ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানগণের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে

প্রতিনিধির নাম :

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের ব্যবহার আবারও বাড়ছে। অভিভাবকদের জন্য তৈরি নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান কুস্টোডিও-এর প্রকাশিত তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্বের অন্যতম কঠোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-নিয়ন্ত্রণ আইন হিসেবে অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। পরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এরপর ধীরে ধীরে সেই ব্যবহার আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো কোনো অ্যাপের ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগের সময়ের মাত্রার কাছাকাছিও পৌঁছে গেছে।

কুস্টোডিওর তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ বছর এবং ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারের হার বাড়ছে।

বিশেষ করে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ এখনও অ্যাপটি ব্যবহার করছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে যে হার ছিল, তার চেয়ে এটি মাত্র এক শতাংশের কিছু বেশি কম।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকটক ব্যবহারের হার নিষেধাজ্ঞার আগের মাত্রার চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ পয়েন্ট কম।

কুস্টোডিওর গ্লোবাল অনলাইন সেফটি বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন লন্ডন বলেন, শিশুরা হয়তো ভিপিএন ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকছে, অথবা বয়সের তথ্য গোপন করছে।

তবে তার মতে, বিষয়টি আরও সহজও হতে পারে—নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে কাজ করছে না বলেই শিশুরা আবার এসব অ্যাপ ব্যবহার করছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকা হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহারও শিশুদের মধ্যে বাড়ছে বলে কুস্টোডিওর তথ্য থেকে জানা গেছে।

কুস্টোডিও জানিয়েছে, তারা অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নাম-পরিচয়বিহীন মাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। কোনো শিশু একটি নির্দিষ্ট অ্যাপে এক মাসে অন্তত একবার টানা পাঁচ মিনিটের বেশি সময় কাটালে তাকে ওই অ্যাপের ব্যবহারকারী হিসেবে হিসাব করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুদের অনলাইন হয়রানি (সাইবার বুলিং) এবং শিশুদের লক্ষ্য করে কাজ করা ‘প্রিডেটরি অ্যালগরিদম’ থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।

তবে জুনে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনাকৃত অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একদল গবেষকের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে গেছে—এমন প্রমাণ খুবই কম।

এদিকে, নিউজিল্যান্ড সরকারও চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। ওই আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো নিয়ম না মানলে মেটার মতো বড় প্রতিষ্ঠানকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ৫০ মিনিট আগে
১ বার পঠিত হয়েছে

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে

আপডেট এর সময় : ৫০ মিনিট আগে

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের ব্যবহার আবারও বাড়ছে। অভিভাবকদের জন্য তৈরি নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান কুস্টোডিও-এর প্রকাশিত তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্বের অন্যতম কঠোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-নিয়ন্ত্রণ আইন হিসেবে অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। পরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এরপর ধীরে ধীরে সেই ব্যবহার আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো কোনো অ্যাপের ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগের সময়ের মাত্রার কাছাকাছিও পৌঁছে গেছে।

কুস্টোডিওর তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ বছর এবং ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারের হার বাড়ছে।

বিশেষ করে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ এখনও অ্যাপটি ব্যবহার করছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে যে হার ছিল, তার চেয়ে এটি মাত্র এক শতাংশের কিছু বেশি কম।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকটক ব্যবহারের হার নিষেধাজ্ঞার আগের মাত্রার চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ পয়েন্ট কম।

কুস্টোডিওর গ্লোবাল অনলাইন সেফটি বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন লন্ডন বলেন, শিশুরা হয়তো ভিপিএন ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকছে, অথবা বয়সের তথ্য গোপন করছে।

তবে তার মতে, বিষয়টি আরও সহজও হতে পারে—নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে কাজ করছে না বলেই শিশুরা আবার এসব অ্যাপ ব্যবহার করছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকা হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহারও শিশুদের মধ্যে বাড়ছে বলে কুস্টোডিওর তথ্য থেকে জানা গেছে।

কুস্টোডিও জানিয়েছে, তারা অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নাম-পরিচয়বিহীন মাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। কোনো শিশু একটি নির্দিষ্ট অ্যাপে এক মাসে অন্তত একবার টানা পাঁচ মিনিটের বেশি সময় কাটালে তাকে ওই অ্যাপের ব্যবহারকারী হিসেবে হিসাব করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুদের অনলাইন হয়রানি (সাইবার বুলিং) এবং শিশুদের লক্ষ্য করে কাজ করা ‘প্রিডেটরি অ্যালগরিদম’ থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।

তবে জুনে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনাকৃত অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একদল গবেষকের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে গেছে—এমন প্রমাণ খুবই কম।

এদিকে, নিউজিল্যান্ড সরকারও চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। ওই আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো নিয়ম না মানলে মেটার মতো বড় প্রতিষ্ঠানকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।