ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীরে যেসব প্রভাব দেখা যায়

প্রতিনিধির নাম :

 অনলাইন ডেস্ক:     ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু ধূমপান বন্ধ করার পর শরীর যে কত দ্রুত সুস্থ হতে শুরু করে তা অনেকেরই অজানা। প্রতিটি সিগারেট ধীরে ধীরে ফুসফুসকে নষ্ট করে ফেলে। তবে আশার বিষয় হলো—ধূমপান বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই শরীর নিজেকে মেরামত করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুসফুসের কার্যকারিতা ও রক্তসঞ্চালন উন্নত হয়।

ডা. সুধ জানান, ধূমপান শুধু ফুসফুস নয় বরং পুরো শ্বাসতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে। এটি ফুসফুসকে শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়, যার ফলে ফুসফুসের প্রসারণ এবং স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। এর পরিণতিতে দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, মিউকাস জমা, ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা এবং ফুসফুসের ক্যানসার। ধূমপান ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

তিনি জানান, ধূমপান বন্ধ করার ২ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তসঞ্চালন ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা স্পষ্টভাবে উন্নত হয়। এক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে এবং ১০ বছরের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।

ডা. সুধের মতে, সম্পূর্ণভাবে ধূমপান বন্ধ করা স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি পরামর্শ দেন নিয়মিত কার্ডিও ব্যায়াম, শ্বাস–প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার। পাশাপাশি তিনি অন্ত্র ও ফুসফুসের পারস্পরিক সম্পর্কের (গাট–লাং অ্যাক্সিস) গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন, কারণ সুস্থ অন্ত্র প্রদাহ কমিয়ে ফুসফুসের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সবশেষে বলা যায়, ধূমপান শরীরের প্রায় সব অঙ্গেই ক্ষতি করে—বিশেষ করে ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডে। কিন্তু ধূমপান ছাড়ার পর শরীর অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। তাই এখনই ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন, প্রয়োজনে সহায়তা নিন। আপনার ফুসফুস, হৃদয় ও ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুস্থ হয়ে উঠবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
১২ বার পঠিত হয়েছে

ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীরে যেসব প্রভাব দেখা যায়

আপডেট এর সময় : ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

 অনলাইন ডেস্ক:     ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু ধূমপান বন্ধ করার পর শরীর যে কত দ্রুত সুস্থ হতে শুরু করে তা অনেকেরই অজানা। প্রতিটি সিগারেট ধীরে ধীরে ফুসফুসকে নষ্ট করে ফেলে। তবে আশার বিষয় হলো—ধূমপান বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই শরীর নিজেকে মেরামত করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুসফুসের কার্যকারিতা ও রক্তসঞ্চালন উন্নত হয়।

ডা. সুধ জানান, ধূমপান শুধু ফুসফুস নয় বরং পুরো শ্বাসতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে। এটি ফুসফুসকে শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়, যার ফলে ফুসফুসের প্রসারণ এবং স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। এর পরিণতিতে দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, মিউকাস জমা, ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা এবং ফুসফুসের ক্যানসার। ধূমপান ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

তিনি জানান, ধূমপান বন্ধ করার ২ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তসঞ্চালন ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা স্পষ্টভাবে উন্নত হয়। এক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে এবং ১০ বছরের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।

ডা. সুধের মতে, সম্পূর্ণভাবে ধূমপান বন্ধ করা স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি পরামর্শ দেন নিয়মিত কার্ডিও ব্যায়াম, শ্বাস–প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার। পাশাপাশি তিনি অন্ত্র ও ফুসফুসের পারস্পরিক সম্পর্কের (গাট–লাং অ্যাক্সিস) গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন, কারণ সুস্থ অন্ত্র প্রদাহ কমিয়ে ফুসফুসের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সবশেষে বলা যায়, ধূমপান শরীরের প্রায় সব অঙ্গেই ক্ষতি করে—বিশেষ করে ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডে। কিন্তু ধূমপান ছাড়ার পর শরীর অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। তাই এখনই ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন, প্রয়োজনে সহায়তা নিন। আপনার ফুসফুস, হৃদয় ও ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুস্থ হয়ে উঠবে।