
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানা বহুরিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত কোর্ট বহুরিয়া ফজল বিক্স এর পশ্চিম পাশে লৌহজং নদীতে ১০/১২ ফুট উচু করে মাটি নেওয়ার ড্রাম ট্রাক চলাচলের জন্য স্থায়ী ভাবে রাস্তা তৈরি করেন। একটি রাস্তা থেকে অপর রাস্তার দূরত্ব প্রায় ২০০ গজ। কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া ও মীর দেওহাটা এলাকায় ২০/২৬টি ইট ভাটা রহিয়াছে। ঐ বাঁধ দিয়ে মাটির ব্যবসায়ীরা ইটভাটাগুলোতে মাটি সরবরাহ করে। বাধের কারনে উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিক পানি ঠিকমত প্রবাহিত হতে পারছেনা। পাশা পাশি দুইটি বাধ দেওয়ার কারনে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। বাধের নিচে ৬/৭টি সিমেন্টের পাইপ বসিয়েও পানি নিয়ন্ত্রণ করিতে না পারার ফলে পানি উজানে উচু হয়ে এলোমেলো ভাবে বাধের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরা আড়ি বাধের কারনে পাইপের পানি অতিস্রোত থাকার কারনে নদীর আশ পাশের মালিকানা জমি ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হইতেছে। অপর দিকে দুটি বাধের মাঝখানে নদী ভরাট হয়ে মালিকানা জমি নদীর গর্ভে গিয়ে নদীতে পরিনত হইতেছে। ৪/৫ বছর যাবত একই স্থানে স্থায়ী ভাবে বাধ থেকে যায়। পানি শুকালে শুকনা মৌসুমে আবার মাটির ব্যবসায়ীরা পুনরায় মাটির ব্যবসা শুরু করে। পূর্ণ বর্ষায় পরিনত হলে ছোট ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে। স্থানীয় এলাকার লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে নৌকার মালিক জয়েন উদ্দিন মিয়া আবেকের সহিত বলে আমি অনেক টাকা দিয়ে নৌকা তৈরি করিয়াছি। কিন্তু নদীতে বাধ থাকার কারনে অল্প বর্ষা হলে নৌকা চালাতে পারিনা। ইহাতে আমরা গরিব মানুষ আয় রোজগার করিতে পারছিনা। বাঁধ দুটি না থাকিলে মির্জাপুর শহর হতে মালামাল গ্রামগঞ্জে আনা নেওয়া করতাম এবং আরও বলে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে মারাত্মক ধরনের রোগী ভ্যান রিক্সা গাড়ি যোগে নিলে মারাত্মক ক্ষতির আশংকা থাকে। আমার মত আরও নৌকার মাঝি অনেক ছোট ছোট নৌকা যোগে দিন রাত মালামাল ও রোগী আনা নেওয়া করে। তিনি আরও বলেন ঐ বাঁধের কারনে কাছা কাছি কিছু বাড়ির মাটি বাঁধের পাইপের পানির স্রোতের কারনে বাড়ির ভিটি মাটি ধ্বসে পড়ে। ধ্বসে পড়ার কারনে বাধ্য হয়ে মাটির ব্যবসায়ীদের কাছে স্বল্প মূলে ভিটি বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হয়। মাটি ব্যবসায়ীদের চাপের কারনে ১৫-১৬টি পরিবার স্বল্প মূলে বাড়ি বিক্রি করে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। মাটির ব্যবসায়ীদের চাপের কারনে বোরো ধান চাষ করার জন্য সিকি শেয়ার প্রজেক্টের মালিক মোঃ আলাল মিয়া, সামছুল বেপার, হেলাল মোল্লা, পিং রমে মোল্লা, মোঃ মিজানুর রহমান, পিতা-মোঃ নান্নু বেপারী এদের বোরো ধানের প্রজেক্ট থেকে চলে যেতে হয়েছে। আমি অনেক কষ্ট করে অনেক টাকা খরচ করে বৈদ্যুতিক মোটর এর সাহায্যে একটি বোরো ধানের প্রজেক্ট করি। প্রজেক্টের ধান দিয়ে সারা বছর আমার পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটানো হয়। মাটির ব্যবসায়ী ও খোলার মালিক শহিদ মিয়া আমাকে বলে আগামী বৎসর এই জমিতে বোরো ধানের প্রজেক্ট করিতে পারিবে না। কারন জানতে চাইলে সে বলে এই জমির মাটি আমার ইট ভাটার জন্য কিনেছি। এই জমির সাথে আমাদের কয়েক জনের বসত বাড়ি। এই জমির মাটি কাটলে পরে আমাদের বসত বাড়ি স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে চলে যেতে হবে। স্থানীয় সাবেক মেম্বার দরবেশ আলী বলে এই দুইটি বাঁধ থাকার কারনে জমির মালিক সহ নৌকার মালিকগণ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কুমুদিনী হাসপাতালে সময় মত চিকিৎসা নিতে পারছেনা। বাঁধের কারনে অল্প বর্ষায় নৌকা চলাচল বন্ধ থাকে। স্থানীয় এলাকার মোঃ রকিফুল ইসলামকে বাঁধের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তিনি বলেন, আমরা মির্জাপুর শহর হতে নৌকা যোগে অল্প খরচে মালামাল আনতে পারি। কিন্তু দুটি বাঁধ থাকার কারনে আপনারা দেখেন ভ্যানযোগে মালামাল এনে বাঁধের উপর নামানো হয়েছে এবং বাঁধের পাশে নৌকা রেখে নৌকার মধ্যে