ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

খালাস পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক আ. লীগ নেতা মোবারক

প্রতিনিধির নাম :

আখাউড়া প্রতিনিধি: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন (দুম্বা হাজী) কে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছে। খালাসের বিষয়টি যমুনা নিউজকে নিশ্চিত করেন তার ছেলে মো. হাবিব উল্ল্যাহ।

বুধবার (৩০ জুলাই) মোবারক হোসেনকে খালাস চেয়ে করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতি বেঞ্চ।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী মামলায় ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা মোবারক হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। তিনি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের নয়াদিল গ্রামের বাসিন্দা।

আনীত অভিযোগের মধ্যে অন্যতম, মুক্তিযুদ্ধের সময় মোবারক হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের মন্দির দখল ও মূর্তি ভাংচুর করে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

এর আগে, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটের পাঁচটি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ মে সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনেন। ৫টি অভিযোগের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশুরঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ান গ্রামের আব্দুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের দু’জনকে অপহরণ করে একজনকে হত্যা এবং খরমপুর গ্রামের একজনকে আটক রেখে নির্যাতন। এসব অপরাধ ১৯৭১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

২০১৩ সালের ২০ মে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশনের মোট ১২ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছে। এরা হলেন- মামলার মুক্তিযোদ্ধা দারুল ইসলাম, শহীদ আব্দুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম ও ছেলে রফিকুল ইসলাম, মো. খাদেম হোসেন খান, আলী আকবর, মো. আব্দুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা ননী গোপাল মল্লিক, আব্দুস সামাদ, শহীদজায়া ভানু বিবি, আব্দুল হামিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট চমন সিকান্দার জুলকারনাইন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামল চৌধুরী।

একাত্তর পরবর্তী সময়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করলেও পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। পরে দুই বছর মেয়াদে থাকাবস্তায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগ।

একাত্তরে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০০৯ সালের ৩মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোবারকের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। তখন হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন তিনি। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর তার মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে একটিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্যটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল।

তবে আপিল বিভাগের রায়ে সব অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ায় এখন তিনি মুক্ত।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
১৩ বার পঠিত হয়েছে

খালাস পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক আ. লীগ নেতা মোবারক

আপডেট এর সময় : ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

আখাউড়া প্রতিনিধি: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন (দুম্বা হাজী) কে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছে। খালাসের বিষয়টি যমুনা নিউজকে নিশ্চিত করেন তার ছেলে মো. হাবিব উল্ল্যাহ।

বুধবার (৩০ জুলাই) মোবারক হোসেনকে খালাস চেয়ে করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতি বেঞ্চ।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী মামলায় ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা মোবারক হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। তিনি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের নয়াদিল গ্রামের বাসিন্দা।

আনীত অভিযোগের মধ্যে অন্যতম, মুক্তিযুদ্ধের সময় মোবারক হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের মন্দির দখল ও মূর্তি ভাংচুর করে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

এর আগে, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটের পাঁচটি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ মে সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনেন। ৫টি অভিযোগের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশুরঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ান গ্রামের আব্দুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের দু’জনকে অপহরণ করে একজনকে হত্যা এবং খরমপুর গ্রামের একজনকে আটক রেখে নির্যাতন। এসব অপরাধ ১৯৭১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

২০১৩ সালের ২০ মে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশনের মোট ১২ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছে। এরা হলেন- মামলার মুক্তিযোদ্ধা দারুল ইসলাম, শহীদ আব্দুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম ও ছেলে রফিকুল ইসলাম, মো. খাদেম হোসেন খান, আলী আকবর, মো. আব্দুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা ননী গোপাল মল্লিক, আব্দুস সামাদ, শহীদজায়া ভানু বিবি, আব্দুল হামিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট চমন সিকান্দার জুলকারনাইন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামল চৌধুরী।

একাত্তর পরবর্তী সময়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করলেও পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। পরে দুই বছর মেয়াদে থাকাবস্তায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগ।

একাত্তরে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০০৯ সালের ৩মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোবারকের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। তখন হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন তিনি। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর তার মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে একটিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্যটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল।

তবে আপিল বিভাগের রায়ে সব অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ায় এখন তিনি মুক্ত।