1. rajubdnews@gmail.com : 24jibonnews : admin
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর ফলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে সৃষ্টি হয় শূন্যতা এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে শুরু হয় তীব্র জল্পনা-কল্পনা।

সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা বা সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বা ‘বিপ্লবী গার্ড’-এর সরাসরি চাপে দেশটির নীতি-নির্ধারণী পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবাকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, নিহত সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে দেশটির পবিত্র নগরী মাশহাদ-এ সমাহিত করা হবে। তিনি ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরের সন্তান ছিলেন। সেখানকার ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজার-এ তার বাবার কবরের পাশেই তাকে শায়িত করার কথা রয়েছে।


কে এই মোজতবা খামেনি?

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী কিন্তু আড়ালে থাকা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা বেড়ে ওঠেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি-র রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সময়ে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবারের অবস্থান পাল্টে গেলে তিনি তেহরানে চলে আসেন এবং এলিট আলাভি হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তেহরান ও কুমে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। রক্ষণশীল আলেম মোহাম্মদ-তাকি মেসবাহ ইয়াজদি-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির অধীনে পড়াশোনা করেন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইউএএনআই জানায়।

মোজতবা একজন মধ্যম-স্তরের আলেম, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ নন। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম লিডারের দপ্তরে আড়ালের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। বিশ্লেষকেরা তার ভূমিকাকে আহমদ খোমেনি-র সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি তার বাবা রুহুল্লাহ খোমেনি-র শাসনামলে প্রধান আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করেছিলেন।


প্রভাব ও বিতর্ক

মোজতবার প্রভাবের পেছনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি হাবিব ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে গোয়েন্দা ও বাসিজ কমান্ডারসহ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদেশি সরকারগুলো তাকে নির্বাচন রাজনীতি ও নিরাপত্তা দমনপীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় মার্কিন ট্রেজারি জানায়, আলী খামেনি তার কিছু ক্ষমতা ছেলের কাছে ন্যস্ত করেছিলেন এবং নির্বাচিত পদে না থাকলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করতেন।


সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম লিডার হতে হলে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম এবং স্বীকৃত ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক সক্ষমতার অধিকারী হতে হয়। মোজতবা বর্তমানে আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা ধারণ করেন না। তাছাড়া, বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাবা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর একটি সংবেদনশীল বিষয়।

সংবিধান অনুযায়ী ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসই পরবর্তী সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে থাকে। প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের ব্যবস্থারও অনুমতি রয়েছে, যাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী কর্তৃত্ব অব্যাহত থাকে।

তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, আইআরজিসি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে শক্ত অবস্থান তার প্রার্থিতা জোরদার করতে পারে—বিশেষ করে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো তার পক্ষে একত্রিত হলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার ধর্মীয় মর্যাদা বাড়াতে অনানুষ্ঠানিক প্রচারণার কথাও শোনা গেছে, যদিও আলেম সমাজের একটি অংশ এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড
Theme Customized BY LatestNews