ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া Logo টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে Logo ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

চেনা-অচেনা বার্সেলোনা

প্রতিনিধির নাম :

গত মৌসুমেও একটি ম্যাচ বাদ দিলে অপ্রতিরোধ্য ছিলো বার্সেলোনা। খেলায় ছিলো ছন্দ, প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেয়ার আত্মবিশ্বাস। এবার সেই বার্সেলোনায় যেন অন্য চেহারায়। মেসি-সুয়ারেজ, ডি ইয়ং-বুস্কেটস, পিকে-স্টেগানরা মাঠে থাকলেও তার উত্তাপটা যেন নিতে পারছে না কাতালান ক্লাবটি। প্রতি ম্যাচ শেষে ভক্তদেরও দীর্ঘশ্বাস, এ কোন বার্সেলোনা!

লা লিগার প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো শেষে বার্সেলোনা শীতকালীন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের স্থান সুসংহত করে নিয়েছে। ১৯ ম্যাচ শেষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সাথে সমান ৪০ পয়েন্ট অর্জন করে দুই গোল ব্যবধানে এগিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানটি ঠিকই ধরে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আসলে সেভাবে এই লিড ধরে রাখার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি কাতালান জায়ান্টরা। ক্যাম্প ন্যুতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়েই বার্সা এগিয়ে যাচ্ছে।

২০০৩-২০০৮ মৌসুম পর্যন্ত সাবেক ডাচ তারকা ফ্র্যাংক রাইকার্ডের অধীনে বার্সেলোনা প্রথম তিনবার শীতকালীন চ্যাম্পিয়ন হলেও শেষ পর্যন্ত লিগের শিরোপা জিততে পারেনি। রাইকার্ডের চতুর্থ ও পঞ্চম মৌসুম ছিল আরো বাজে। সাবেক দুই কোচ লুইস এনরিকের তৃতীয় ও পেপ গার্দিওলার চতুর্থ বছরেও ব্যর্থ হয়েছিল বার্সা। এ সমস্ত অভিজ্ঞতার নিরিখে ক্লাব খুব ভালভাবেই বুঝতে পারছে আর্নেস্টো ভালভার্দেকে ধরে রাখাটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যেই তার কিছু কিছু আলামত দেখে ফেলেছে বার্সা। লা লিগায় শীর্ষস্থানটি ধরে রাখলেও দলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা।

রক্ষণভাগের দুর্বলতা : বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক মার্ক টার-স্টেগান গোলবার সামলানোর দায়িত্ব পাওয়ায় কিছুটা হলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা ঢাকতে সক্ষম হয়েছে বার্সেলোনা। কিন্তু তাতেই কি সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছে ভালভার্দের শিষ্যরা। ইতোমধ্যেই ১৯ ম্যাচে ২৩টি গোল হজম করতে হয়েছে। ২০০৩/০৪ মৌসুমের পর যা সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স। রিয়াল মাদ্রিদ (১২) ও এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের (১২) তুলনায় যা প্রায় দ্বিগুন। এমনকি এ্যাথলেটিক ক্লাব (১৩), সেভিয়া (১৮) ও গেতাফের (২০) থেকেও যা বেশী।

এ্যাওয়ে ম্যাচের সমস্যা : এবারের মৌসুমে ক্যাম্প ন্যুর বাইরে মাত্র অর্ধেক পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে বার্সা। যদিও এখনো সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, এস্তাদিও র‌্যামোন সানচেজে খেলা বাকি রয়েছে। সেই তুলনায় সেভিয়া, রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদ এবার এ্যাওয় ম্যাচগুলোতেই বেশী পয়েন্ট তুলে নিয়েছে।

পিছিয়ে পড়ে আবারো এগিয়ে যাওয়া : এবারের মৌসুমে তিনবার বার্সেরোনা লিগ টেবিলে পিছিয়ে পড়েছিল। এরপর আবারো লিডে এসে ড্র করে দুই পয়েন্ট হারিয়েছে। এস্পানেয়লের বিপক্ষে সর্বশেষ ড্রয়ের মাধ্যমে দুই পয়েন্ট হারানো তারই উদাহরন।

পয়েন্টের আধিক্য : মৌসুমের এই সময়ে এসে তাদের অর্জন ৪০ পয়েন্ট যা ২০০৭/০৮ সালের পর সবচেয়ে কম। ঐ আসরে রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শিরোপা জয় করেছিল।

মধ্যমাঠে পরিবর্তন : মধ্যমাঠে এখনো সঠিক ফর্মূলাটি খুঁজে পাচ্ছেন না ভালভার্দে। সার্জিও বাসকুয়েট এখন আর পরিপূর্ণ ফর্মে নেই। ইভান রাকিটিচ দলের সাথে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে এখনো হিমশিম খাচ্ছে, আর্থার মেলো অনেকগুলো ম্যাচ মিস করে ফেলেছেন। মৌসুমের শুরুতে মূল একাদশে খেলেছেন কার্লেস আলেনা। কিন্তু ডিসেম্বরে চারটি ম্যাচ খেলার পর ধারে রিয়াল বেটিসে পাড়ি জমিয়েছেন। আরটুরো ভিডাল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমেন্স দেখিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি নিয়মিত বদলী বেঞ্চেই থাকেন।

এমএসজি ত্রয়ী : লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও আঁতোয়া গ্রীজম্যান ঘরের মাঠে ভাল করলেও এ্যাওয়ে ম্যাচে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। ইতোমধ্যে তারা সব মিলিয়ে মাত্র ৩১টি গোল করেছেন- মেসি ১৩, সুয়ারেজ ১১ ও গ্রীজম্যান ৭। কিন্তু যদি তারা গোল না পান তবে বার্সেলোনাকে আরো বিপদে পড়তে হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২০
২২ বার পঠিত হয়েছে

চেনা-অচেনা বার্সেলোনা

আপডেট এর সময় : ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২০

গত মৌসুমেও একটি ম্যাচ বাদ দিলে অপ্রতিরোধ্য ছিলো বার্সেলোনা। খেলায় ছিলো ছন্দ, প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেয়ার আত্মবিশ্বাস। এবার সেই বার্সেলোনায় যেন অন্য চেহারায়। মেসি-সুয়ারেজ, ডি ইয়ং-বুস্কেটস, পিকে-স্টেগানরা মাঠে থাকলেও তার উত্তাপটা যেন নিতে পারছে না কাতালান ক্লাবটি। প্রতি ম্যাচ শেষে ভক্তদেরও দীর্ঘশ্বাস, এ কোন বার্সেলোনা!

