অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ইরাক ও মার্কিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ঘোষণা সই হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চুক্তি জ্বালানি, বিশেষ করে তেল খাত সংশ্লিষ্ট। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরাক কয়েক দশকের যুদ্ধ ও অস্থিরতা কাটিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তবে দেশটি এখনও দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতির মতো সমস্যায় ভুগছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরাক। ফলে, দেশটির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা চুক্তি এবং অংশীদারিত্বের ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
এসবের মধ্যে ইরাকের তেল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল এবং হ্যালিবার্টন-এর সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি বড় অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণসংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তিও হয়েছে।
এ ছাড়া স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবায় শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্টারলিংকের’ সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইরাক। এর মাধ্যমে দেশটিতে স্টারলিংকের সেবা চালু করা হবে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদিকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলে অভিহিত করেন।
ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা আলি আল-জাইদি চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হন। ট্রাম্প অন্য এক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি এই পদে আসীন হন।
ক্ষমতায় এসে জাইদি ইরাকের নাজুক অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী ইরানের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করে আসছে ইরাক।




















