ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আবারও তহবিল সংকটের আশঙ্কা : ড, মুহাম্মদ ইউনূস

প্রতিনিধির নাম :

নিউজ ডেস্ক:   অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড, মুহাম্মদ ইউনূস জানালেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সাময়িক অর্থায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আবারও তহবিল সংকটের আশঙ্কা আছে। এই প্রেক্ষাপটে কাতারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দেশটির দোহায় আর্থনা সামিটে বুধবার (২৩ এপ্রিল) রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করবে বাংলাদেশ। এতেও কাতারের সহায়তা চান প্রধান উপদেষ্টা।

এই আলোচনায় মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এবং রাখাইনে আরাকান আর্মির বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আর বলেছেন, সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিতে ৮ দফা সুপারিশ-ও পেশ করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সুপারিশগুলো হলো—

১. মানবিক অর্থায়ন নিশ্চিত রাখা: খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অব্যাহত অর্থায়ন প্রয়োজন।
২. জীবিকা সহায়তা: ক্যাম্পে শিক্ষিত ও দক্ষ রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বনির্ভরতা তৈরি করা যেতে পারে।
৩. ভাসানচর উন্নয়নে সহায়তা: ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও পানীয়জলের সুযোগ বৃদ্ধিতে কাতার অংশ নিতে পারে।
৪. শিক্ষা সহায়তা: বিশেষ করে শিশু ও কিশোরীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা দরকার। বাংলা ভাষাভিত্তিক কারিকুলামের পাশাপাশি ইংরেজি ও বার্মিজ ভাষার শিক্ষা চালু করা যেতে পারে।
৫. পরিবেশ সুরক্ষা: বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
৬. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: কক্সবাজার ও ভাসানচরের অবকাঠামো এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে সহায়তা দরকার।
৭. আন্তর্জাতিক সংলাপ ও কূটনৈতিক সহায়তা: রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান— তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে জোরালো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
৮. রোহিঙ্গা নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা: যেকোনও উদ্যোগে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিজস্ব সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
১৭ বার পঠিত হয়েছে

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আবারও তহবিল সংকটের আশঙ্কা : ড, মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট এর সময় : ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:   অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড, মুহাম্মদ ইউনূস জানালেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সাময়িক অর্থায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আবারও তহবিল সংকটের আশঙ্কা আছে। এই প্রেক্ষাপটে কাতারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দেশটির দোহায় আর্থনা সামিটে বুধবার (২৩ এপ্রিল) রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করবে বাংলাদেশ। এতেও কাতারের সহায়তা চান প্রধান উপদেষ্টা।

এই আলোচনায় মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এবং রাখাইনে আরাকান আর্মির বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আর বলেছেন, সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিতে ৮ দফা সুপারিশ-ও পেশ করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সুপারিশগুলো হলো—

১. মানবিক অর্থায়ন নিশ্চিত রাখা: খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অব্যাহত অর্থায়ন প্রয়োজন।
২. জীবিকা সহায়তা: ক্যাম্পে শিক্ষিত ও দক্ষ রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বনির্ভরতা তৈরি করা যেতে পারে।
৩. ভাসানচর উন্নয়নে সহায়তা: ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও পানীয়জলের সুযোগ বৃদ্ধিতে কাতার অংশ নিতে পারে।
৪. শিক্ষা সহায়তা: বিশেষ করে শিশু ও কিশোরীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা দরকার। বাংলা ভাষাভিত্তিক কারিকুলামের পাশাপাশি ইংরেজি ও বার্মিজ ভাষার শিক্ষা চালু করা যেতে পারে।
৫. পরিবেশ সুরক্ষা: বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
৬. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: কক্সবাজার ও ভাসানচরের অবকাঠামো এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে সহায়তা দরকার।
৭. আন্তর্জাতিক সংলাপ ও কূটনৈতিক সহায়তা: রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান— তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে জোরালো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
৮. রোহিঙ্গা নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা: যেকোনও উদ্যোগে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিজস্ব সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।