লা লিগার প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো শেষে বার্সেলোনা শীতকালীন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের স্থান সুসংহত করে নিয়েছে। ১৯ ম্যাচ শেষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সাথে সমান ৪০ পয়েন্ট অর্জন করে দুই গোল ব্যবধানে এগিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানটি ঠিকই ধরে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আসলে সেভাবে এই লিড ধরে রাখার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি কাতালান জায়ান্টরা। ক্যাম্প ন্যুতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়েই বার্সা এগিয়ে যাচ্ছে।

২০০৩-২০০৮ মৌসুম পর্যন্ত সাবেক ডাচ তারকা ফ্র্যাংক রাইকার্ডের অধীনে বার্সেলোনা প্রথম তিনবার শীতকালীন চ্যাম্পিয়ন হলেও শেষ পর্যন্ত লিগের শিরোপা জিততে পারেনি। রাইকার্ডের চতুর্থ ও পঞ্চম মৌসুম ছিল আরো বাজে। সাবেক দুই কোচ লুইস এনরিকের তৃতীয় ও পেপ গার্দিওলার চতুর্থ বছরেও ব্যর্থ হয়েছিল বার্সা। এ সমস্ত অভিজ্ঞতার নিরিখে ক্লাব খুব ভালভাবেই বুঝতে পারছে আর্নেস্টো ভালভার্দেকে ধরে রাখাটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যেই তার কিছু কিছু আলামত দেখে ফেলেছে বার্সা। লা লিগায় শীর্ষস্থানটি ধরে রাখলেও দলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা।

রক্ষণভাগের দুর্বলতা : বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক মার্ক টার-স্টেগান গোলবার সামলানোর দায়িত্ব পাওয়ায় কিছুটা হলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা ঢাকতে সক্ষম হয়েছে বার্সেলোনা। কিন্তু তাতেই কি সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছে ভালভার্দের শিষ্যরা। ইতোমধ্যেই ১৯ ম্যাচে ২৩টি গোল হজম করতে হয়েছে। ২০০৩/০৪ মৌসুমের পর যা সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স। রিয়াল মাদ্রিদ (১২) ও এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের (১২) তুলনায় যা প্রায় দ্বিগুন। এমনকি এ্যাথলেটিক ক্লাব (১৩), সেভিয়া (১৮) ও গেতাফের (২০) থেকেও যা বেশী।

এ্যাওয়ে ম্যাচের সমস্যা : এবারের মৌসুমে ক্যাম্প ন্যুর বাইরে মাত্র অর্ধেক পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে বার্সা। যদিও এখনো সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, এস্তাদিও র‌্যামোন সানচেজে খেলা বাকি রয়েছে। সেই তুলনায় সেভিয়া, রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদ এবার এ্যাওয় ম্যাচগুলোতেই বেশী পয়েন্ট তুলে নিয়েছে।

পিছিয়ে পড়ে আবারো এগিয়ে যাওয়া : এবারের মৌসুমে তিনবার বার্সেরোনা লিগ টেবিলে পিছিয়ে পড়েছিল। এরপর আবারো লিডে এসে ড্র করে দুই পয়েন্ট হারিয়েছে। এস্পানেয়লের বিপক্ষে সর্বশেষ ড্রয়ের মাধ্যমে দুই পয়েন্ট হারানো তারই উদাহরন।

পয়েন্টের আধিক্য : মৌসুমের এই সময়ে এসে তাদের অর্জন ৪০ পয়েন্ট যা ২০০৭/০৮ সালের পর সবচেয়ে কম। ঐ আসরে রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শিরোপা জয় করেছিল।

মধ্যমাঠে পরিবর্তন : মধ্যমাঠে এখনো সঠিক ফর্মূলাটি খুঁজে পাচ্ছেন না ভালভার্দে। সার্জিও বাসকুয়েট এখন আর পরিপূর্ণ ফর্মে নেই। ইভান রাকিটিচ দলের সাথে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে এখনো হিমশিম খাচ্ছে, আর্থার মেলো অনেকগুলো ম্যাচ মিস করে ফেলেছেন। মৌসুমের শুরুতে মূল একাদশে খেলেছেন কার্লেস আলেনা। কিন্তু ডিসেম্বরে চারটি ম্যাচ খেলার পর ধারে রিয়াল বেটিসে পাড়ি জমিয়েছেন। আরটুরো ভিডাল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমেন্স দেখিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি নিয়মিত বদলী বেঞ্চেই থাকেন।

এমএসজি ত্রয়ী : লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও আঁতোয়া গ্রীজম্যান ঘরের মাঠে ভাল করলেও এ্যাওয়ে ম্যাচে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। ইতোমধ্যে তারা সব মিলিয়ে মাত্র ৩১টি গোল করেছেন- মেসি ১৩, সুয়ারেজ ১১ ও গ্রীজম্যান ৭। কিন্তু যদি তারা গোল না পান তবে বার্সেলোনাকে আরো বিপদে পড়তে হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।