ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

৯ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণের কারণ জানালেন উপদেষ্টা আসিফ

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:     মিলিশিয়া বা রক্ষীবাহিনী তৈরি করার উদ্দেশ্যে নয় বরং প্রায় ৯ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণপ্রতিরক্ষায়। এ প্রকল্পটি নিয়ে তৈরি হওয়া নানা আলোচনা-সমালোচনার জবাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, এমনকি প্রকল্পটিকে নিয়ে একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসাবেই সরকারের সম্মতিতে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে আগ্রহীদের নির্বাচনও করা হচ্ছে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।

জানা গেছে, সারাদেশের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো এবং শুটিং প্রশিক্ষণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার ৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। ১০০টি স্লটে ভাগ করে আগামী ২ বছর দেওয়া হবে এই আবাসিক প্রশিক্ষণ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা।তবে আত্মরক্ষামূলক মৌলিক প্রশিক্ষণ বলা হলেও, এ প্রকল্প নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, নানা জল্পনা-কল্পনা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, একটা প্রকল্পের সবকিছুই পাবলিক ডকুমেন্টস। তবুও খুবই দুঃখজনক যে অনেকেই এটার সমালোচনা করছে। তারা চাইলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিতে পারতেন। কিন্তু খোঁজখবর না নিয়ে এমন সমালোচনার পেছনে অবশ্যই অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। আর প্রশিক্ষণটা হবে এয়ারগান দিয়ে, কিন্তু অনেকে বলছে একে৪৭-এর কথা, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমনকি এ প্রশিক্ষণটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করছি।

তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তরুণদের প্রশিক্ষিত করার জন্য এটি একটি পাইলট প্রকল্প। কখনো সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলে যেন তারা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।

উপদেষ্টা বলেন, বড় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি আগ্রাসী মনোভাব থাকে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর স্পষ্টভাবে একটি বড় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে আছি। সে কারণেই আমি মনে করি, আমাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি রাখা উচিত। এজন্য অবশ্যই আমাদের গণপ্রতিরক্ষা ছাড়া আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার চুড়ান্ত উপায় হলো গণপ্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা। এখানে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেটা সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে অনেক দূরে।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই একে ১৯৭২ সালে শেখ মুজিব গঠিত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করছেন। যেটি পরে দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল! তবে উপদেষ্টা বলছেন, এটা গণপ্রতিরক্ষা সেরকম কোনো প্রকল্প নয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এটা কোনো বাহিনী নয়, প্রশিক্ষণের পর তাদের কাউকে অস্ত্র দেওয়াও হবে না। কোথাও রিক্রুটও করা হবে না। প্রশিক্ষণ শেষে তারা তাদের নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবেন। তাদের ডাটা থাকবে, যদি কখনো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেনো তাদের ডাক দেওয়া যায়।এদিকে, যারা এই প্রশিক্ষণকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তারা ভারতপন্থি বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, যারা বিভিন্নভাবে এই প্রশিক্ষণ নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন, বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তারা কারা? সুস্পষ্টভাবে তাদের ভারতপন্থি বলেই আমরা জানি।

তিনি আরও বলেন, আমার দেশের পলিসি ভারতীয়দের কথার ভিত্তিতে নেওয়া হবে না। মূল সমস্যা হচ্ছে- গণপ্রতিরক্ষা আইডিয়ার সঙ্গে। কারণ এই আইডিয়াটা অনেকের স্বার্থে আঘাত করবে। কারণ, দেশের যখন তরুণদের বড় অংশের প্রশিক্ষণ থাকলে, আমাদের ওপর আগ্রাসন চালানোর সুযোগ থাকবে না। যেটি অনেকের জন্য হুমকিস্বরূপ।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
১৪ বার পঠিত হয়েছে

৯ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণের কারণ জানালেন উপদেষ্টা আসিফ

আপডেট এর সময় : ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:     মিলিশিয়া বা রক্ষীবাহিনী তৈরি করার উদ্দেশ্যে নয় বরং প্রায় ৯ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণপ্রতিরক্ষায়। এ প্রকল্পটি নিয়ে তৈরি হওয়া নানা আলোচনা-সমালোচনার জবাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, এমনকি প্রকল্পটিকে নিয়ে একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসাবেই সরকারের সম্মতিতে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে আগ্রহীদের নির্বাচনও করা হচ্ছে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।

জানা গেছে, সারাদেশের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো এবং শুটিং প্রশিক্ষণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার ৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। ১০০টি স্লটে ভাগ করে আগামী ২ বছর দেওয়া হবে এই আবাসিক প্রশিক্ষণ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা।তবে আত্মরক্ষামূলক মৌলিক প্রশিক্ষণ বলা হলেও, এ প্রকল্প নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, নানা জল্পনা-কল্পনা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, একটা প্রকল্পের সবকিছুই পাবলিক ডকুমেন্টস। তবুও খুবই দুঃখজনক যে অনেকেই এটার সমালোচনা করছে। তারা চাইলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিতে পারতেন। কিন্তু খোঁজখবর না নিয়ে এমন সমালোচনার পেছনে অবশ্যই অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। আর প্রশিক্ষণটা হবে এয়ারগান দিয়ে, কিন্তু অনেকে বলছে একে৪৭-এর কথা, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমনকি এ প্রশিক্ষণটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করছি।

তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তরুণদের প্রশিক্ষিত করার জন্য এটি একটি পাইলট প্রকল্প। কখনো সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলে যেন তারা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।

উপদেষ্টা বলেন, বড় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি আগ্রাসী মনোভাব থাকে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর স্পষ্টভাবে একটি বড় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে আছি। সে কারণেই আমি মনে করি, আমাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি রাখা উচিত। এজন্য অবশ্যই আমাদের গণপ্রতিরক্ষা ছাড়া আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার চুড়ান্ত উপায় হলো গণপ্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা। এখানে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেটা সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে অনেক দূরে।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই একে ১৯৭২ সালে শেখ মুজিব গঠিত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করছেন। যেটি পরে দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল! তবে উপদেষ্টা বলছেন, এটা গণপ্রতিরক্ষা সেরকম কোনো প্রকল্প নয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এটা কোনো বাহিনী নয়, প্রশিক্ষণের পর তাদের কাউকে অস্ত্র দেওয়াও হবে না। কোথাও রিক্রুটও করা হবে না। প্রশিক্ষণ শেষে তারা তাদের নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবেন। তাদের ডাটা থাকবে, যদি কখনো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেনো তাদের ডাক দেওয়া যায়।এদিকে, যারা এই প্রশিক্ষণকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তারা ভারতপন্থি বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, যারা বিভিন্নভাবে এই প্রশিক্ষণ নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন, বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তারা কারা? সুস্পষ্টভাবে তাদের ভারতপন্থি বলেই আমরা জানি।

তিনি আরও বলেন, আমার দেশের পলিসি ভারতীয়দের কথার ভিত্তিতে নেওয়া হবে না। মূল সমস্যা হচ্ছে- গণপ্রতিরক্ষা আইডিয়ার সঙ্গে। কারণ এই আইডিয়াটা অনেকের স্বার্থে আঘাত করবে। কারণ, দেশের যখন তরুণদের বড় অংশের প্রশিক্ষণ থাকলে, আমাদের ওপর আগ্রাসন চালানোর সুযোগ থাকবে না। যেটি অনেকের জন্য হুমকিস্বরূপ।