ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

ভারতীয় কৃষকদের অন্যরকম আন্দোলন

প্রতিনিধির নাম :

গ্রামের কৃষকরা যেসব ফসল ফলান তার কিছুই শহরে যাবে না। চাষিরা তাদের চাষ করা ফল, দুধ, তরকারিসহ সবকিছু এক জায়গায় জড়ো করছেন কিন্তু সেগুলো কোনো পাইকারি বাজারে যাচ্ছে না, আবার বিক্রিও করছেন না। ভারতের কৃষকরা এই অন্যরকম আন্দোলনের নাম দিয়েছেন ‘গাঁও বন্‌ধ’।

দেশটির ১৭২টি কৃষক সংগঠন জোট হয়ে ২২টি রাজ্যে ১০ দিনের এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। শুক্রবার ছিল এর প্রথম দিন। এই দশ দিনে গ্রাম থেকে কোনো কৃষি ও খামারজাত পণ্য শহরে পাঠাবেন না কৃষকরা। খবর আনন্দবাজারের।

কিছু আনাজ-দুধ পথে ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদ করলেও আন্দোলনকারীরা ঠিক করেছেন, কৃষি ও খামারজাত সব পণ্য নষ্ট না করে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিক্রি করা হবে।

দেশটির মূল শক্তির জায়গা যে গ্রাম। এটাই কৃষকরা শহরের এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে বুঝিয়ে দিতে চান। তারা চাইছেন গ্রামগুলি যদি শহরের পাশে না থাকে তাহলে শহরের কী অবস্থা হয় সেটাই দেখুক উঁচুতলার লোক। গাঁও বন্‌ধের প্রথম দিনেই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র।

৬২টি কৃষক গোষ্ঠীকে নিয়ে গড়া কিসান একতা মঞ্চের নেতা রামনদীপ সঙ্ঘ মান জানান, পাঞ্জাবে আজ দুধ সরবরাহ ৪০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। আগামী নয় দিনে উত্তর ও মধ্য ভারত-সহ গোটা দেশের শহরগুলিতে কৃষিপণ্যের আকাল দেখা দিতে পারে। ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে গাঁও বন্‌ধের জেরে ফল-আনাজ-দুধের দাম চড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই আন্দোলনের মূল দাবি তিনটি। ১, কৃষকদের সব রকম ঋণ মাফ করতে হবে। ২, সব রকম খরচ ধরে উৎপাদন ব্যয় যা দাঁড়াবে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হতে হবে তার চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। তিন, আয়ের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

গাঁও বন্‌ধের শেষে ১০ জুন ভারত বন্‌ধ ডেকেছে কৃষক সংগঠনগুলি। ব্যবসায়ীদেরও শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন তারা। রাষ্ট্রীয় কিসান মজদুর মহাসঙ্ঘের সভাপতি শিবকুমার শর্মার (কাকাজি) কথায়, ‘বিগত বছরগুলিতে যে সব কৃষকের প্রাণ গিয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ১০ জুন বেলা দু’টো পর্যন্ত ভারত বন্‌ধ হবে। সব ব্যবসায়ীকে এই বন্‌ধে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সরাসরি মাঠে না নামলেও কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে কংগ্রেস। গত ৬ জুন বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে আন্দোলনরত কৃষকদের উপরে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ছ’জন কৃষকের মৃত্যু হয় তাতে। ওই ঘটনার বর্ষপূর্তির দিনে রাহুল গান্ধী মন্দসৌরে থাকবেন।

যদিও বিজেপি বোঝাতে চাইছে, বিষয়টিকে আমলই দিচ্ছে না তারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কথায়, ‘কংগ্রেস সভাপতি ভোটের সময় এ সব করে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান স্পষ্ট বলেছেন, আন্দোলনটা কংগ্রেসের। কৃষকদের নয়।’ পাশাপাশি রাজনাথের কটাক্ষ, ‘উত্তরপ্রদেশের ভাট্টা পারসলের কথা রাহুল ভুলে গিয়েছেন। এখন মন্দসৌরের কথা বলছেন! ৬০ বছর ক্ষমতায় থেকে কৃষকদের কোন উন্নতিটা করেছে কংগ্রেস?’

