ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo দেশের ৬টি অঞ্চলের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে Logo ঠাকুরগাঁওয়ে মেধার ভিত্তিতে পুলিশে চাকরি পেল ২৬ তরুণ-তরুণী Logo এআই চিপের ব্যাপক চাহিদায় প্রথম প্রান্তিকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সিঙ্গাপুরের Logo সোমবারই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি : আশাবাদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরাইলের Logo জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন Logo ঈদে উপকূলজুড়ে কোস্ট গার্ডের হাই প্রোফাইল নিরাপত্তা বলয় Logo হিলি স্থলবন্দর ঈদুল আযহায় ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo গোপালগঞ্জে মধুমতি নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

রিটে আটকে আইসিটি বিভাগে প্রোগ্রামার নিয়োগ

প্রতিনিধির নাম :

পদোন্নতি দাবিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের দেড়শতাধিক সহকারী প্রোগ্রামারের পক্ষ থেকে করা রিটে এই বিভাগে প্রোগ্রামার নিয়োগ আটকে গেছে। আর এই পদোন্নতির দাবিকে ‘নিয়ম বহির্ভূত’ বলছে আইসিটি বিভাগ। আর এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে ২০১৫ সালে কম্পিউটার কাউন্সিলের দুইটি প্রকল্প থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের সহকারী প্রোগ্রামার পদে অস্থায়ীভাবে ১৮৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগকালে শর্ত ছিল, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হলে তারা পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হবেন না। এই পাঁচ বছরে সহকারী প্রোগ্রামার থেকে প্রোগ্রামার পদে পদোন্নতির যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে প্রোগ্রামার নিয়োগ দেয়া হবে।

২০১৬ সালে সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসির মাধ্যমে প্রোগ্রামার পদে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিয়োগের নানা ধাপ শেষে গত বছরের ৬ নভেম্বর ৫৬ জনকে জেলা পর্যায়ের জন্য প্রোগ্রামার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি।

এই সুপারিশের পরপরই সহকারী প্রোগ্রামারদের কয়েকজনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করেন। পর আদালতের নির্দেশে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগে সুপারিশকৃতদের নিয়োগ আটকে যায়। এভাবে একের পর এক মামলা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ভোলা সদর উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার নূরুল আমীনের দায়ের করা হাইকোর্টে রিটের পর গত ৬ ডিসেম্বর অধিদপ্তরকে ওই সংক্রান্ত জবাব দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

পরে অধিদপ্তরের সেই সময়ের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টকে জানান, সহকারী প্রোগ্রামারদের যে শর্তে নিয়োগ দেয়া হয়, তা এখনও পূরণ হয়নি। তাদের চাকরি স্থায়ী হয়নি, এমনকি পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য বলেও বিবেচিত হননি।

বনমালী আরও জানান, রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইসিটিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, আইসিটি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও বেগবান করতে এবং ই-সার্ভিস টেকসই করার জন্য আইসিটি অধিদপ্তরের জনবল বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। জেলা পর্যায়ে প্রোগ্রামার পদ থাকা সত্ত্বেও পদগুলো ফাঁকা রয়েছে। এতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এরপরও সহকারী প্রোগ্রামাররা একের পর এক আবেদন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক একেএম খায়রুল আলম।

যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহকারী প্রোগ্রামার বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন ছিল বলেই সরকার প্রকল্প থেকে রাজস্বে এনেছে। তাহলে কেন এখন আমাদের ওপর অন্যায় হবে? আমাদের এখনও স্থায়ী করা হয়নি। স্থায়ী করতে তো এতো সময় লাগে না। তাছাড়া আমাদের পদোন্নতি না দিয়ে আলাদা করে প্রোগ্রামার নিয়োগ করা হচ্ছে। তারা যদি নিয়োগ পেয়ে যায় তাহলে আমাদের তো পদোন্নতি হবে না।’

‘যদিও পদোন্নতির জন্য চাকরির পাঁচ বছর হওয়ার কথা। কিন্তু দুই আড়াই বছর হয়ে গেল. এসআরও জারি হয়নি, এমনকি স্থায়ীও হয়নি। সরকার ও কর্তৃপক্ষ আমাদের অবহেলা করছেন। এ কারণেই আমরা লিগ্যাল অ্যাকশনে গেছি।’

