ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ Logo ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড় Logo পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর Logo কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর Logo নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার: সফিকুর রহমান কিরণ এমপি Logo কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প Logo ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ Logo জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

মানিক মিয়ায় জনসমুদ্র, শহীদ হাদির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শেষ বিদায়কে ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় নেমেছে মানুষের ঢল। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত এই নেতার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায়। জানাজার নামাজ পড়াবেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে গোসল করানো হয়। সেখান থেকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে জানাজার উদ্দেশে মরদেহ নেওয়া হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। জানাজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মানুষের উপস্থিতিও তত বাড়ছে। খামারবাড়ি থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনতার জন্য দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। ভিড় সামাল দিতে চীন থেকে আনা আটটি আর্চওয়ে গেট বসানো হয়। পুরো এলাকায় নেয়া হয় কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক পড়াবেন। জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই দাফন করা হবে।”

জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের আবেগ ছুঁয়ে যাচ্ছে আশপাশের পরিবেশকেও। ধানমন্ডি থেকে আসা এনামুর রহমান বলেন, তিনি জীবনে এত মানুষের জমায়েত দেখেননি। আবার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, “হাদির মতো মানুষ হাজার বছরে একবার জন্ম নেয়। এমন একজন মানুষের জন্য কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা সৌভাগ্যের।”

এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ভোর থেকেই তাকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
১৩ বার পঠিত হয়েছে

মানিক মিয়ায় জনসমুদ্র, শহীদ হাদির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি

আপডেট এর সময় : ০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শেষ বিদায়কে ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় নেমেছে মানুষের ঢল। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত এই নেতার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায়। জানাজার নামাজ পড়াবেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে গোসল করানো হয়। সেখান থেকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে জানাজার উদ্দেশে মরদেহ নেওয়া হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। জানাজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মানুষের উপস্থিতিও তত বাড়ছে। খামারবাড়ি থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনতার জন্য দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। ভিড় সামাল দিতে চীন থেকে আনা আটটি আর্চওয়ে গেট বসানো হয়। পুরো এলাকায় নেয়া হয় কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক পড়াবেন। জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই দাফন করা হবে।”

জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের আবেগ ছুঁয়ে যাচ্ছে আশপাশের পরিবেশকেও। ধানমন্ডি থেকে আসা এনামুর রহমান বলেন, তিনি জীবনে এত মানুষের জমায়েত দেখেননি। আবার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, “হাদির মতো মানুষ হাজার বছরে একবার জন্ম নেয়। এমন একজন মানুষের জন্য কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা সৌভাগ্যের।”

এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ভোর থেকেই তাকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।