ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় আস্থা দেখছেন আমীর খসরু

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়কে দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, এই রায় কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বাস্তব সাফল্যের প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব, যা গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফের এসেছে, তাই এর কাঠামো এবং বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়বে। তার বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস, এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে বহু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং এবারও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হবে।

এই রায়কে বিএনপির আন্দোলনের ফসল হিসেবে বর্ণনা করে আমীর খসরু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকায় দেশের মানুষকে বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন নতুন করে নিজেদের দর্শন ও লক্ষ্য ব্যাখ্যা করছে, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তিনি বারবার তুলে ধরেন। তার ভাষায়, অনির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ কতটা পিছিয়েছে, তা এখন জনসমক্ষে পরিষ্কার। জনগণের রায় নিয়ে প্রশাসন পরিচালনার মধ্যে যে স্বচ্ছতা থাকে, তা জোর করে ক্ষমতায় থাকা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিন সকালেই প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করার যে রায় ছিল, সেটির পুনর্বিবেচনা থেকে উঠে আসা আপিল শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দেন। বিচারপতিরা স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর চতুর্দশ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

রায় ঘোষণার পর বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল স্বস্তির। তাঁদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে এই সিদ্ধান্ত একটি ভিত্তি স্থাপন করবে। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত করার যে দাবিতে আন্দোলন চলছিল, এই রায় সেই দাবির ন্যায়সঙ্গত স্বীকৃতি।

সমগ্র ঘটনার প্রেক্ষাপটও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে। এর পর রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মহলের উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালের রায় আবারও নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের বৈধতা ফিরিয়ে দিল। বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশে রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করবে।

আলোচনা এখন ঘুরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো কী হবে, কোন মডেল অনুসরণ করা হবে, সে প্রশ্নে। তবে রায়ের পর বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে যে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে, তা দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
১১ বার পঠিত হয়েছে

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় আস্থা দেখছেন আমীর খসরু

আপডেট এর সময় : ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়কে দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, এই রায় কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বাস্তব সাফল্যের প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব, যা গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফের এসেছে, তাই এর কাঠামো এবং বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়বে। তার বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস, এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে বহু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং এবারও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হবে।

এই রায়কে বিএনপির আন্দোলনের ফসল হিসেবে বর্ণনা করে আমীর খসরু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকায় দেশের মানুষকে বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন নতুন করে নিজেদের দর্শন ও লক্ষ্য ব্যাখ্যা করছে, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তিনি বারবার তুলে ধরেন। তার ভাষায়, অনির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ কতটা পিছিয়েছে, তা এখন জনসমক্ষে পরিষ্কার। জনগণের রায় নিয়ে প্রশাসন পরিচালনার মধ্যে যে স্বচ্ছতা থাকে, তা জোর করে ক্ষমতায় থাকা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিন সকালেই প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করার যে রায় ছিল, সেটির পুনর্বিবেচনা থেকে উঠে আসা আপিল শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দেন। বিচারপতিরা স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর চতুর্দশ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

রায় ঘোষণার পর বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল স্বস্তির। তাঁদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে এই সিদ্ধান্ত একটি ভিত্তি স্থাপন করবে। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত করার যে দাবিতে আন্দোলন চলছিল, এই রায় সেই দাবির ন্যায়সঙ্গত স্বীকৃতি।

সমগ্র ঘটনার প্রেক্ষাপটও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে। এর পর রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মহলের উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালের রায় আবারও নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের বৈধতা ফিরিয়ে দিল। বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশে রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করবে।

আলোচনা এখন ঘুরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো কী হবে, কোন মডেল অনুসরণ করা হবে, সে প্রশ্নে। তবে রায়ের পর বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে যে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে, তা দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।