ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বাগেরহাটে বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু Logo ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুনে ৫ জনের মৃত্যু Logo বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন ক্রেডিট পাবে বাংলাদেশ Logo হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর Logo গাজীপুরে শব্দদূষণ রোধে সাইলেন্ট র‌্যালি ও মতবিনিময় Logo বগুড়ায় সাজাপ্রাপ্ত মাদক কারবারি ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার Logo ইরানের হামলার জবাবে ৫টি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের Logo পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের পর জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান Logo মার্কিন প্রভাব সুসংহত করতে লাতিন আমেরিকা সফর শুরু রুবিওর

ইলিশ পড়ছে, দাম কমছে

প্রতিনিধির নাম :

ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার ‘জো’তে ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। এতে জেলেদের পাশাপাশি ক্রেতাদের মুখেও হাসি। আকারভেদে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে ইলিশের স্বাদ নিতে পারছে মানুষ।

নগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া আরও বড় আকারের ইলিশের দাম ৭০০ টাকা কিংবা আরেকটু বেশি। মাছের স্বাদও ভালো বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা।

গত ২৭ আগস্ট ছিল পূর্ণিমা। পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে চার দিন আগে থেকে জো (ইলিশ ধরার প্রাকৃতিক মৌসুম) শুরু হয়। পূর্ণিমার পরের চার দিনও জো থাকে। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা অমাবস্যায় সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লিটন দাশ বলেন, ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার দিকে সব জেলে তাকিয়ে থাকেন। এবারও ইলিশ ধরা পড়েছে। যদিও তা অন্যবারের চেয়ে তুলনামূলক কম। তবে দাম কমেছে।

সমুদ্র উপকূল কাট্টলী এলাকায় ছোট আকারের অর্থাৎ ৫০০ গ্রামের নিচের ইলিশগুলো প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের অধীনে পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ড উপকূল পর্যন্ত ৩৮টি গ্রামের প্রায় ৫২ হাজার পরিবার মৎস্য পেশার সঙ্গে যুক্ত। তারা প্রতিদিন ছোট ছোট নৌকাযোগে সমুদ্র, নদী উপকূলে মাছ ধরতে যায়। বিকেল নাগাদ মাছ নিয়ে উপকূলে ফিরে আসে। সেখানে আড়তদারদের কাছে এসব মাছ জমা দেয়। ক্ষুদ্র জেলেদের মাছ আড়তদারদের পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীরাও কিনে নেন।

নগরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হচ্ছে ফিশারি ঘাট। গতকাল ফিশারি ঘাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ঠেলাগাড়ি, পিকআপযোগে নগর ও বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ আসছে আড়তে। ইলিশ নামিয়ে টুকরিতে ভরে রাখা হয়েছে। এরপর আকার অনুযায়ী নিলামে উঠছে ইলিশ। খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন কাঁচাবাজারে।

পাইকারিতে ৫০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।

খুচরা বাজারেও কমে গেছে দাম। নগরের সিরাজউদ্দৌলা সড়কের কাঁচাবাজারে গতকাল শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেনেন ৬০০ টাকা কেজি দরে।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রজনন মৌসুমের কারণে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেবে মৎস্য দপ্তর। এর আগে আরও দুটি জো পাবেন জেলেরা।

মৎস্য দপ্তর জানায়, গতবার সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ টন ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। এবারও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মাছ ধরা পড়ছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
১২ বার পঠিত হয়েছে

ইলিশ পড়ছে, দাম কমছে

আপডেট এর সময় : ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার ‘জো’তে ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। এতে জেলেদের পাশাপাশি ক্রেতাদের মুখেও হাসি। আকারভেদে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে ইলিশের স্বাদ নিতে পারছে মানুষ।

নগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া আরও বড় আকারের ইলিশের দাম ৭০০ টাকা কিংবা আরেকটু বেশি। মাছের স্বাদও ভালো বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা।

গত ২৭ আগস্ট ছিল পূর্ণিমা। পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে চার দিন আগে থেকে জো (ইলিশ ধরার প্রাকৃতিক মৌসুম) শুরু হয়। পূর্ণিমার পরের চার দিনও জো থাকে। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা অমাবস্যায় সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লিটন দাশ বলেন, ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার দিকে সব জেলে তাকিয়ে থাকেন। এবারও ইলিশ ধরা পড়েছে। যদিও তা অন্যবারের চেয়ে তুলনামূলক কম। তবে দাম কমেছে।

সমুদ্র উপকূল কাট্টলী এলাকায় ছোট আকারের অর্থাৎ ৫০০ গ্রামের নিচের ইলিশগুলো প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের অধীনে পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ড উপকূল পর্যন্ত ৩৮টি গ্রামের প্রায় ৫২ হাজার পরিবার মৎস্য পেশার সঙ্গে যুক্ত। তারা প্রতিদিন ছোট ছোট নৌকাযোগে সমুদ্র, নদী উপকূলে মাছ ধরতে যায়। বিকেল নাগাদ মাছ নিয়ে উপকূলে ফিরে আসে। সেখানে আড়তদারদের কাছে এসব মাছ জমা দেয়। ক্ষুদ্র জেলেদের মাছ আড়তদারদের পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীরাও কিনে নেন।

নগরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হচ্ছে ফিশারি ঘাট। গতকাল ফিশারি ঘাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ঠেলাগাড়ি, পিকআপযোগে নগর ও বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ আসছে আড়তে। ইলিশ নামিয়ে টুকরিতে ভরে রাখা হয়েছে। এরপর আকার অনুযায়ী নিলামে উঠছে ইলিশ। খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন কাঁচাবাজারে।

পাইকারিতে ৫০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।

খুচরা বাজারেও কমে গেছে দাম। নগরের সিরাজউদ্দৌলা সড়কের কাঁচাবাজারে গতকাল শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেনেন ৬০০ টাকা কেজি দরে।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রজনন মৌসুমের কারণে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেবে মৎস্য দপ্তর। এর আগে আরও দুটি জো পাবেন জেলেরা।

মৎস্য দপ্তর জানায়, গতবার সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ টন ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। এবারও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মাছ ধরা পড়ছে।