ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:

শেখ হাসিনা জনগণের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন: রিজভী

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর দাবি, এ কারণে মানুষের মনে জমে ওঠা ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনে বিস্ফোরিত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র **‘৩৬ জুলাই’**–এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন ছিল সব ধরনের দ্রোহের সমষ্টিগত বহিঃপ্রকাশ, যা তিনি একটি “মহাকাব্যিক ঘটনা” বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, আন্দোলনে নিহত, আহত ও অংশগ্রহণকারী সবাই ইতিহাসে বিশেষ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একটি দলের প্রতিষ্ঠাতার বই লেখার পুরস্কারস্বরূপ একজনকে সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তার পদ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে শিল্প–সংস্কৃতির খ্যাতনামা তারকাদের রানওয়ের পাশে ফ্ল্যাট উপহার দেওয়া হয়েছিল। এর বিনিময়ে তারা ১৫ আগস্ট শোক প্রকাশ করে ‘ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান’ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

শিল্পী ও সাহিত্যিকদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর মতে, বস্তুগত প্রাপ্তির লোভে কিছু কবি, সাহিত্যিক ও অভিনয়শিল্পী অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছেন। রিজভী বলেন, “তারা প্রকৃত শোক প্রকাশ না করে, বরং ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করেছেন।”

আলোচনার এক পর্যায়ে রিজভী জনগণকে আবারও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
১১ বার পঠিত হয়েছে

শেখ হাসিনা জনগণের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন: রিজভী

আপডেট এর সময় : ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর দাবি, এ কারণে মানুষের মনে জমে ওঠা ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনে বিস্ফোরিত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র **‘৩৬ জুলাই’**–এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন ছিল সব ধরনের দ্রোহের সমষ্টিগত বহিঃপ্রকাশ, যা তিনি একটি “মহাকাব্যিক ঘটনা” বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, আন্দোলনে নিহত, আহত ও অংশগ্রহণকারী সবাই ইতিহাসে বিশেষ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একটি দলের প্রতিষ্ঠাতার বই লেখার পুরস্কারস্বরূপ একজনকে সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তার পদ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে শিল্প–সংস্কৃতির খ্যাতনামা তারকাদের রানওয়ের পাশে ফ্ল্যাট উপহার দেওয়া হয়েছিল। এর বিনিময়ে তারা ১৫ আগস্ট শোক প্রকাশ করে ‘ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান’ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

শিল্পী ও সাহিত্যিকদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর মতে, বস্তুগত প্রাপ্তির লোভে কিছু কবি, সাহিত্যিক ও অভিনয়শিল্পী অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছেন। রিজভী বলেন, “তারা প্রকৃত শোক প্রকাশ না করে, বরং ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করেছেন।”

আলোচনার এক পর্যায়ে রিজভী জনগণকে আবারও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।