1. rajubdnews@gmail.com : 24jibonnews : admink
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
সুদানের যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে লাশ সামলানোর লড়াই এশিয়ান বীচ গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক গ্রহণ রাজবাড়ীতে মে দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভা ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ: বৈশ্বিক-বাণিজ্যে আপডেট থাকতে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ সমন্বিত উদ্যোগে কমছে যানজট; ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্বস্তি লিগ্যাল এইড সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় সরকার : আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার : মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তথ্যমন্ত্রী বাবার স্মৃতি বিজড়িত শার্শার উলসী খাল পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী মেহেরপুরে পরিবেশ সচেতনতায় ফিরছে পাখির কোলাহল রাঙামাটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্যহাতির মৃত্যু

সমন্বিত উদ্যোগে কমছে যানজট; ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্বস্তি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে রাজধানীতে ঢুকতেই দীর্ঘ যানজট, ধীরগতির চলাচল ও অনিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একসময় নাকাল ছিল সাধারণ যাত্রী থেকে পণ্যবাহী যানচালক, সবাই। সংকীর্ণ সড়ক, অব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে রাজধানীর ডিএমপি ট্রাফিক-ওয়ারী জোনে চরম ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের চিত্র। তবে, অন্যতম ব্যস্ত এই করিডরের সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই পাল্টেছে। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ফলে এই রুটে চলাচলকারী হাজারো যাত্রী ও চালকের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।

শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কই নয়, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ হয়ে সংযুক্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা পেরিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পথে আগের তুলনায় কমেছে যানজট। অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী থেকে পোস্তগোলা হয়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতেও গতি এসেছে। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় যাতায়াতে সময় কমেছে, স্বস্তি বেড়েছে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ-সংযুক্ত সড়কগুলোতেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ছাপ দেখা যাচ্ছে। বিকল্প রুট হিসেবে এসব সড়কের ব্যবহার বাড়ায় মূল মহাসড়কের ওপর চাপও কিছুটা কমেছে। সামগ্রিকভাবে, ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি পাচ্ছে নগরবাসী।

সিলেট থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রী শাকিল হোসেন বাসস’কে জানান, আগে ভোরে রওনা দিলেও সন্ধ্যার আগে ঢাকা শহরে ঢুকতেই পারতাম না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে। বাচ্চা ও বয়স্ক ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়ত। এখন সেই কষ্ট নেই।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, সায়েদাবাদ ও লালবাগকেন্দ্রিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ধোলাইপাড় এলাকায় যাতে অবৈধভাবে কেউ রাস্তায় বসতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গুলিস্তান অঞ্চল এখন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ডাইভারশনসহ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে আরও কাজ বাকি রয়েছে। সে কারণে ব্যক্তিগতভাবে আমি সন্তুষ্ট নই। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আরও মনোযোগী হয়ে কাজ করতে হবে বলেও জোর দেন তিনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জানান, ফুটপাতে জীবিকার তাগিদে থাকা মানুষদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের মূল সড়কে নামতে না দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পারমিটবিহীন বাস বন্ধ এবং নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানো নিশ্চিত করা গেলে যানজট আরও কমবে।

আনিছুর রহমান বলেন, ‘রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখতে হবে এবং সেগুলো কেবল যান চলাচলের জন্যই ব্যবহৃত হবে। এটি নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।’

তিনি আরও জানান, যানজট কমার পেছনে জ্বালানি সংকট বড় কারণ নয়; বরং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাই মূল ভূমিকা রাখছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের আওতাধীন যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী, সায়েদাবাদ ও ডেমরা এলাকায়- বিশেষ করে সায়েদাবাদ কেন্দ্রিক সড়কগুলোতে (সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-ধোলাইপাড়-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অংশ) দীর্ঘদিন তীব্র যানজট ছিল। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলত। আগে হানিফ ফ্লাইওভারের কুতুবখালী অংশে দুই লেনের গাড়ি একটি স্থানে এসে এক লেনে প্রবেশ করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হত।

অন্যদিকে, ধোলাইপাড় মোড়ের বড় আকারের গোলচত্বরও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করত। বিভিন্ন সড়কে একাধিক ট্রাফিক সিগন্যাল, যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত দখল, রাস্তার মাঝখানে বাস থামানো, অবৈধ টার্মিনাল ও হকারদের দখল সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল ছিল। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ভোগান্তি অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

এসব সমস্যার সমাধানে ক্ষমতা গ্রহণের পর বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। এরই অংশ হিসেবে হানিফ ফ্লাইওভারের কুতুবখালী অংশে সড়ক প্রশস্ত করে দুই লেন চালু করা হয়। ফলে ঢাকাগামী যান চলাচল অনেকটাই নির্বিঘ্ন হয়েছে। ধোলাইপাড় মোড়ে গোলচত্বরের ব্যাসার্ধ ২৭ মিটার থেকে কমিয়ে ১৪ মিটারে আনা হয়েছে; এতে যান চলাচলের সক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিগন্যাল অপসারণ, পথ পুনর্বিন্যাস, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সড়ক উন্মুক্ত হয়েছে। বাস স্টপেজ ছাড়া কোথাও গাড়ি দাঁড়াতে না দেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ডাম্পিং ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়েতে এসব যান চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কাগজপত্রবিহীন যানবাহন ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে।

ডিএমপি আরও জানায়, যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ কেন্দ্রিক প্রায় ৩৫০টি অবৈধ টিকিট কাউন্টার রয়েছে। এসব কাউন্টারে যানবাহন থামানোর কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হত। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের উদ্যোগে এসব অবৈধ টিকিট কাউন্টার সিলগালা করা হয়। যদিও পরবর্তীতে বাস মালিক পক্ষ সরে যাওয়ার জন্য তিন মাস সময় চায়। ডিএমপি জানিয়েছে, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে এসব অবৈধ টিকিট কাউন্টার অপসারণ করা গেলে সংশ্লিষ্ট সড়ক আরও যানজটমুক্ত হবে।

মিলন নামে এক বাসচালক জানান, ১৫-১৬ বছর ধরে এই মহাসড়কে গাড়ি চালাই। উন্নয়ন হয়েছে, তবে অটোরিকশা ও সিএনজি এখনও ঝামেলা করে। বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। এখন এই পথে যেতে প্রায় ৫ ঘণ্টা লাগে; এগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অন্তত এক ঘণ্টা সময় কম লাগত। তবে আগের তুলনায় যানজট কমেছে।

লিটন নামে আরেক চালক জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট অনেক কমেছে। তবে বিশ্বরোড, ভৈরব, ইটাখোলা ও আশুগঞ্জ এলাকায় পেট্রোল পাম্পে লাইনের কারণে সাময়িক জট তৈরি হচ্ছে।

ট্রাফিক ওয়ারী জোনের ডিসি মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, হকারদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা গেলে সড়ক ফাঁকা থাকবে এবং যানজট আরও কমে আসবে। যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ কেন্দ্রিক প্রায় ৩৫০টি অবৈধ টিকিট কাউন্টারে এখনও কার্যক্রম চলছে। এগুলো অপসারণ করা গেলে ওই এলাকায় যানজট অনেকটাই কমে যাবে এবং যান চলাচলের গতি আরও বাড়বে।

তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন ভিআইপি সড়কে ইতোমধ্যে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ওয়ারী জোনেও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড
Theme Customized BY LatestNews