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খায়রুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাদের প্রকল্প থেকে দয়া করে অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ করলেন সেই তারাই এখন প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছেন। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে খুবই বিরক্ত।’

‘প্রকল্প থেকে এভাবে কাউকে নেওয়ার নিয়ম নেই। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ১৮৯ জনকে সহকারী প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ সেই তারাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮
১১ বার পঠিত হয়েছে

রিটে আটকে আইসিটি বিভাগে প্রোগ্রামার নিয়োগ

আপডেট এর সময় : ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮

পদোন্নতি দাবিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের দেড়শতাধিক সহকারী প্রোগ্রামারের পক্ষ থেকে করা রিটে এই বিভাগে প্রোগ্রামার নিয়োগ আটকে গেছে। আর এই পদোন্নতির দাবিকে ‘নিয়ম বহির্ভূত’ বলছে আইসিটি বিভাগ। আর এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে ২০১৫ সালে কম্পিউটার কাউন্সিলের দুইটি প্রকল্প থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের সহকারী প্রোগ্রামার পদে অস্থায়ীভাবে ১৮৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগকালে শর্ত ছিল, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হলে তারা পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হবেন না। এই পাঁচ বছরে সহকারী প্রোগ্রামার থেকে প্রোগ্রামার পদে পদোন্নতির যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে প্রোগ্রামার নিয়োগ দেয়া হবে।

২০১৬ সালে সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসির মাধ্যমে প্রোগ্রামার পদে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিয়োগের নানা ধাপ শেষে গত বছরের ৬ নভেম্বর ৫৬ জনকে জেলা পর্যায়ের জন্য প্রোগ্রামার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি।

এই সুপারিশের পরপরই সহকারী প্রোগ্রামারদের কয়েকজনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করেন। পর আদালতের নির্দেশে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগে সুপারিশকৃতদের নিয়োগ আটকে যায়। এভাবে একের পর এক মামলা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ভোলা সদর উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার নূরুল আমীনের দায়ের করা হাইকোর্টে রিটের পর গত ৬ ডিসেম্বর অধিদপ্তরকে ওই সংক্রান্ত জবাব দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

পরে অধিদপ্তরের সেই সময়ের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টকে জানান, সহকারী প্রোগ্রামারদের যে শর্তে নিয়োগ দেয়া হয়, তা এখনও পূরণ হয়নি। তাদের চাকরি স্থায়ী হয়নি, এমনকি পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য বলেও বিবেচিত হননি।

বনমালী আরও জানান, রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইসিটিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, আইসিটি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও বেগবান করতে এবং ই-সার্ভিস টেকসই করার জন্য আইসিটি অধিদপ্তরের জনবল বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। জেলা পর্যায়ে প্রোগ্রামার পদ থাকা সত্ত্বেও পদগুলো ফাঁকা রয়েছে। এতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এরপরও সহকারী প্রোগ্রামাররা একের পর এক আবেদন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক একেএম খায়রুল আলম।

যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহকারী প্রোগ্রামার বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন ছিল বলেই সরকার প্রকল্প থেকে রাজস্বে এনেছে। তাহলে কেন এখন আমাদের ওপর অন্যায় হবে? আমাদের এখনও স্থায়ী করা হয়নি। স্থায়ী করতে তো এতো সময় লাগে না। তাছাড়া আমাদের পদোন্নতি না দিয়ে আলাদা করে প্রোগ্রামার নিয়োগ করা হচ্ছে। তারা যদি নিয়োগ পেয়ে যায় তাহলে আমাদের তো পদোন্নতি হবে না।’

‘যদিও পদোন্নতির জন্য চাকরির পাঁচ বছর হওয়ার কথা। কিন্তু দুই আড়াই বছর হয়ে গেল. এসআরও জারি হয়নি, এমনকি স্থায়ীও হয়নি। সরকার ও কর্তৃপক্ষ আমাদের অবহেলা করছেন। এ কারণেই আমরা লিগ্যাল অ্যাকশনে গেছি।’

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খায়রুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাদের প্রকল্প থেকে দয়া করে অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ করলেন সেই তারাই এখন প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছেন। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে খুবই বিরক্ত।’

‘প্রকল্প থেকে এভাবে কাউকে নেওয়ার নিয়ম নেই। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ১৮৯ জনকে সহকারী প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ সেই তারাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।’