বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪ রানে হারিয়ে সিরিজ জিততে এক ধাপ দূরে ভারত
টানা দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও কন্ডিশনের পূর্ণ সুবিধা নিয়েছেন ভারতের পেসাররা। শনিবার বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ভারত।
ওয়েলিংটনের ভেজা কন্ডিশনে ব্যাটিং কঠিন হয়ে পড়ায় ম্যাচটি কমিয়ে ৪৭ ওভারে নির্ধারণ করা হয়। ভারত ১৩৪ রানের লক্ষ্য দিলেও তা তাড়া করে জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড।
বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ২৬ ওভারে ৭ উইকেটে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১১৩ রান। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে তখন পার স্কোর ছিল ১০৯ রান। অর্থাৎ ৪ রানে এগিয়ে ছিল ভারত। ক্রিজে থাকা লোকেশ রাহুল ২৬ ও অকিব নবী ১ রান করে দলকে প্রয়োজনীয় ব্যবধান ধরে রাখতে সহায়তা করেন।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ জিততে ভারতের প্রয়োজন এখন আর মাত্র একটি জয়। আগামী মঙ্গলবার হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ওয়ানডে।
এর আগে বুধবার অকল্যান্ডে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ১৮৫ রানে অলআউট করে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছিল ভারত।
দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ম্যাচসেরা হয়েছেন গুরনুর ব্রার। ৩০ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৪ উইকেট। অকল্যান্ডেও ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ব্রার। দুই ম্যাচের কন্ডিশনই তাঁর বোলিংয়ের জন্য সহায়ক ছিল বলে জানান তিনি।
ব্রার বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে বোলিং করতে আমার খুব ভালো লাগে। এখানকার বাউন্স ও গতি আমাকে বেশ সাহায্য করে। আমি সত্যিই উপভোগ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে উইকেটগুলো কিছুটা ফ্ল্যাট থাকে। এখানে বাড়তি বাউন্স পাওয়া যায়। আমি নিজের শক্তির জায়গা অনুযায়ী বোলিং করেছি, আর তাতেই কাজ হয়েছে।’
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কখনোই স্বস্তিতে ছিল না ভারত। নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফি শুরুতেই ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলকে গোল্ডেন ডাক এবং বিরাট কোহলিকে ৭ রানে ফিরিয়ে দলকে চাপে ফেলেন। ডাফি ৩৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
পেসার কাইল জেমিসনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ভারতের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক শ্রেয়াস আইয়ারকে ৩০ রানে আউট করে ভারতকে ৫ উইকেটে ৮৬ রানে পরিণত করেন তিনি। জেমিসনও ৩৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
এর আগে ৪১ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেলের ৫৫ ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের ৩১ রান ছিল তাদের ইনিংসের মূল সংগ্রহ। স্বাগতিক দলের আর কোনো ব্যাটার ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। অনিয়মিত বাউন্স ও ভারতীয় পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারায় তারা।
ইনিংসের ২০তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন ব্রার। টম ল্যাথাম ও গ্লেন ফিলিপসকে অল্প রানে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৫ উইকেটে ৫৩ রানে নামিয়ে দেন তিনি।
এর আগে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ২ উইকেট নেন অকিব নবী। দুই ওপেনার উইল ইয়ং ও টিম সেইফার্টকে আউট করে ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে ভারতের বোলিং আক্রমণের প্রশংসা করেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তিনি বলেন, ‘তারা খুব ভালো বোলিং করেছে, বিশেষ করে ইনিংসের শুরুতে।’
স্যান্টনার আরও বলেন, ‘শুরুতেই উইকেট হারানো কখনোই ভালো নয়। আবহাওয়ার কারণে শুরু থেকেই পরিস্থিতি কঠিন হওয়ার কথা ছিল। তারা সেই পরিস্থিতির দারুণ সদ্ব্যবহার করেছে।’










