ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

হস্তক্ষেপের অধিকার নেই জাতিসংঘের: মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

প্রতিনিধির নাম :

মিয়ানমারের ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, তার দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার জাতিসংঘের নেই।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চালানোর দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ অন্য শীর্ষ জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা আহ্বান জানানোর এক সপ্তাহ পর রোববার সেনা সদস্যের উদ্দেশ্য দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

মিয়ানমারের সামরিকবাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এর মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে প্রতিক্রিয়া দিলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান।

মিয়ানমারের রাজনীতি থেকে সেনাবাহিনীকে সরে যাওয়ার যে দাবি জাতিসংঘ জানিয়েছে তারও সমালোচনা করেন মিন অং হ্লাইং। তিনি বলেন, ‘একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করার এবং দেশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো দেশ, সংস্থা বা গোষ্ঠীর নেই।’

গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সে সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ।

রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, রাখাইনে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

অবশ্য বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে মিয়ানমার সরকার। বরং রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করে তারা।

তবে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে তাতে সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকির ক্ষেত্রে যথাযথ ও সঙ্গতিপূর্ণ নয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের মার্চে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল গঠিত এই মিশনের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
৯ বার পঠিত হয়েছে

হস্তক্ষেপের অধিকার নেই জাতিসংঘের: মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

আপডেট এর সময় : ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মিয়ানমারের ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, তার দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার জাতিসংঘের নেই।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চালানোর দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ অন্য শীর্ষ জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা আহ্বান জানানোর এক সপ্তাহ পর রোববার সেনা সদস্যের উদ্দেশ্য দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

মিয়ানমারের সামরিকবাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এর মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে প্রতিক্রিয়া দিলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান।

মিয়ানমারের রাজনীতি থেকে সেনাবাহিনীকে সরে যাওয়ার যে দাবি জাতিসংঘ জানিয়েছে তারও সমালোচনা করেন মিন অং হ্লাইং। তিনি বলেন, ‘একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করার এবং দেশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো দেশ, সংস্থা বা গোষ্ঠীর নেই।’

গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সে সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ।

রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, রাখাইনে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

অবশ্য বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে মিয়ানমার সরকার। বরং রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করে তারা।

তবে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে তাতে সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকির ক্ষেত্রে যথাযথ ও সঙ্গতিপূর্ণ নয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের মার্চে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল গঠিত এই মিশনের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়।