ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

প্রতিনিধির নাম :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে হামাস। সংগঠনটির দাবি, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে অনুমোদিত এলাকায় গুলি চালিয়েছে, যার ফলে ৪৬ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন।”

হামাসের দাবি, নিহতদের অর্ধেকই শিশু, নারী ও প্রবীণ। নিহতদের মধ্যে আবু শাবান পরিবারও রয়েছে, যাদের সাত শিশু ও দুই নারীসহ পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিবৃতিতে হামাস আরও জানায়, এসব ইসরাইলি লঙ্ঘন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘বিপর্যস্ত ও ব্যাহত করার প্রচেষ্টা এবং আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা।’

সংগঠনটি অভিযোগ করে, ইসরাইল এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় মাংস, হাঁস-মুরগি, পশুপালনজাত দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্মাণ সামগ্রী ও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

এছাড়া ইসরাইল নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দিদের মুক্তি দিতেও দেরি করছে এবং এখনো পর্যন্ত বন্দিদের পূর্ণ তালিকা কিংবা ইসরাইলি হেফাজতে থাকা শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহের তালিকা হামাসকে দেয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

হামাস জানায়, সম্প্রতি ইসরাইল ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু মরদেহে হাতকড়া পরানো, গলায় চিহ্ন বা সামরিক যানচাপার স্পষ্ট দাগ ছিল।

তবু হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতাদের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন ইসরাইলকে ‘চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে মেনে চলতে বাধ্য করা হয় এবং এমন লঙ্ঘন বন্ধ করা হয় যা চুক্তিকে বিপন্ন করছে।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথাও রয়েছে।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮,২০০ জন নিহত এবং ১,৭০,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
৭ বার পঠিত হয়েছে

যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

আপডেট এর সময় : ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে হামাস। সংগঠনটির দাবি, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে অনুমোদিত এলাকায় গুলি চালিয়েছে, যার ফলে ৪৬ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন।”

হামাসের দাবি, নিহতদের অর্ধেকই শিশু, নারী ও প্রবীণ। নিহতদের মধ্যে আবু শাবান পরিবারও রয়েছে, যাদের সাত শিশু ও দুই নারীসহ পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিবৃতিতে হামাস আরও জানায়, এসব ইসরাইলি লঙ্ঘন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘বিপর্যস্ত ও ব্যাহত করার প্রচেষ্টা এবং আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা।’

সংগঠনটি অভিযোগ করে, ইসরাইল এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় মাংস, হাঁস-মুরগি, পশুপালনজাত দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্মাণ সামগ্রী ও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

এছাড়া ইসরাইল নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দিদের মুক্তি দিতেও দেরি করছে এবং এখনো পর্যন্ত বন্দিদের পূর্ণ তালিকা কিংবা ইসরাইলি হেফাজতে থাকা শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহের তালিকা হামাসকে দেয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

হামাস জানায়, সম্প্রতি ইসরাইল ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু মরদেহে হাতকড়া পরানো, গলায় চিহ্ন বা সামরিক যানচাপার স্পষ্ট দাগ ছিল।

তবু হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতাদের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন ইসরাইলকে ‘চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে মেনে চলতে বাধ্য করা হয় এবং এমন লঙ্ঘন বন্ধ করা হয় যা চুক্তিকে বিপন্ন করছে।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথাও রয়েছে।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮,২০০ জন নিহত এবং ১,৭০,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।