ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ Logo হরমুজ প্রণালীতে হামলায় আগুন লাগা জাহাজ থেকে সরেছে নাবিকরা Logo আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী Logo গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা Logo নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার Logo সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশপ্রেম ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল Logo বরিশালে মাদকসহ যুবক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

প্রতিনিধির নাম :

 গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ওই তিন শিশুর বাবা-মাও রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে, এতে গাজায় সহিংসতা থামেনি। যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রচেষ্টাও স্থবির হয়ে আছে।

গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

হামাস পরিচালিত উদ্ধার সংস্থা গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। তারা হলেন তিন শিশু ও তাদের বাবা-মা।

সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য একটি শিশু। হামলার সময় সে বাড়ির ভেতরে ছিল না।’

গাজার আল-শিফা হাসপাতাল পাঁচটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, শনিবার গাজা সিটিতে হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, হামলার ফলাফল এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

গাজার বাসিন্দা মুসা আল-আইমাউই বলেন, হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

তিনি এএফপিকে বলেন, হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে। কেউ কিছু জানত না। এ সময় কোনো সতর্কবার্তা ছিল না।

তিনি আরও বলেন,  ‘তারা কোনো পরোয়া না করেই হামলা চালিয়েছে। সেখানে বেসামরিক মানুষ, শিশু, নারী ও মেয়েরা ছিল।’

একই ভবনের বাসিন্দা মোহাম্মদ কালি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
তিনি বলেন, মাটিতে মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। নারী ও শিশু বয়স্কও নিহত হয়।

ঘটনাস্থলের এএফপির ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির সামনের বড় অংশ ধসে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

এ সময় উপস্থিত লোকজন ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের টুকরা ও বাঁকানো লোহার মধ্যে উদ্ধারযোগ্য জিনিসপত্র খুঁজছিলেন।

সিভিল ডিফেন্স জানায়, গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

আল-শিফা হাসপাতাল তিনটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কয়েক ঘণ্টা পর বাসসাল জানান, জেইতুন এলাকার পূর্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল একটি তাঁবুতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে এক নারী নিহত হয়েছেন।

গাজার আল-আহলি হাসপাতাল জানায়, নিহত ওই নারীর মরদেহের পাশাপাশি কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তার মেয়েও রয়েছে।

বাসসাল বলেন, হামলার ওই এলাকায় আরও কয়েকজন আহত এবং তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজার অন্য এলাকাগুলোতে ইসরাইলি হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।

এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের হতাহতের আগে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, একই সময়ে গাজায় পাঁচজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
৬ বার পঠিত হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

আপডেট এর সময় : ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

 গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ওই তিন শিশুর বাবা-মাও রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে, এতে গাজায় সহিংসতা থামেনি। যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রচেষ্টাও স্থবির হয়ে আছে।

গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

হামাস পরিচালিত উদ্ধার সংস্থা গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। তারা হলেন তিন শিশু ও তাদের বাবা-মা।

সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য একটি শিশু। হামলার সময় সে বাড়ির ভেতরে ছিল না।’

গাজার আল-শিফা হাসপাতাল পাঁচটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, শনিবার গাজা সিটিতে হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, হামলার ফলাফল এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

গাজার বাসিন্দা মুসা আল-আইমাউই বলেন, হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

তিনি এএফপিকে বলেন, হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে। কেউ কিছু জানত না। এ সময় কোনো সতর্কবার্তা ছিল না।

তিনি আরও বলেন,  ‘তারা কোনো পরোয়া না করেই হামলা চালিয়েছে। সেখানে বেসামরিক মানুষ, শিশু, নারী ও মেয়েরা ছিল।’

একই ভবনের বাসিন্দা মোহাম্মদ কালি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
তিনি বলেন, মাটিতে মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। নারী ও শিশু বয়স্কও নিহত হয়।

ঘটনাস্থলের এএফপির ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির সামনের বড় অংশ ধসে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

এ সময় উপস্থিত লোকজন ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের টুকরা ও বাঁকানো লোহার মধ্যে উদ্ধারযোগ্য জিনিসপত্র খুঁজছিলেন।

সিভিল ডিফেন্স জানায়, গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

আল-শিফা হাসপাতাল তিনটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কয়েক ঘণ্টা পর বাসসাল জানান, জেইতুন এলাকার পূর্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল একটি তাঁবুতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে এক নারী নিহত হয়েছেন।

গাজার আল-আহলি হাসপাতাল জানায়, নিহত ওই নারীর মরদেহের পাশাপাশি কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তার মেয়েও রয়েছে।

বাসসাল বলেন, হামলার ওই এলাকায় আরও কয়েকজন আহত এবং তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজার অন্য এলাকাগুলোতে ইসরাইলি হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।

এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের হতাহতের আগে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, একই সময়ে গাজায় পাঁচজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।