ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে : ইরান

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:   ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, মার্কিন হামলার আতঙ্ক ও উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াশিংটনকে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে ইরানের উপকূলে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-সহ একটি নৌ-বহর মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানও সতর্ক করেছে যে, হামলা হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্রদেশ, বিশেষ করে ইসরাইলের ওপর মিসাইল হামলা চালিয়ে জবাব দেবে।

তবে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, সামরিক সংঘাতের চেয়ে ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে আসতেই বেশি আগ্রহী হবে।

তেহরানও বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যদি আলোচনার সূচিতে না থাকে, তবে তারা পারমাণবিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠকের একদিন পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি বলেন, ‘মিডিয়ায় যুদ্ধের প্রচারণা সত্ত্বেও আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’

এদিকে, ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনী সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘শত্রুরা কোনো ভুল করলে তা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জায়নবাদী শাসনের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইরানের বন্দরনগরী আব্বাসে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস একে গ্যাস লিকেজ বললেও নাশকতার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) তাদের কোনো স্থাপনায় হামলার খবর নাকচ করেছে। একইসঙ্গে তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের নৌ-কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিকে হত্যার গুজবও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চালাবে আইআরজিসি।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম আইআরজিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর আশপাশে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়।

এর সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্স-এ লিখেন, ‘আমাদের উপকূলে এসে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন হুকুম দিচ্ছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে মহড়া চালাবে।’

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

এর আগে গত জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের মূল পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে, যাকে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানি বলে দাবি করেছে।

সরকারি তথ্যমতে এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন। তবে মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানায়, তারা ৬ হাজার ৫৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ১৭০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১২৪ জন শিশু রয়েছে।

শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাস্উদ পেজেশকিয়ান সরকারকে জনগণের কথা শোনার ও জনসেবা করার আহ্বান জানান।

তুরস্ক সীমান্তে থাকা অনেক ইরানি বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসন থেকে মুক্তি চান। শবনম ছদ্মনাম ব্যবহার করে এক নারী বলেন, ‘আমরাও মুক্তি চাই, তুরস্কের মতো পর্যটক দেখতে চাই। সবাই আমাদের সন্ত্রাসী ভাবে। মোল্লাদের শাসনে আমরা একশ বছর পিছিয়ে গেছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ওরা আমাদের পিঠে গুলি করেছে, এমনকি জানালা দিয়ে লক্ষ্য করেও আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। সবাই প্রিয়জন ও বন্ধুদের হারিয়েছে।’

রোজালিন নামে ২৯ বছর বয়সী এক নারী বলেন, আমেরিকার চাপ যথেষ্ট নয়। আমেরিকা সাধারণ মানুষের জন্য নয় বরং নিজেদের স্বার্থে তেলের জন্য আসবে।

শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির মাজারে যান। সেখানে তিনি প্রার্থনা করেন। এ সময় ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০ দিনের উৎসব শুরু হয়।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৩ বার পঠিত হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে : ইরান

আপডেট এর সময় : ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:   ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, মার্কিন হামলার আতঙ্ক ও উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াশিংটনকে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে ইরানের উপকূলে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-সহ একটি নৌ-বহর মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানও সতর্ক করেছে যে, হামলা হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্রদেশ, বিশেষ করে ইসরাইলের ওপর মিসাইল হামলা চালিয়ে জবাব দেবে।

তবে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, সামরিক সংঘাতের চেয়ে ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে আসতেই বেশি আগ্রহী হবে।

তেহরানও বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যদি আলোচনার সূচিতে না থাকে, তবে তারা পারমাণবিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠকের একদিন পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি বলেন, ‘মিডিয়ায় যুদ্ধের প্রচারণা সত্ত্বেও আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’

এদিকে, ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনী সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘শত্রুরা কোনো ভুল করলে তা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জায়নবাদী শাসনের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইরানের বন্দরনগরী আব্বাসে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস একে গ্যাস লিকেজ বললেও নাশকতার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) তাদের কোনো স্থাপনায় হামলার খবর নাকচ করেছে। একইসঙ্গে তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের নৌ-কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিকে হত্যার গুজবও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চালাবে আইআরজিসি।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম আইআরজিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর আশপাশে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়।

এর সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্স-এ লিখেন, ‘আমাদের উপকূলে এসে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন হুকুম দিচ্ছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে মহড়া চালাবে।’

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

এর আগে গত জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের মূল পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে, যাকে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানি বলে দাবি করেছে।

সরকারি তথ্যমতে এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন। তবে মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানায়, তারা ৬ হাজার ৫৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ১৭০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১২৪ জন শিশু রয়েছে।

শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাস্উদ পেজেশকিয়ান সরকারকে জনগণের কথা শোনার ও জনসেবা করার আহ্বান জানান।

তুরস্ক সীমান্তে থাকা অনেক ইরানি বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসন থেকে মুক্তি চান। শবনম ছদ্মনাম ব্যবহার করে এক নারী বলেন, ‘আমরাও মুক্তি চাই, তুরস্কের মতো পর্যটক দেখতে চাই। সবাই আমাদের সন্ত্রাসী ভাবে। মোল্লাদের শাসনে আমরা একশ বছর পিছিয়ে গেছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ওরা আমাদের পিঠে গুলি করেছে, এমনকি জানালা দিয়ে লক্ষ্য করেও আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। সবাই প্রিয়জন ও বন্ধুদের হারিয়েছে।’

রোজালিন নামে ২৯ বছর বয়সী এক নারী বলেন, আমেরিকার চাপ যথেষ্ট নয়। আমেরিকা সাধারণ মানুষের জন্য নয় বরং নিজেদের স্বার্থে তেলের জন্য আসবে।

শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির মাজারে যান। সেখানে তিনি প্রার্থনা করেন। এ সময় ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০ দিনের উৎসব শুরু হয়।