মাল ভরে বাড়িতে মাল নেওয়া হচ্ছে। ইহাতে আমার ক্রয় করা মালামালের উপর ভাড়ার খরচ বাবদ দ্বিগুণ হয়ে দাড়াবে। এই দুটি বাঁধ না থাকলে আমার মত অনেক লোক ক্ষতিগ্রস্থ হতো না। আরো বলে বাঁধের কারনে পানি বাধা পেয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে আমার বাড়ির ভিটিতে পানির প্রচন্ড স্রোত এর কারনে প্রতি বৎসর গাছপালা সহকারে প্রায় ৪/৫ ফুট জমি ধ্বসে পড়ে। এভাবে বাঁধ থাকলে ২/৪ বছর পরে আমার বসত বাড়ি পুরোপুরি ভেঙ্গে যাবে। আমি বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হইব। কোর্ট বহুরিয়া খেয়া ঘাটের মাঝি মোঃ বুদ্দু মিয়াকে নদীতে বাধের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে বলে বাধের কারনে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানির স্রোতে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে কিন্তু বাঁধের মাঝে বসানো পাইপ ও বাঁশের খুঁটি রয়েছে। পূর্ণ বর্ষা হলে কিছু নৌ চলাচল করিতে পারবে। এখন কোন নৌকা চলাচল করতে পারে না বাঁধ থাকার কারনে। দুটি বাঁধের জন্য গোপন ও প্রকাশ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করিলে নদীতে এই দুটি বাঁধ কে দিয়েছে? তাহারা এক পর্যায়ে ভয় পায়। (এদের নামটি গোপন রাখতে বলে।) তবুও বলেন মাটির ব্যবসায়ী ইট ভাটার মালিক মোঃ শহিদ মিয়া, আব্দুল হাই সাবেক মেম্বার, ফরিদ মিয়া, পিতা-সারু মিয়া সহ আরও প্রভাবশালী লোকের সহযোগিতায় বাধ দিয়েছে। আরও বলেন, ৮/৯ বছর আগে দক্ষিণ পার্শ্বের বাঁধটির কাছ দিয়ে মৃত আরফান আলী শুকনা মৌসুমে নদীর উপর হালকা বাধ দিয়ে মাটির ব্যবসা করেন। পরে মাটির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় ও বাঁধটি বর্ষার পানি এলে ভেঙ্গে যায় এবং ৫/৬ বছর ইট ভাটার মালিক ও মাটির ব্যবসায়ী শহিদ মিয়া, পিতা-একরাম আলী, সাং-মীর দেওহাটা সে স্থায়ী ভাবে বাঁধ নির্মাণ করে। প্রত্যেক বৎসরের ন্যায় মাটি আনে। এ এলাকার লোকজন জানান তিন ফসলী জমির মাটি বিক্রি করিয়া প্রচুর টাকা পায়। ১/২ বছর পরে শহিদ মিয়ার মাটির ব্যবসায় অনেক লাভবান দেখে অপর দুই লোভী মাটির ব্যবসায়ী আব্দুল হাই সাবেক মেম্বার, শাজাহান সারু সহ আরও তাহার বাহামের লোকজন নিয়ে মীর দেওাটা পশ্চিম পাড়া গ্রামের পশ্চিম চকের তিন ফসলীয় জমির মাটি ২০/২৫ ফুট গভীর করে মাটি কাঁটিতে কাঁটিতে শত শত একর জমি জলাশয়ে পরিনত হয়েছে। পরবর্তীতে এই এলাকায় মাটির সংকট দেখার কারনে উক্ত মাটির ব্যবসায়ী শহিদ মিয়ার সহযোগিতার কোর্ট বহুরিয়ার তিন ফসলী জমির উপর নজর ফেলেন পরে শহিদ মিয়ার রাস্তা দিয়ে উক্ত দুই ব্যক্তি মাটির ব্যবসা করেন। ১/২ বছর পর আবার আব্দুল হাই সাবেক মেম্বার ও শাজাহান সারু শহিদ মিয়ার বাঁধের ২০০ গজ উত্তর পার্শ্বে উজানে স্থায়ী ভাবে ইটের আধলা ও মাটি দিয়ে ১০/১২ ফুট উঁচু করে আরেকটি বাঁধ তৈরি করে। এলাকার লোকজন জানান মাটির ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে বিভিন্ন মহলের সাথে হাত মিলিয়ে স্বাধীন ভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছে। আরও বলেন মাটির ব্যবসায়ীর লিয়াজো বড় কর্মকর্তা পর্যন্ত। তাদের হাত অনেক বড়। আমরা এলাকার গরিব কৃষক দিন মুজুরী বিচার চাইলেও বিচার পাই না। আমাদের পাশে কে দাঁড়াবে। পুড়া কপাল পুড়াই থাকে। তাই বলে কিছু কৃষক নৌকার মাঝি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আমরা আমাদের অধিকার ভোগ করতে পারিনা বলে মাথায় হাত। মাটি কাটার কারনে ১৫/১৬ বসত বাড়ি অল্প টাকায় মাটির ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যেতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক বা জমির মালিকগণ বাঁধ ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী বরাবর অভিযোগ দায়ের করিলে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও) ইসরাত সাদমীন বলে, আমি শুনেছি যে, অনেক পূর্বেই বাঁধ দুটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আজগর হোসেন একই কথা বলেন। আমি শুনেছি একমাস পূর্বেই বাঁধ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ও সিমেন্ট এর পাইপ উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন এখন কি দেশে নৌকা আছে? পানি নেই নৌকা চলবে কি করে।