দফা উপস্থাপন করা হলেও তাদের মূল দাবি ২০১৬ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে সমকালকে বলেন, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তারা তিনবার ধর্মঘটে গেছেন। প্রতিবারই শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করানো হয়। পরবর্তীতে মালিকরা দাবি মেনে নেন না।

শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, এবারও ধর্মঘট বন্ধ করতে বুধবার শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সভা হয়। সেখানে অয়েল ট্যাঙ্কার মালিক ছাড়া অন্য নৌযানের মালিক প্রতিনিধিরা আসেননি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেডারেশনভুক্ত সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা হয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যাত্রীবাহীসহ সব নৌযানের মালিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক হবে না। কোনো আশ্বাসও শ্রমিকরা মানবেন না।

ফেডারেশনের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ, ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন প্রদান, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদান, মালিক কর্তৃক খাদ্য ভাতা প্রদান, নৌযান শ্রমিকদের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ।

এদিকে ধর্মঘট সফল করতে দেশের অন্যতম বৃহৎ নৌবন্দর বরিশালে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন নৌযান শ্রমিকরা। তারা গতকাল বরিশাল নৌবন্দরে বিক্ষোভ করেন।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল জেলা সভাপতি হাশেম মাস্টার জানান, তারা ধর্মঘটের সমর্থনে বিক্ষোভ, লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। আজ সকাল ও বিকেলে নৌবন্দরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।