ঢাকা , রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ Logo ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড় Logo পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর Logo কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর Logo নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার: সফিকুর রহমান কিরণ এমপি Logo কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প Logo ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ Logo জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরল সংবিধানে, কার্যকর হবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আবারও সংবিধানে ফিরল আপিল বিভাগের রায়ে। বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছে, সামনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, আর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, এস এম ইমদাদুল হক, এ কে এম আসাদুজ্জামান ও ফারাহ মাহবুব এই বেঞ্চের অন্য সদস্য ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষ ছিল আইনজীবী ও সাংবাদিকে পূর্ণ।

রায়ের পটভূমিতে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের আইনি লড়াই রয়েছে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত করে, যার অধীনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আপিল বিভাগ সংশোধনীটি বাতিল ঘোষণা করলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটে এবং একই বছরের ৩০ জুন সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী।

সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ধারা বাদ পড়ার পরই নানা রাজনৈতিক বিতর্ক, বর্জন আর সংকট দেখা দেয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলগুলোর দাবি আরও জোরালো হয়। সরকার পরিবর্তনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন করেন।

আদালত গত ২১ অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিনের শুনানি শেষে ২০ নভেম্বর রায় দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের আপিল বিভাগের রায়টি স্পষ্ট ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং তা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হলো। এর ফলে সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছদ ২ (ক)-এ থাকা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পুনরুজ্জীবিত হলো।

রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হলো। তার ভাষায়, “এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরত এসেছে, মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে।”

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আদালতে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায় সমাজে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। মৃত ব্যক্তির ভোট দেওয়া, অনিয়ম, প্রশাসনিক অস্থিরতা—সব তৈরি হয়েছিল সে সিদ্ধান্তের ফলে।

বিচারাধীন থাকা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার গুরুত্ব। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করে। এরপর সেনানিয়ন্ত্রিত ২০০৭–২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০০৬ সালের সংকটও রাজনৈতিক দলগুলোকে বারবার টেনে আনে এই ব্যবস্থার আলোচনায়।

নতুন রায় অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ দৃশ্যপটে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
৫ বার পঠিত হয়েছে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরল সংবিধানে, কার্যকর হবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে

আপডেট এর সময় : ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আবারও সংবিধানে ফিরল আপিল বিভাগের রায়ে। বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছে, সামনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, আর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, এস এম ইমদাদুল হক, এ কে এম আসাদুজ্জামান ও ফারাহ মাহবুব এই বেঞ্চের অন্য সদস্য ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষ ছিল আইনজীবী ও সাংবাদিকে পূর্ণ।

রায়ের পটভূমিতে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের আইনি লড়াই রয়েছে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত করে, যার অধীনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আপিল বিভাগ সংশোধনীটি বাতিল ঘোষণা করলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটে এবং একই বছরের ৩০ জুন সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী।

সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ধারা বাদ পড়ার পরই নানা রাজনৈতিক বিতর্ক, বর্জন আর সংকট দেখা দেয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলগুলোর দাবি আরও জোরালো হয়। সরকার পরিবর্তনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন করেন।

আদালত গত ২১ অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিনের শুনানি শেষে ২০ নভেম্বর রায় দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের আপিল বিভাগের রায়টি স্পষ্ট ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং তা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হলো। এর ফলে সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছদ ২ (ক)-এ থাকা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পুনরুজ্জীবিত হলো।

রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হলো। তার ভাষায়, “এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরত এসেছে, মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে।”

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আদালতে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায় সমাজে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। মৃত ব্যক্তির ভোট দেওয়া, অনিয়ম, প্রশাসনিক অস্থিরতা—সব তৈরি হয়েছিল সে সিদ্ধান্তের ফলে।

বিচারাধীন থাকা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার গুরুত্ব। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করে। এরপর সেনানিয়ন্ত্রিত ২০০৭–২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০০৬ সালের সংকটও রাজনৈতিক দলগুলোকে বারবার টেনে আনে এই ব্যবস্থার আলোচনায়।

নতুন রায় অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ দৃশ্যপটে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।