ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: তিতুমীর Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ Logo স্বাস্থসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার Logo পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর Logo সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইসিটি বিশেষজ্ঞদের ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo ১৩ সংখ্যা নিয়ে নানা অন্ধবিশ্বাস Logo চার দশকে সূর্যের অভ্যন্তরে বড় পরিবর্তন, উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত Logo হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফানের সাক্ষাৎ

বেশি ভাবেননি বলেই জিতেছেন মোস্তাফিজ

প্রতিনিধির নাম :

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পর আলোচনার খোরাক জুটেছে অনেক। অধিকাংশ স্তুতিমাখা, প্রশস্তিমাখা আলোচনা। তবে এর মাঝেও একটি প্রশ্ন ছিল, কেন মোস্তাফিজের এক ওভার ব্যবহার করা হলো না। শেষ ওভারে অমন বোলিং করা মোস্তাফিজ কেন নয় ওভার করবেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাই দিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের গরম দলের সবার ফিটনেসেরই কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছে। ম্যাচে পাঁচ ওভার করার পরই ক্র্যাম্প হয়েছিল মোস্তাফিজের। তবু উপায় নেই বলেই মোস্তাফিজকে বল করতে হয়েছিল। মাশরাফির অনুরোধেই বল করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন মোস্তাফিজ, ‘গরম একটু বেশি। সবারই প্রায় কষ্ট হয়েছে গরমে। অনেক ঘেমেছে সবাই। ক্র্যাম্প করছিল। আমার না শুধু, অনেকেরই। সবার অনেক কষ্ট হয়ে গেছে। ভাই (মাশরাফি) আমাকে একটা কথা বলছিল, “তোর বোলিং করা লাগবেই।” মাঝখানে ৩ ওভার বোলিংয়ের সময় বলেছিলাম, পায়ে লাগছে। ভাই তখন বলেছেন, “তুই রেস্ট নে। শেষে করবি আবার।” আমি বলেছি, ভাই ঠিক আছে, যেভাবে পারি করব।’

এ তো গেল মানসিক দিকটা। কিন্তু শারীরিকভাবে এ ধকল কীভাবে সামলালেন মোস্তাফিজ? পায়ের ব্যথা নিয়েও পেস বোলিং করলেন কীভাবে? উত্তরটি লুকিয়ে আছে পরিবর্তিত বোলিং রানআপে, ‘পায়ে ব্যথা লাগছিল। কিন্তু এখন বল করা তো লাগবেই। আর কিছু করার ছিল না। বেশি ব্যথা হলে ছোট রান আপে করতাম। রান আপে বেশি জোরে দৌড়ালেও পায়ে টান লাগছিল। আমি এ জন্য এমনভাবে দৌড়ালাম যেন পায়ে না লাগে। ওভাবেই বোলিং করছি।’

শেষ ওভারে রান আটকিয়ে দল জেতানো ভয়ংকর কঠিন কাজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালেই বেন স্টোকসের মতো বোলার ১৯ রানের পুঁজি কাজে লাগাতে পারেননি। আর কাল আফগানিস্তানের দরকার ছিল মাত্র ৮ রান। মোস্তাফিজও মানছেন এতে ভাগ্যের সাহায্য দরকার হয়েছে তাঁর, ‘শেষ ওভারে যখন ৮ রান বাকি ছিল, মাশরাফি ভাই বলছিল, “আমরা অনেকবার ৮-৯ রান করতে গিয়ে হারছি। আজকে তুই জেতা।” এটা শুনে ভালো লাগছিল। পারছিলাম না, তবুও চেষ্টা করলাম কপালে থাকলে হবে। পাশে অপু (নাজমুল ইসলাম) ভাই ছিল, উনিও বলছিল “দ্যাখ।” আমি বললাম, কপালে থাকলে হবে, না হলে নাই।’

এ জন্য কীভাবে বল করবেন, তা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাননি মোস্তাফিজ, ‘শেষ ওভারে কুড়ির ওপরে থাকলে ঠিক আছে। কিন্তু ২০ পর্যন্ত থাকলে কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেকোনো মুহূর্তে নিতে পারে। আমার চেষ্টা ছিল, নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। আর ভালো সময় গেছে। এই আর কী। অনেক অভিজ্ঞ বোলারও শেষ ওভারে ৮-১০ রান দিয়ে দেয়। এটা ভাগ্যের ব্যাপার। নরম্যালি বোলিং করা দরকার, করেছি। বেশি ভাবলে দেখা যেত যে ওই দুই বলেই ৮ রান নিয়ে নিছে। বেশি ভাবিনি, এ কারণেই জিতেছি।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
৯ বার পঠিত হয়েছে

