ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই যুগে আমরা যেমন আশীর্বাদপুষ্ট, তেমনি সাইবার ঝুঁকিও (ডিজিটাল হ্যাজার্ড) আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় বিপদ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ‘ভুয়া খবর’ (ফেক নিউজ) এখন বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য অন্যতম প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।’

এই সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অনলাইন নিরাপত্তা (ই-সেফটি) নিশ্চিত করতে দেশের আইসিটি বিশেষজ্ঞদের দ্রুত একটি কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

আজ রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে ভুয়া খবর মোকাবিলা: নীতি, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম (এনআইসিটিএফ)।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যার ভয়াবহতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এখন সমাধানের সময় (টাইম ফর সলিউশন)। দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনারা দ্রুত একটি ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’র খসড়া তৈরি করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। সরকার মেধা ও প্রযুক্তিভিত্তিক সঠিক নীতিমালা প্রণয়নে আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক নেতৃবৃন্দ মানুষের কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেমের জটিলতাগুলো নিখুঁতভাবে বুঝতে বিশেষজ্ঞদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এই মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকার যে কোনো সময়ের চেয়ে বিশেষজ্ঞদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বেশি সম্পৃক্ত করছে।

বিশ্বব্যাপী মেটা (ফেসবুক), গুগল বা এক্স (টুইটার)-এর মতো টেক জায়ান্টদের জবাবদিহিতা ও রেগুলেশনের আওতায় আনার প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘মূলধারার গণমাধ্যমগুলো অনেক শ্রম দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে, অথচ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো তা বিনা পয়সায় ব্যবহার করে আয় করছে। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন আইন করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের রয়্যালটি দিতে বাধ্য করছে।’

বাংলাদেশেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও এ্যাব-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্য বক্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো প্রোপাগান্ডা ও ভুয়া খবর চিহ্নিত করার আধুনিক প্রযুক্তিগত টুলস ব্যবহারের ওপর জোর দেন। একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লিটারেসি বা তথ্য সচেতনতা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

গোলটেবিল আলোচনায় সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
৩৭ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

আপডেট এর সময় : ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই যুগে আমরা যেমন আশীর্বাদপুষ্ট, তেমনি সাইবার ঝুঁকিও (ডিজিটাল হ্যাজার্ড) আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় বিপদ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ‘ভুয়া খবর’ (ফেক নিউজ) এখন বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য অন্যতম প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।’

এই সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অনলাইন নিরাপত্তা (ই-সেফটি) নিশ্চিত করতে দেশের আইসিটি বিশেষজ্ঞদের দ্রুত একটি কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

আজ রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে ভুয়া খবর মোকাবিলা: নীতি, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম (এনআইসিটিএফ)।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যার ভয়াবহতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এখন সমাধানের সময় (টাইম ফর সলিউশন)। দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনারা দ্রুত একটি ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’র খসড়া তৈরি করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। সরকার মেধা ও প্রযুক্তিভিত্তিক সঠিক নীতিমালা প্রণয়নে আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক নেতৃবৃন্দ মানুষের কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেমের জটিলতাগুলো নিখুঁতভাবে বুঝতে বিশেষজ্ঞদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এই মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকার যে কোনো সময়ের চেয়ে বিশেষজ্ঞদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বেশি সম্পৃক্ত করছে।

বিশ্বব্যাপী মেটা (ফেসবুক), গুগল বা এক্স (টুইটার)-এর মতো টেক জায়ান্টদের জবাবদিহিতা ও রেগুলেশনের আওতায় আনার প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘মূলধারার গণমাধ্যমগুলো অনেক শ্রম দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে, অথচ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো তা বিনা পয়সায় ব্যবহার করে আয় করছে। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন আইন করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের রয়্যালটি দিতে বাধ্য করছে।’

বাংলাদেশেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও এ্যাব-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্য বক্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো প্রোপাগান্ডা ও ভুয়া খবর চিহ্নিত করার আধুনিক প্রযুক্তিগত টুলস ব্যবহারের ওপর জোর দেন। একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লিটারেসি বা তথ্য সচেতনতা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

গোলটেবিল আলোচনায় সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।