ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ Logo ইইউ-মার্কোসুর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের Logo তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার Logo কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া Logo ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত বাংলাদেশ Logo জুলাই মাসেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের মূল্য Logo বাক্ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ঠাকুরগাঁওয়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে ফ্রান্স Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি : মির্জা ফখরুল Logo জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ

‘স্বপ্নে মক্কা-মদিনা দেখে’ ক্যান্সারের চিকিৎসা!

প্রতিনিধির নাম :

বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা রোজিনা বেগম। ক্যান্সারসহ সব রোগের ‘চিকিৎসা’ করেন তিনি। তাবিজ-কবজ, ঝাঁড়-ফুক, তেল ও পানিপড়া তার মুল দাওয়া। স্বপ্নে মক্কা-মদিনা দেখেই নাকি সমস্য সমাধানের এ উপায় পেয়েছেন তিনি। তবে উপকার পেয়েছেন এমন লোক পাওয়া ভার।

উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের রোজিনার বাড়িতে শত-শত মানুষ ভীড় জমান। চলে যান তদবির নিয়ে। রোজিনার টেবিলের সামনে তেল ও পানির বোতল থাকে। হাতে পবিত্র কোরআন। বেশিরভাগ মানুষেরই দাবি, এটা সম্পূর্ণ ধোঁকা।

রোজিনা বলেন, ‘ছয় মাস আগে মক্কা-মদিনা ও জলের পীর খোয়াজ খিজিরকে (আঃ) স্বপ্নে দেখি। তিনি আমাকে তদবির (চিকিৎসা) দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তদবির দিতে চাইনি। তিনি স্বপ্নে আমাকে বলেছেন, যদি তদবির না দাও, তাহলে তোমার সমস্যা হবে। তাই বাধ্য হয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখান থেকে অর্জিত টাকা বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় দিতে হয়।’

রোজিনা আরও বলেন, ‘আমি ক্যান্সারসহ সকল রোগের চিকিৎসা দেই। প্যারালাইসড রোগীকে চিকিৎসা দিলে সাত দিনের মধ্যে ভালো হয়। পবিত্র কোরআনের আয়াত দিয়ে ঝাঁড়, ফুক, তৈল ও পানি পড়া দেই। এতেই আল্লাহ ভালো করেন।’

কোরাআন পড়তে পারেন কি-না জানতে চাইলে রোজিনা বলেন, ‘আগে পারতাম না। এখন একটু একটু পারি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাতাকাটা গ্রামের মো. সোহাগ হাওলাদারের স্ত্রী রোজিনা বেগম দীর্ঘদিন ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছয় মাস আগে স্বপ্ন দেখার দাবি করে রোগের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, রোগী প্রতি রোজিনা সম্মানী নেন ১২০ টাকা। তিনি ক্যান্সার, প্যারালাইস্ট, লিভারে সমস্যা, জন্ডিস, জীন-ভুত, শরীরে ব্যাথা, গ্যাসষ্টিক, আলসার, পেটের চর্বি কমানো, হাঁপানীসহ সব রোগের চিকিৎসার দাবি করেন। তার ওষুধ সব  ‘মুসকিলের আসান’ বলে বলে দাবি করেন রোজিনা।

এ ছাড়া রোজিনা আয়না পড়া ও বাটি চালানেরর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরিয়ে দিতে পারেন বলে দাবি করেন। করেন পশুর চিকিৎসাও। কোনো রোগী গেলেই তিনি দেবর সুমনকে বলেন রোগীকে সুরা ফালাক ও নাস পড়ার নিয়ম বলে দিতে। এই সুমনই তার ঝাঁড়-ফুকের প্রধান সিপাই।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রোজিনা কোরআনকে ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা কামাচ্ছেন। এটা নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই না। তিনি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গেও জড়িত।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলাপাড়া থেকে মোমেনা বেগমসহ ১০ জন এসেছেন বিভিন্ন রোগের তদবির নিতে। জানতে চাইলে মোমেনা বলেন, ‘মানুষের কাছে শুনেছি ভালো হয়, তাই আমরাও এসেছি।’

আমতলীর চলাভাঙ্গা গ্রামের বাবুল ফরাজী জানান, ‘সারা শরীরের ব্যাথা নিয়ে ফকির রোজিনার কাছে গিয়েছিলাম। ঝাঁড়-ফুক, তাবিজ, তৈল ও পানি পড়া দিয়েছে। কিন্তু আমি কোনো উপকার পাইনি।’

চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের জুয়েল জানান, ‘হারানো সোনার চেইন খুঁজে বের করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফকির রোজিনা আয়না পড়ার নামে ধোঁকা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ঝাঁড়-ফুক দিয়ে চিকিৎসা করা এটা নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। দ্রুত প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুন ২০১৮
১৬ বার পঠিত হয়েছে

‘স্বপ্নে মক্কা-মদিনা দেখে’ ক্যান্সারের চিকিৎসা!