বেশি ভাবেননি বলেই জিতেছেন মোস্তাফিজ

আপডেট এর সময় : ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পর আলোচনার খোরাক জুটেছে অনেক। অধিকাংশ স্তুতিমাখা, প্রশস্তিমাখা আলোচনা। তবে এর মাঝেও একটি প্রশ্ন ছিল, কেন মোস্তাফিজের এক ওভার ব্যবহার করা হলো না। শেষ ওভারে অমন বোলিং করা মোস্তাফিজ কেন নয় ওভার করবেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাই দিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের গরম দলের সবার ফিটনেসেরই কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছে। ম্যাচে পাঁচ ওভার করার পরই ক্র্যাম্প হয়েছিল মোস্তাফিজের। তবু উপায় নেই বলেই মোস্তাফিজকে বল করতে হয়েছিল। মাশরাফির অনুরোধেই বল করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন মোস্তাফিজ, ‘গরম একটু বেশি। সবারই প্রায় কষ্ট হয়েছে গরমে। অনেক ঘেমেছে সবাই। ক্র্যাম্প করছিল। আমার না শুধু, অনেকেরই। সবার অনেক কষ্ট হয়ে গেছে। ভাই (মাশরাফি) আমাকে একটা কথা বলছিল, “তোর বোলিং করা লাগবেই।” মাঝখানে ৩ ওভার বোলিংয়ের সময় বলেছিলাম, পায়ে লাগছে। ভাই তখন বলেছেন, “তুই রেস্ট নে। শেষে করবি আবার।” আমি বলেছি, ভাই ঠিক আছে, যেভাবে পারি করব।’

এ তো গেল মানসিক দিকটা। কিন্তু শারীরিকভাবে এ ধকল কীভাবে সামলালেন মোস্তাফিজ? পায়ের ব্যথা নিয়েও পেস বোলিং করলেন কীভাবে? উত্তরটি লুকিয়ে আছে পরিবর্তিত বোলিং রানআপে, ‘পায়ে ব্যথা লাগছিল। কিন্তু এখন বল করা তো লাগবেই। আর কিছু করার ছিল না। বেশি ব্যথা হলে ছোট রান আপে করতাম। রান আপে বেশি জোরে দৌড়ালেও পায়ে টান লাগছিল। আমি এ জন্য এমনভাবে দৌড়ালাম যেন পায়ে না লাগে। ওভাবেই বোলিং করছি।’

শেষ ওভারে রান আটকিয়ে দল জেতানো ভয়ংকর কঠিন কাজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালেই বেন স্টোকসের মতো বোলার ১৯ রানের পুঁজি কাজে লাগাতে পারেননি। আর কাল আফগানিস্তানের দরকার ছিল মাত্র ৮ রান। মোস্তাফিজও মানছেন এতে ভাগ্যের সাহায্য দরকার হয়েছে তাঁর, ‘শেষ ওভারে যখন ৮ রান বাকি ছিল, মাশরাফি ভাই বলছিল, “আমরা অনেকবার ৮-৯ রান করতে গিয়ে হারছি। আজকে তুই জেতা।” এটা শুনে ভালো লাগছিল। পারছিলাম না, তবুও চেষ্টা করলাম কপালে থাকলে হবে। পাশে অপু (নাজমুল ইসলাম) ভাই ছিল, উনিও বলছিল “দ্যাখ।” আমি বললাম, কপালে থাকলে হবে, না হলে নাই।’

এ জন্য কীভাবে বল করবেন, তা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাননি মোস্তাফিজ, ‘শেষ ওভারে কুড়ির ওপরে থাকলে ঠিক আছে। কিন্তু ২০ পর্যন্ত থাকলে কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেকোনো মুহূর্তে নিতে পারে। আমার চেষ্টা ছিল, নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। আর ভালো সময় গেছে। এই আর কী। অনেক অভিজ্ঞ বোলারও শেষ ওভারে ৮-১০ রান দিয়ে দেয়। এটা ভাগ্যের ব্যাপার। নরম্যালি বোলিং করা দরকার, করেছি। বেশি ভাবলে দেখা যেত যে ওই দুই বলেই ৮ রান নিয়ে নিছে। বেশি ভাবিনি, এ কারণেই জিতেছি।’