ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ Logo বাবার জানাজায় থাকবেন না মোজতবা খামেনি, নেপথ্যে যে কারণ Logo ৯৬ বছরের ইতিহাসে যা হয়নি, সে অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়লেন রোনালদো Logo গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ Logo ইইউ-মার্কোসুর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের Logo তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার Logo কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া Logo ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত বাংলাদেশ Logo জুলাই মাসেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের মূল্য

ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ কি বদলে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি?

প্রতিনিধির নাম :

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  টেসলা সিইও ইলন মাস্ক এবার যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যেই এমন ভাবনা সামনে আনেন তিনি। এক্স-এ করা এক জরিপে মাস্ক প্রশ্ন করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কি এখন এমন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সময় এসেছে, যা মাঝামাঝি অবস্থানের ৮০% মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে?’ সেখানে প্রায় ৮০% অংশগ্রহণকারী ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন।

এরপর মাস্ক লেখেন, ‘মানুষ কথা বলেছে। নতুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন, যা ৮০% মানুষের কণ্ঠস্বর হবে। আর ঠিক ৮০% মানুষ একমত—এটাই বাস্তব।’

টাইম ম্যাগাজিন‘র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্কের প্রস্তাবিত দলের নাম দেন ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’। এই নামটি তার গঠিত ‘আমেরিকা পিএসি’র সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই সুপার পিএসি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দিতে গঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। ওই সময় ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় দাতা ছিলেন মাস্ক।

তবে সম্প্রতি ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নিয়ে মাস্কের বিরোধিতা উত্তেজনা বাড়ায়। মাস্ক বিলটিকে ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করার আহ্বান জানান।

এরপর মাস্ক এক পোস্টে দাবি করেন, ট্রাম্পের নাম জেফরি এপস্টেইনের গোপন ফাইলগুলোতে আছে। যদিও তিনি কোনো প্রমাণ দেননি এবং পোস্টটি পরে মুছে ফেলেন। একইভাবে আরেকটি পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘ট্রাম্পকে ইমপিচ করা উচিত’ এবং তার পরিবর্তে ভ্যান্সকে আনার কথা বলেন।

ট্রাম্পও চুপ থাকেননি। তিনি ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন, মাস্ক এখন বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। এমনকি তিনি মাস্ককে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

এদিকে এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাস্ক যদি ডেমোক্র্যাটদের তহবিল দেন, তবে তার পরিণতি হবে খারাপ। তবে ঠিক কী ধরনের পরিণতির কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

তবে অনেক রাজনীতিক মনে করছেন, এই দ্বন্দ্ব সাময়িক। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জিমি প্যাট্রোনিস বলেন, মাস্ক নতুন কোনো দল গঠন করবেন না। এক মাস পর ট্রাম্প ও মাস্ক আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে।

এই দ্বন্দ্ব ও নতুন দল গঠনের ভাবনা এখনো আমেরিকার রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মাস্কের ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’ সত্যিই গড়ে ওঠে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
৬ বার পঠিত হয়েছে

ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ কি বদলে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি?

আপডেট এর সময় : ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  টেসলা সিইও ইলন মাস্ক এবার যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যেই এমন ভাবনা সামনে আনেন তিনি। এক্স-এ করা এক জরিপে মাস্ক প্রশ্ন করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কি এখন এমন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সময় এসেছে, যা মাঝামাঝি অবস্থানের ৮০% মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে?’ সেখানে প্রায় ৮০% অংশগ্রহণকারী ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন।

এরপর মাস্ক লেখেন, ‘মানুষ কথা বলেছে। নতুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন, যা ৮০% মানুষের কণ্ঠস্বর হবে। আর ঠিক ৮০% মানুষ একমত—এটাই বাস্তব।’

টাইম ম্যাগাজিন‘র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্কের প্রস্তাবিত দলের নাম দেন ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’। এই নামটি তার গঠিত ‘আমেরিকা পিএসি’র সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই সুপার পিএসি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দিতে গঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। ওই সময় ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় দাতা ছিলেন মাস্ক।

তবে সম্প্রতি ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নিয়ে মাস্কের বিরোধিতা উত্তেজনা বাড়ায়। মাস্ক বিলটিকে ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করার আহ্বান জানান।

এরপর মাস্ক এক পোস্টে দাবি করেন, ট্রাম্পের নাম জেফরি এপস্টেইনের গোপন ফাইলগুলোতে আছে। যদিও তিনি কোনো প্রমাণ দেননি এবং পোস্টটি পরে মুছে ফেলেন। একইভাবে আরেকটি পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘ট্রাম্পকে ইমপিচ করা উচিত’ এবং তার পরিবর্তে ভ্যান্সকে আনার কথা বলেন।

ট্রাম্পও চুপ থাকেননি। তিনি ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন, মাস্ক এখন বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। এমনকি তিনি মাস্ককে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

এদিকে এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাস্ক যদি ডেমোক্র্যাটদের তহবিল দেন, তবে তার পরিণতি হবে খারাপ। তবে ঠিক কী ধরনের পরিণতির কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

তবে অনেক রাজনীতিক মনে করছেন, এই দ্বন্দ্ব সাময়িক। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জিমি প্যাট্রোনিস বলেন, মাস্ক নতুন কোনো দল গঠন করবেন না। এক মাস পর ট্রাম্প ও মাস্ক আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে।

এই দ্বন্দ্ব ও নতুন দল গঠনের ভাবনা এখনো আমেরিকার রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মাস্কের ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’ সত্যিই গড়ে ওঠে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।