ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে উৎসাহ দেবে পাকিস্তান Logo কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার Logo সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর : মাহদী আমিন Logo নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের জোরালো সমর্থন চেয়েছেন উপদেষ্টা তিতুমীর Logo বেনজির, হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের দ্রুত সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী Logo ভীষণ হতাশ : বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর আক্ষেপ এমবাপ্পের Logo স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ Logo ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি Logo দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার

বন্ড বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও শক্তিশালী আইন প্রয়োগের আহ্বান গভর্নরের

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:     বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর আজ বাংলাদেশের কর্পোরেট বন্ড বাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি বলেন, নিয়মের দুর্বল প্রয়োগ বন্ড বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।

রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বন্ড বাজার উন্নয়ন : চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, উন্নত দেশগুলোতে কোনো করর্পোরেট ইস্যুকারী একটি কুপন পরিশোধে ব্যর্থ হলেও সেটিকে গুরুতর খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘কিন্তু আমাদের দেশে কোনো কোম্পানি বন্ডের কুপন পরিশোধ না করলেও কার্যত কোনো পরিণতি হয় না। কেউই এর পরোয়া করে বলে মনে হয় না।’

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমেই বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

মনসুর বলেন, বন্ড বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকঋণের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কোনো কোম্পানি বা গ্রুপ যদি একক ঋণগ্রহীতার সীমা অতিক্রম করে ব্যাংকঋণ নিতে চায়, তাহলে আমরা তাদের বন্ড বা শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দিতে পারি।’

গভর্নর কর্পোরেট ইস্যুকারীদের আকৃষ্ট করতে কয়েকটি ‘পুল ফ্যাক্টর’-এর কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে কর প্রণোদনা, বন্ড ইস্যুর সময়সীমা কমানো এবং ইস্যু ব্যয় হ্রাস।

তিনি আরও বলেন,  ‘বন্ড বাজার উন্নয়নে সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।’

ড. মনসুর বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি এবং এর অধীনে একাধিক উপ-কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। প্রধান কমিটি উপ-কমিটিগুলোর কাজ তদারকি ও দিকনির্দেশনা দিবে, যাতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।

বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের তুলনায় ব্যাংকঋণ পাওয়া এখনো সহজ। তিনি বলেন, ঋণের মেয়াদ ও অর্থায়নের উৎসের মধ্যে অসামঞ্জস্যতার কারণেই মূলত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কনসেপ্ট নোটে কোম্পানি ও সরকার-উভয়কেই পুঁজিবাজারমুখী হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামত পাওয়ার পর বন্ড বাজারসংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে।’

অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, দ্বৈত করের সমস্যা সমাধান হলেও বন্ডের সেকেন্ডারি লেনদেনে মালিকানা বারবার পরিবর্তনের কারণে নতুন কর-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই করসংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রতিটি ধাপে হাতে-কলমে সমাধান করা সম্ভব নয়, এটি সম্ভবত একটি সফটওয়্যার সংক্রান্ত বিষয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিএসইসির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি আরও জানান, সরকার স্থানীয় মুদ্রাভিত্তিক বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কাজ করছে এবং সঞ্চয়পত্রের সেকেন্ডারি লেনদেন চালুর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জনসভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৬ আসনে দলটির প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান হাফিজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
৯ বার পঠিত হয়েছে

বন্ড বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও শক্তিশালী আইন প্রয়োগের আহ্বান গভর্নরের

আপডেট এর সময় : ০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:     বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর আজ বাংলাদেশের কর্পোরেট বন্ড বাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি বলেন, নিয়মের দুর্বল প্রয়োগ বন্ড বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।

রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বন্ড বাজার উন্নয়ন : চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, উন্নত দেশগুলোতে কোনো করর্পোরেট ইস্যুকারী একটি কুপন পরিশোধে ব্যর্থ হলেও সেটিকে গুরুতর খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘কিন্তু আমাদের দেশে কোনো কোম্পানি বন্ডের কুপন পরিশোধ না করলেও কার্যত কোনো পরিণতি হয় না। কেউই এর পরোয়া করে বলে মনে হয় না।’

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমেই বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

মনসুর বলেন, বন্ড বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকঋণের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কোনো কোম্পানি বা গ্রুপ যদি একক ঋণগ্রহীতার সীমা অতিক্রম করে ব্যাংকঋণ নিতে চায়, তাহলে আমরা তাদের বন্ড বা শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দিতে পারি।’

গভর্নর কর্পোরেট ইস্যুকারীদের আকৃষ্ট করতে কয়েকটি ‘পুল ফ্যাক্টর’-এর কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে কর প্রণোদনা, বন্ড ইস্যুর সময়সীমা কমানো এবং ইস্যু ব্যয় হ্রাস।

তিনি আরও বলেন,  ‘বন্ড বাজার উন্নয়নে সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।’

ড. মনসুর বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি এবং এর অধীনে একাধিক উপ-কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। প্রধান কমিটি উপ-কমিটিগুলোর কাজ তদারকি ও দিকনির্দেশনা দিবে, যাতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।

বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের তুলনায় ব্যাংকঋণ পাওয়া এখনো সহজ। তিনি বলেন, ঋণের মেয়াদ ও অর্থায়নের উৎসের মধ্যে অসামঞ্জস্যতার কারণেই মূলত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কনসেপ্ট নোটে কোম্পানি ও সরকার-উভয়কেই পুঁজিবাজারমুখী হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামত পাওয়ার পর বন্ড বাজারসংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে।’

অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, দ্বৈত করের সমস্যা সমাধান হলেও বন্ডের সেকেন্ডারি লেনদেনে মালিকানা বারবার পরিবর্তনের কারণে নতুন কর-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই করসংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রতিটি ধাপে হাতে-কলমে সমাধান করা সম্ভব নয়, এটি সম্ভবত একটি সফটওয়্যার সংক্রান্ত বিষয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিএসইসির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি আরও জানান, সরকার স্থানীয় মুদ্রাভিত্তিক বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কাজ করছে এবং সঞ্চয়পত্রের সেকেন্ডারি লেনদেন চালুর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জনসভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৬ আসনে দলটির প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান হাফিজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।