ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও Logo আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র চুক্তি বাতিলের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিনিধির নাম :

রাশিয়ার সঙ্গে করা পরমাণু অস্ত্র চুক্তি থেকে সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্স (আইএনএফ) চুক্তি লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া। সেজন্যই তারা চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, স্থল থেকে উৎক্ষেপিত মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত আনা সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ওই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে দেবে না, যার অনুমতি তাদের নেই।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেন এটা নিয়ে আলোচনা করেননি বা সরে আসেননি। রাশিয়া অনকেদিন ধরেই এই চুক্তির লঙ্ঘন করে আসছে।’

২০১৪ সালে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে আইএনএফ চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নোভাটের-৯এম৭২৯ নামে মধ্যপাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরি করেছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালাতে পারবে তারা।

অবশ্য শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সামরিক আগ্রাসন থামাতেই যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ওই চুক্তি থেকে বের করে আনতে চাইছে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন এসএস-২০ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। মার্কিন মিত্ররা তখন যুক্তরাষ্ট্রের পারসিং ও ক্রুজ মিসাইল নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। এই ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে আইএনএফ চুক্তির মাধ্যমেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কখনোই এই চুক্তি থেকে সরে আসতে চাননি। তিনি মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্র সরে আসলে আবারও বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতে পারে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮
২৭ বার পঠিত হয়েছে

রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র চুক্তি বাতিলের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট এর সময় : ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮

রাশিয়ার সঙ্গে করা পরমাণু অস্ত্র চুক্তি থেকে সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্স (আইএনএফ) চুক্তি লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া। সেজন্যই তারা চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, স্থল থেকে উৎক্ষেপিত মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত আনা সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ওই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে দেবে না, যার অনুমতি তাদের নেই।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেন এটা নিয়ে আলোচনা করেননি বা সরে আসেননি। রাশিয়া অনকেদিন ধরেই এই চুক্তির লঙ্ঘন করে আসছে।’

২০১৪ সালে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে আইএনএফ চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নোভাটের-৯এম৭২৯ নামে মধ্যপাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরি করেছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালাতে পারবে তারা।

অবশ্য শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সামরিক আগ্রাসন থামাতেই যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ওই চুক্তি থেকে বের করে আনতে চাইছে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন এসএস-২০ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। মার্কিন মিত্ররা তখন যুক্তরাষ্ট্রের পারসিং ও ক্রুজ মিসাইল নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। এই ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে আইএনএফ চুক্তির মাধ্যমেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কখনোই এই চুক্তি থেকে সরে আসতে চাননি। তিনি মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্র সরে আসলে আবারও বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতে পারে।