আপডেট এর সময় : ০১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুন ২০১৮

বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা রোজিনা বেগম। ক্যান্সারসহ সব রোগের ‘চিকিৎসা’ করেন তিনি। তাবিজ-কবজ, ঝাঁড়-ফুক, তেল ও পানিপড়া তার মুল দাওয়া। স্বপ্নে মক্কা-মদিনা দেখেই নাকি সমস্য সমাধানের এ উপায় পেয়েছেন তিনি। তবে উপকার পেয়েছেন এমন লোক পাওয়া ভার।

উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের রোজিনার বাড়িতে শত-শত মানুষ ভীড় জমান। চলে যান তদবির নিয়ে। রোজিনার টেবিলের সামনে তেল ও পানির বোতল থাকে। হাতে পবিত্র কোরআন। বেশিরভাগ মানুষেরই দাবি, এটা সম্পূর্ণ ধোঁকা।

রোজিনা বলেন, ‘ছয় মাস আগে মক্কা-মদিনা ও জলের পীর খোয়াজ খিজিরকে (আঃ) স্বপ্নে দেখি। তিনি আমাকে তদবির (চিকিৎসা) দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তদবির দিতে চাইনি। তিনি স্বপ্নে আমাকে বলেছেন, যদি তদবির না দাও, তাহলে তোমার সমস্যা হবে। তাই বাধ্য হয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখান থেকে অর্জিত টাকা বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় দিতে হয়।’

রোজিনা আরও বলেন, ‘আমি ক্যান্সারসহ সকল রোগের চিকিৎসা দেই। প্যারালাইসড রোগীকে চিকিৎসা দিলে সাত দিনের মধ্যে ভালো হয়। পবিত্র কোরআনের আয়াত দিয়ে ঝাঁড়, ফুক, তৈল ও পানি পড়া দেই। এতেই আল্লাহ ভালো করেন।’

কোরাআন পড়তে পারেন কি-না জানতে চাইলে রোজিনা বলেন, ‘আগে পারতাম না। এখন একটু একটু পারি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাতাকাটা গ্রামের মো. সোহাগ হাওলাদারের স্ত্রী রোজিনা বেগম দীর্ঘদিন ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছয় মাস আগে স্বপ্ন দেখার দাবি করে রোগের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, রোগী প্রতি রোজিনা সম্মানী নেন ১২০ টাকা। তিনি ক্যান্সার, প্যারালাইস্ট, লিভারে সমস্যা, জন্ডিস, জীন-ভুত, শরীরে ব্যাথা, গ্যাসষ্টিক, আলসার, পেটের চর্বি কমানো, হাঁপানীসহ সব রোগের চিকিৎসার দাবি করেন। তার ওষুধ সব  ‘মুসকিলের আসান’ বলে বলে দাবি করেন রোজিনা।

এ ছাড়া রোজিনা আয়না পড়া ও বাটি চালানেরর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরিয়ে দিতে পারেন বলে দাবি করেন। করেন পশুর চিকিৎসাও। কোনো রোগী গেলেই তিনি দেবর সুমনকে বলেন রোগীকে সুরা ফালাক ও নাস পড়ার নিয়ম বলে দিতে। এই সুমনই তার ঝাঁড়-ফুকের প্রধান সিপাই।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রোজিনা কোরআনকে ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা কামাচ্ছেন। এটা নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই না। তিনি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গেও জড়িত।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলাপাড়া থেকে মোমেনা বেগমসহ ১০ জন এসেছেন বিভিন্ন রোগের তদবির নিতে। জানতে চাইলে মোমেনা বলেন, ‘মানুষের কাছে শুনেছি ভালো হয়, তাই আমরাও এসেছি।’

আমতলীর চলাভাঙ্গা গ্রামের বাবুল ফরাজী জানান, ‘সারা শরীরের ব্যাথা নিয়ে ফকির রোজিনার কাছে গিয়েছিলাম। ঝাঁড়-ফুক, তাবিজ, তৈল ও পানি পড়া দিয়েছে। কিন্তু আমি কোনো উপকার পাইনি।’

চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের জুয়েল জানান, ‘হারানো সোনার চেইন খুঁজে বের করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফকির রোজিনা আয়না পড়ার নামে ধোঁকা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ঝাঁড়-ফুক দিয়ে চিকিৎসা করা এটা নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। দ্রুত প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’