ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হরমুজ প্রণালীতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন, দাবি ইরানের Logo গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ফাহিমা খন্দকার, এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা Logo ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে দ্বিতীয় যমুনা সেতু Logo উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত নেতৃত্বের আহ্বান মির্জা ফখরুলের Logo ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত ও উদ্ধার সক্ষমতা বাড়াতে বললেন তারেক রহমান Logo বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য অ্যামচ্যামের Logo বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo নাগোয়ায় টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন তারেক রহমান Logo বালুরমাঠে এসআরবির অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৪

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন পরিষদ নিরাপদ রাখতে সরকার কাজ করছে। গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে। তৃণমূল মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কিংবা কোথায় অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে, সে বিষয়ে গ্রাম পুলিশ আগেভাগে তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারে।

এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশস্থলে প্রবেশের পর সারাদেশ থেকে আসা গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে করতে মূল মঞ্চে ওঠেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মহাসমাবেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। নতুন এ সিদ্ধান্ত শনিবার থেকেই কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যয় মেটাতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল বিল দেওয়ার পাশাপাশি থানায় যাতায়াত ভাতাও বাড়ানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহল্লাদার ও দফাদার হিসেবে পরিচিতদের এখন থেকে যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে পরিচিত করা হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার কথা জানান তিনি।

গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে। গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এ ছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঁচ বছর পরপর সাইকেল দেওয়ার পরিবর্তে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর নতুন সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে কার্যকর স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ ও সচেতন জনগণের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্যও তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ও বৃক্ষরোপণে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিজেদের ঘরবাড়ি, হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও খালের দুই পাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশ নেন। তাঁদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল সমাবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে দেশের আট বিভাগ থেকে নির্বাচিত সেরা আটজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

মহাসমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ২৯ মিনিট আগে
১৩ বার পঠিত হয়েছে

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট এর সময় : ২৯ মিনিট আগে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন পরিষদ নিরাপদ রাখতে সরকার কাজ করছে। গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে। তৃণমূল মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কিংবা কোথায় অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে, সে বিষয়ে গ্রাম পুলিশ আগেভাগে তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারে।

এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশস্থলে প্রবেশের পর সারাদেশ থেকে আসা গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে করতে মূল মঞ্চে ওঠেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মহাসমাবেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। নতুন এ সিদ্ধান্ত শনিবার থেকেই কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যয় মেটাতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল বিল দেওয়ার পাশাপাশি থানায় যাতায়াত ভাতাও বাড়ানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহল্লাদার ও দফাদার হিসেবে পরিচিতদের এখন থেকে যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে পরিচিত করা হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার কথা জানান তিনি।

গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে। গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এ ছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঁচ বছর পরপর সাইকেল দেওয়ার পরিবর্তে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর নতুন সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে কার্যকর স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ ও সচেতন জনগণের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্যও তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ও বৃক্ষরোপণে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিজেদের ঘরবাড়ি, হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও খালের দুই পাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশ নেন। তাঁদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল সমাবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে দেশের আট বিভাগ থেকে নির্বাচিত সেরা আটজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

মহাসমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।