ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo নারায়ণগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত Logo জাতিসংঘে নারী মহাসচিব প্রার্থী ইকুয়েডরের এসপিনোসার প্রচারণা শুরু Logo ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে, এইচএসসি জুনে Logo ডেমরায় শিপু মেকওভার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার-এর শুভ উদ্বোধন Logo প্রথম সেশন বাংলাদেশের Logo কাতারের উপকূলের কাছে জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত Logo দেশকে ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ : মির্জা ফখরুল Logo নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo হাওরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সরকার

মঠবাড়িয়ায় খেতাছিড়া বেড়িবাঁধে ধস সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি

প্রতিনিধির নাম :

মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ্বর নদ তীরবর্তী খেতাছিড়া বেড়িবাঁধের তিনটি পয়েন্ট ধসে দুই গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই ইউনিয়নের খেতাছিড়া জেলে পল্লি গত তিনদিন ধরে জোয়ারের পানিতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জোয়ারের চাপে ধস নামায় বাঁধের স্থানে সোমবার দুপুরের দিকে ভাঙনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, খেতাছিড়া বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে হু হু করে জোয়ারের পানি গ্রামে ঢুকে পানিতে নদ তীরবর্তী জেলে পল্লির বসতঘর ও কৃষিজমি প্রায় চার-পাঁচ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে আমন বীজতলা ও পাকা ইরিধানের ক্ষেত, সবজি বাগানসহ ১০টি মাছের ঘের, ৫০টি পুকুর ডুবে প্রায় ৮০০ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে। গত তিনদিন ধরে এই দুই গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

খেতাছিড়া ইউপি সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন বেপারী জানান, বলেশ্বর নদীর প্রবল জোয়ারের চাপে খেতাছিড়া বেড়িবাঁধের দুইটি অংশে ও কচুবাড়িয়া একটি পয়েন্টে ধস দেখা যায়। ওই তিনটি পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দুই গ্রামের বসতবাড়ি, ক্ষেত-খামার চার/পাঁচ ফুট পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার গত তিনদিন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

সাপলেজা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিরাজ মিয়া বলেন, বেড়িবাঁধটি নদী ভাঙনকবলিত হওয়ায় কিছু অংশে ধস দেখা দিয়েছে। ওই অংশে জরুরি মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী শাহআলম ঢালী জানান, জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধের ধসের খবর জেনেছি। বেড়িবাঁধটি নদী লাগোয়া হওয়ায় তা ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্থানে মাটি ভরাট ও ব্লক নির্মাণ কাজ বাঁধ সংলগ্ন জমির অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে সাময়িক সংস্কারের কোনো বরাদ্দ না থাকায় আপাতত কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাফফারা তাসনীন বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে কাজ চলছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৮
২ বার পঠিত হয়েছে

মঠবাড়িয়ায় খেতাছিড়া বেড়িবাঁধে ধস সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি

আপডেট এর সময় : ০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৮

মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ্বর নদ তীরবর্তী খেতাছিড়া বেড়িবাঁধের তিনটি পয়েন্ট ধসে দুই গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই ইউনিয়নের খেতাছিড়া জেলে পল্লি গত তিনদিন ধরে জোয়ারের পানিতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জোয়ারের চাপে ধস নামায় বাঁধের স্থানে সোমবার দুপুরের দিকে ভাঙনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, খেতাছিড়া বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে হু হু করে জোয়ারের পানি গ্রামে ঢুকে পানিতে নদ তীরবর্তী জেলে পল্লির বসতঘর ও কৃষিজমি প্রায় চার-পাঁচ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে আমন বীজতলা ও পাকা ইরিধানের ক্ষেত, সবজি বাগানসহ ১০টি মাছের ঘের, ৫০টি পুকুর ডুবে প্রায় ৮০০ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে। গত তিনদিন ধরে এই দুই গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

খেতাছিড়া ইউপি সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন বেপারী জানান, বলেশ্বর নদীর প্রবল জোয়ারের চাপে খেতাছিড়া বেড়িবাঁধের দুইটি অংশে ও কচুবাড়িয়া একটি পয়েন্টে ধস দেখা যায়। ওই তিনটি পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দুই গ্রামের বসতবাড়ি, ক্ষেত-খামার চার/পাঁচ ফুট পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার গত তিনদিন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

সাপলেজা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিরাজ মিয়া বলেন, বেড়িবাঁধটি নদী ভাঙনকবলিত হওয়ায় কিছু অংশে ধস দেখা দিয়েছে। ওই অংশে জরুরি মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী শাহআলম ঢালী জানান, জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধের ধসের খবর জেনেছি। বেড়িবাঁধটি নদী লাগোয়া হওয়ায় তা ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্থানে মাটি ভরাট ও ব্লক নির্মাণ কাজ বাঁধ সংলগ্ন জমির অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে সাময়িক সংস্কারের কোনো বরাদ্দ না থাকায় আপাতত কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাফফারা তাসনীন বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে কাজ চলছে।