এ বছরের ১১ মার্চ রাতে কৃষকদের বিশাল মিছিল মুম্বাইয়ে পৌঁছায়। বিক্ষত পায়ে ৫০ হাজার কৃষক তাদের শক্তির নমুনা দেখিয়েছিল।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮
১৪ বার পঠিত হয়েছে

ভারতীয় কৃষকদের অন্যরকম আন্দোলন

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮

গ্রামের কৃষকরা যেসব ফসল ফলান তার কিছুই শহরে যাবে না। চাষিরা তাদের চাষ করা ফল, দুধ, তরকারিসহ সবকিছু এক জায়গায় জড়ো করছেন কিন্তু সেগুলো কোনো পাইকারি বাজারে যাচ্ছে না, আবার বিক্রিও করছেন না। ভারতের কৃষকরা এই অন্যরকম আন্দোলনের নাম দিয়েছেন ‘গাঁও বন্‌ধ’।

দেশটির ১৭২টি কৃষক সংগঠন জোট হয়ে ২২টি রাজ্যে ১০ দিনের এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। শুক্রবার ছিল এর প্রথম দিন। এই দশ দিনে গ্রাম থেকে কোনো কৃষি ও খামারজাত পণ্য শহরে পাঠাবেন না কৃষকরা। খবর আনন্দবাজারের।

কিছু আনাজ-দুধ পথে ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদ করলেও আন্দোলনকারীরা ঠিক করেছেন, কৃষি ও খামারজাত সব পণ্য নষ্ট না করে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিক্রি করা হবে।

দেশটির মূল শক্তির জায়গা যে গ্রাম। এটাই কৃষকরা শহরের এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে বুঝিয়ে দিতে চান। তারা চাইছেন গ্রামগুলি যদি শহরের পাশে না থাকে তাহলে শহরের কী অবস্থা হয় সেটাই দেখুক উঁচুতলার লোক। গাঁও বন্‌ধের প্রথম দিনেই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র।

৬২টি কৃষক গোষ্ঠীকে নিয়ে গড়া কিসান একতা মঞ্চের নেতা রামনদীপ সঙ্ঘ মান জানান, পাঞ্জাবে আজ দুধ সরবরাহ ৪০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। আগামী নয় দিনে উত্তর ও মধ্য ভারত-সহ গোটা দেশের শহরগুলিতে কৃষিপণ্যের আকাল দেখা দিতে পারে। ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে গাঁও বন্‌ধের জেরে ফল-আনাজ-দুধের দাম চড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই আন্দোলনের মূল দাবি তিনটি। ১, কৃষকদের সব রকম ঋণ মাফ করতে হবে। ২, সব রকম খরচ ধরে উৎপাদন ব্যয় যা দাঁড়াবে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হতে হবে তার চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। তিন, আয়ের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

গাঁও বন্‌ধের শেষে ১০ জুন ভারত বন্‌ধ ডেকেছে কৃষক সংগঠনগুলি। ব্যবসায়ীদেরও শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন তারা। রাষ্ট্রীয় কিসান মজদুর মহাসঙ্ঘের সভাপতি শিবকুমার শর্মার (কাকাজি) কথায়, ‘বিগত বছরগুলিতে যে সব কৃষকের প্রাণ গিয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ১০ জুন বেলা দু’টো পর্যন্ত ভারত বন্‌ধ হবে। সব ব্যবসায়ীকে এই বন্‌ধে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সরাসরি মাঠে না নামলেও কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে কংগ্রেস। গত ৬ জুন বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে আন্দোলনরত কৃষকদের উপরে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ছ’জন কৃষকের মৃত্যু হয় তাতে। ওই ঘটনার বর্ষপূর্তির দিনে রাহুল গান্ধী মন্দসৌরে থাকবেন।

যদিও বিজেপি বোঝাতে চাইছে, বিষয়টিকে আমলই দিচ্ছে না তারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কথায়, ‘কংগ্রেস সভাপতি ভোটের সময় এ সব করে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান স্পষ্ট বলেছেন, আন্দোলনটা কংগ্রেসের। কৃষকদের নয়।’ পাশাপাশি রাজনাথের কটাক্ষ, ‘উত্তরপ্রদেশের ভাট্টা পারসলের কথা রাহুল ভুলে গিয়েছেন। এখন মন্দসৌরের কথা বলছেন! ৬০ বছর ক্ষমতায় থেকে কৃষকদের কোন উন্নতিটা করেছে কংগ্রেস?’

এ বছরের ১১ মার্চ রাতে কৃষকদের বিশাল মিছিল মুম্বাইয়ে পৌঁছায়। বিক্ষত পায়ে ৫০ হাজার কৃষক তাদের শক্তির নমুনা দেখিয়েছিল।