ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আলোচনার মধ্যেই ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিনিধির নাম :

যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনে নিয়োজিত নৌযান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে নাজুক যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

এ হামলার সময়ই যুদ্ধ বন্ধে সর্বশেষ দফার আলোচনায় অংশ নিতে শীর্ষ ইরানি আলোচকরা কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন। একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।

মার্কিন হামলার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তিও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ইরানের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের সুরক্ষায় দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।’

তবে হামলার বিস্তারিত জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনে নিয়োজিত নৌযানও ছিল।

হামলার পরও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সমঝোতার পথ এখনও খোলা আছে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

ভারত সফরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা হয়েছে। অগ্রগতি সম্ভব কি না, তা দেখা হবে। প্রাথমিক নথির ভাষা নিয়ে এখনও অনেক আলোচনা চলছে। তাই আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।’

হামলার প্রভাব নিয়ে মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী যেকোনোভাবেই উন্মুক্ত রাখা উচিত।

সেখানে যা হচ্ছে, তা বেআইনি, অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বের জন্য টেকসই নয়।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতের দিকে বন্দর আব্বাসের আশপাশে কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই বন্দর নগরীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধ অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে নতুন হামলায় যুদ্ধবিরতি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেলেও তা ১শ’ ডলারের নিচেই ছিল। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম পাঁচ শতাংশের বেশি কমে যায়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে।

এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী  বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এতে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

কারণ ইরান আগেই জানিয়েছে, লেবাননের সংঘাত বন্ধ যেকোনো শান্তিচুক্তির আওতায় থাকতে হবে।

-পারমাণবিক জ্বালানি ধ্বংসের দাবি—

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা ধ্বংস করা যায়। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানেই তা ধ্বংস করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি ‘অবিলম্বে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা ধ্বংস করা যায়। অন্যথায় আন্তর্জাতিক তদারকিতে ইরানেই তা ধ্বংস করতে হবে।’

তবে এটি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ কি না, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তিনি যে ‘অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের’ কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি ১৯৭৪ সালে বিলুপ্ত হয়।

এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, বাহরাইন ও জর্ডানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা চুক্তিতে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবেই তিনি এ প্রস্তাব দেন।

২০২০ সালে ইসরাইলের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকা কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছিল। ইতোমধ্যে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো ও সুদান এ চুক্তিতে সই করেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের বহু অঞ্চলে এখনও আব্রাহাম চুক্তিটি তেমনভাবে জনসমর্থন পায়নি। বিশেষ করে, এতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানের বিষয়টি না থাকায় সমালোচনা রয়েছে।

সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না।

-তাৎক্ষণিক চুক্তির সম্ভাবনা নেই-

ওয়াশিংটনের আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের আনা জ্যাকবস বলেন, ট্রাম্পের এই কঠোর দাবি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা উপসাগরীয় দেশগুলোর কম।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেপরোয়া সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে।

এরপরও তিনি আশা করছেন আরব দেশগুলো তাকে ধন্যবাদ দেবে এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা তা করবে না।

ইরানে হামলার আগে রুবিও ইঙ্গিত দেন, সোমবারের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘বেশিরভাগ বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।’ তবে এর অর্থ এই নয় যে ‘খুব শিগগিরই’ চুক্তি হচ্ছে।

এদিকে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার পর লেবাননে ইসরাইলি অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে ‘পারমাণবিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হবে।’ ওয়াশিংটনও একই অবস্থান নিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দীর্ঘদিনের মার্কিন দাবি থাকলেও, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রাথমিক সমঝোতার পরের ধাপে করা হবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে
১৯ বার পঠিত হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আলোচনার মধ্যেই ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে

যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনে নিয়োজিত নৌযান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে নাজুক যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

এ হামলার সময়ই যুদ্ধ বন্ধে সর্বশেষ দফার আলোচনায় অংশ নিতে শীর্ষ ইরানি আলোচকরা কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন। একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।

মার্কিন হামলার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তিও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ইরানের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের সুরক্ষায় দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।’

তবে হামলার বিস্তারিত জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনে নিয়োজিত নৌযানও ছিল।

হামলার পরও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সমঝোতার পথ এখনও খোলা আছে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

ভারত সফরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা হয়েছে। অগ্রগতি সম্ভব কি না, তা দেখা হবে। প্রাথমিক নথির ভাষা নিয়ে এখনও অনেক আলোচনা চলছে। তাই আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।’

হামলার প্রভাব নিয়ে মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী যেকোনোভাবেই উন্মুক্ত রাখা উচিত।

সেখানে যা হচ্ছে, তা বেআইনি, অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বের জন্য টেকসই নয়।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতের দিকে বন্দর আব্বাসের আশপাশে কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই বন্দর নগরীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধ অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে নতুন হামলায় যুদ্ধবিরতি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেলেও তা ১শ’ ডলারের নিচেই ছিল। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম পাঁচ শতাংশের বেশি কমে যায়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে।

এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী  বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এতে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

কারণ ইরান আগেই জানিয়েছে, লেবাননের সংঘাত বন্ধ যেকোনো শান্তিচুক্তির আওতায় থাকতে হবে।

-পারমাণবিক জ্বালানি ধ্বংসের দাবি—

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা ধ্বংস করা যায়। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানেই তা ধ্বংস করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি ‘অবিলম্বে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা ধ্বংস করা যায়। অন্যথায় আন্তর্জাতিক তদারকিতে ইরানেই তা ধ্বংস করতে হবে।’

তবে এটি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ কি না, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তিনি যে ‘অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের’ কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি ১৯৭৪ সালে বিলুপ্ত হয়।

এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, বাহরাইন ও জর্ডানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা চুক্তিতে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবেই তিনি এ প্রস্তাব দেন।

২০২০ সালে ইসরাইলের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকা কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছিল। ইতোমধ্যে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো ও সুদান এ চুক্তিতে সই করেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের বহু অঞ্চলে এখনও আব্রাহাম চুক্তিটি তেমনভাবে জনসমর্থন পায়নি। বিশেষ করে, এতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানের বিষয়টি না থাকায় সমালোচনা রয়েছে।

সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না।

-তাৎক্ষণিক চুক্তির সম্ভাবনা নেই-

ওয়াশিংটনের আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের আনা জ্যাকবস বলেন, ট্রাম্পের এই কঠোর দাবি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা উপসাগরীয় দেশগুলোর কম।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেপরোয়া সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে।

এরপরও তিনি আশা করছেন আরব দেশগুলো তাকে ধন্যবাদ দেবে এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা তা করবে না।

ইরানে হামলার আগে রুবিও ইঙ্গিত দেন, সোমবারের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘বেশিরভাগ বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।’ তবে এর অর্থ এই নয় যে ‘খুব শিগগিরই’ চুক্তি হচ্ছে।

এদিকে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার পর লেবাননে ইসরাইলি অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে ‘পারমাণবিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হবে।’ ওয়াশিংটনও একই অবস্থান নিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দীর্ঘদিনের মার্কিন দাবি থাকলেও, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রাথমিক সমঝোতার পরের ধাপে করা হবে।