ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের

চীনা-আফগান ক্রিকেটের অদৃশ্য নায়ক: নেপথ্যে আছেন বুলবুল

প্রতিনিধির নাম :

খেলাধুলা ডেস্ক:    ক্রিকেট ভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর সর্বকালের সেরা টি-টোয়েন্টি প্লেয়ারের খেতাব জিতেছেন রাশিদ খান! আর উইজডেন তো রাশিদকে এই স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে সেই ২০২০ সালেই। আফগানিস্তানের একজন ক্রিকেটার একটা ফরম্যাটের সেরা ক্রিকেটার, কতখানি অবিশ্বাস্য তা নিশ্চয়ই আর বলে দিতে হবে না।

শুধু রাশিদ কেন; অবিশ্বাসের জন্ম তো স্বয়ং আফগানিস্তানই দিয়েছে। যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটা দেশের মানুষ যেখানে জানেই না, পরদিনের সূর্যটা তারা দেখতে পারবে কি না, সেই দেশটা ক্রিকেট খেলছে। আর শুধু খেলছেই না, রীতিমতো রাজ করছে। টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে, ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ছিল সেরা ছয়ে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও হারিয়েছে ইংল্যান্ডের মতো দলকে! তবে, আফগানদের এই উত্থানের নেপথ্যে অনেক বড় কৃতিত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুলের।

আইসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে এশিয়ান অঞ্চলে কাজ করেছেন বুলবুল। সেখানেই দায়িত্ব পড়ে আফগানিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো উন্নয়নের। আফগানদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছিলেন বুলবুল। শোনা যায়, আফগানিস্তানে যে তিনটা হাই পারফর্ম্যান্স সেন্টার আছে; সেগুলো তৈরির পরিকল্পনাও তার। একসময় যে দেশটায় এগারোজন ক্রিকেটার ছিল না; বুলবুলদের ছোঁয়ায়, সংখ্যাটা পৌঁছেছে লাখে।

চীনা ক্রিকেটের জনকও বলা হয় বুলবুলকে। বলা হয়ে থাকে, চীনে ক্রিকেট খেলা প্রথম ব্যক্তি বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এসিসির হয়ে চীনে ক্রিকেটের আত্মপ্রকাশে কাজ করেন বুলবুল। দেশের একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে চীনের ভাষাও শেখেন। যে দেশটা ব্যাট-বলই চিনতো না; তাদের চেনানো, আগ্রহী করা এমনকি ব্যাট ধরতে পর্যন্ত শিখিয়েছিলেন বুলবুল।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়নও তিনি। ক্যারিয়ার শেষে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়, কোচিংইয়ের লেভেল টু কমপ্লিট করেন; যুক্ত হন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির কোচিং প্যানেলে। এরপর দেশে ফিরে আবাহনীকে জেতান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।

আবারও দেশে ফিরেছেন বুলবুল, এবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বপ্ন সারথী হয়ে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় ক্রিকেটের চাহিদা নিম্নমুখী, দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা; নতুন সভাপতির হাতেই বদলে যাবে দেশের ক্রিকেট। তবে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন কতখানি হবে, সেই উত্তর মিলবে সময় গড়ালেই।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
৯ বার পঠিত হয়েছে

চীনা-আফগান ক্রিকেটের অদৃশ্য নায়ক: নেপথ্যে আছেন বুলবুল

আপডেট এর সময় : ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

খেলাধুলা ডেস্ক:    ক্রিকেট ভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর সর্বকালের সেরা টি-টোয়েন্টি প্লেয়ারের খেতাব জিতেছেন রাশিদ খান! আর উইজডেন তো রাশিদকে এই স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে সেই ২০২০ সালেই। আফগানিস্তানের একজন ক্রিকেটার একটা ফরম্যাটের সেরা ক্রিকেটার, কতখানি অবিশ্বাস্য তা নিশ্চয়ই আর বলে দিতে হবে না।

শুধু রাশিদ কেন; অবিশ্বাসের জন্ম তো স্বয়ং আফগানিস্তানই দিয়েছে। যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটা দেশের মানুষ যেখানে জানেই না, পরদিনের সূর্যটা তারা দেখতে পারবে কি না, সেই দেশটা ক্রিকেট খেলছে। আর শুধু খেলছেই না, রীতিমতো রাজ করছে। টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে, ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ছিল সেরা ছয়ে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও হারিয়েছে ইংল্যান্ডের মতো দলকে! তবে, আফগানদের এই উত্থানের নেপথ্যে অনেক বড় কৃতিত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুলের।

আইসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে এশিয়ান অঞ্চলে কাজ করেছেন বুলবুল। সেখানেই দায়িত্ব পড়ে আফগানিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো উন্নয়নের। আফগানদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছিলেন বুলবুল। শোনা যায়, আফগানিস্তানে যে তিনটা হাই পারফর্ম্যান্স সেন্টার আছে; সেগুলো তৈরির পরিকল্পনাও তার। একসময় যে দেশটায় এগারোজন ক্রিকেটার ছিল না; বুলবুলদের ছোঁয়ায়, সংখ্যাটা পৌঁছেছে লাখে।

চীনা ক্রিকেটের জনকও বলা হয় বুলবুলকে। বলা হয়ে থাকে, চীনে ক্রিকেট খেলা প্রথম ব্যক্তি বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এসিসির হয়ে চীনে ক্রিকেটের আত্মপ্রকাশে কাজ করেন বুলবুল। দেশের একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে চীনের ভাষাও শেখেন। যে দেশটা ব্যাট-বলই চিনতো না; তাদের চেনানো, আগ্রহী করা এমনকি ব্যাট ধরতে পর্যন্ত শিখিয়েছিলেন বুলবুল।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়নও তিনি। ক্যারিয়ার শেষে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়, কোচিংইয়ের লেভেল টু কমপ্লিট করেন; যুক্ত হন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির কোচিং প্যানেলে। এরপর দেশে ফিরে আবাহনীকে জেতান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।

আবারও দেশে ফিরেছেন বুলবুল, এবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বপ্ন সারথী হয়ে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় ক্রিকেটের চাহিদা নিম্নমুখী, দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা; নতুন সভাপতির হাতেই বদলে যাবে দেশের ক্রিকেট। তবে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন কতখানি হবে, সেই উত্তর মিলবে সময় গড়ালেই।