ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কয়েকটি খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এগিয়ে নিতে নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর Logo পানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের Logo জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলা করবে : মির্জা ফখরুল Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ Logo বিশ্বে প্রথমবার এইচআইভি পজিটিভ দাতার ফুসফুস সফলভাবে প্রতিস্থাপন Logo পটুয়াখালীতে ভূমিকম্প-অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত Logo অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের Logo ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়লেন ভ্যান্স

অর্থনীতি ডেস্ক

কয়েকটি খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম :

দেশের রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের গ-ি থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এজন্য শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের মূল ধারণা সময়োপযোগী হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের অন্যতম বড় দুর্বলতা। ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা রাখতে হবে।

মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশীয় শিল্প দ্রুত বৈশ্বিক মানদ-ে পৌঁছাতে পারে।

জুট খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট-ভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে আমরা প্রস্তুত। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি। বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ৪ ঘন্টা আগে
১১ বার পঠিত হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক

কয়েকটি খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ৪ ঘন্টা আগে

দেশের রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের গ-ি থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এজন্য শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের মূল ধারণা সময়োপযোগী হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের অন্যতম বড় দুর্বলতা। ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা রাখতে হবে।

মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশীয় শিল্প দ্রুত বৈশ্বিক মানদ-ে পৌঁছাতে পারে।

জুট খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট-ভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে আমরা প্রস্তুত। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি। বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।