ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo গাজীপুরে ট্রাক-বাস সংঘর্ষে ২ জন নিহত Logo বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান Logo ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ায় ত্রাণের অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষ Logo অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় Logo অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন Logo ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী Logo প্রস্তুতি ম্যাচে ইনজুরিতে বাবর Logo নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ Logo ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ২০, হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় তরুণীকে খুন!

প্রতিনিধির নাম :

ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। এরপর তাদের ঘরে আসে সন্তান। আর সেই সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকেরা খুন করলেন এক তরুণীকে। ঘটনা ভারতের পশ্চিম বঙ্গের (বর্তমানে বাংলা) মুর্শিদাবাদ জেলার।

বছর চারেক আগে পরিবারের অমতে পায়েল কোনাই (১৮) স্বামী তপনকে। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। অভিযোগ, যৌতুকের জন্য প্রায়ই পায়েলকে চাপ দেওয়া হত। তার স্বামী তপন প্রতিদিন মদ খেয়ে বাড়ি ফিরত। পায়েল কিছু বললেই মারধর করত।

বিয়ের বছর দেড়েক পরে ওই তরুণী পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু জন্ম থেকেই শিশুটি প্রতিবন্ধী। সেই কারণেই পায়েলকেই দোষারোপ করা হত। গত মঙ্গলবার রাতে সেই পায়েলেরই নিথর দেহ মিলে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে।

পায়েলের বাবা ত্রিদিব মিস্ত্রি কান্দি থানায় পায়েলের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার পায়েলের স্বামী তপন কোনাই, শ্বশুর লোহারাম কোনাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পায়েলের বাবার অভিযোগ, ‘যৌতুকের জন্য ওরা প্রায়ই মেয়েটাকে অত্যাচার করত। নাতিটা প্রতিবন্ধী হওয়ায় মেয়ের উপরে অত্যাচার আরও বাড়ে। মঙ্গলবার রাতে জামাই ও তার বাড়ির লোকজন মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে।’

স্থানীয় পুলিশও একই কথা বলেছে। পুলিশ জানায়, মামলার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই শ্বশুর ও স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পায়েলের বাবা ত্রিবিদ কোনাই বলেন, ‘আমার তিন মেয়ের মধ্যে পায়েল বড়। তখন ও আমাদের কারও কথা শুনল না। বাড়ি থেকে চলে গিয়ে তপনকেই বিয়ে করল। তবে বিয়ের পরে মেয়ের উপর আর রাগ করে থাকতে পারিনি। ওদের সম্পর্কটা মেনেই নিয়েছিলাম। আমার আর্থিক অবস্থাও ভাল নয়। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তাই ওদের চাহিদা মতো পণও দিতে পারিনি। কিন্তু সেই কারণে মেয়েটাকে যে ওরা মেরেই ফেলবে, স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি ওদের কঠোর শাস্তি চাই।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৯
১৪ বার পঠিত হয়েছে

সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় তরুণীকে খুন!

আপডেট এর সময় : ১০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৯

ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। এরপর তাদের ঘরে আসে সন্তান। আর সেই সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকেরা খুন করলেন এক তরুণীকে। ঘটনা ভারতের পশ্চিম বঙ্গের (বর্তমানে বাংলা) মুর্শিদাবাদ জেলার।

বছর চারেক আগে পরিবারের অমতে পায়েল কোনাই (১৮) স্বামী তপনকে। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। অভিযোগ, যৌতুকের জন্য প্রায়ই পায়েলকে চাপ দেওয়া হত। তার স্বামী তপন প্রতিদিন মদ খেয়ে বাড়ি ফিরত। পায়েল কিছু বললেই মারধর করত।

বিয়ের বছর দেড়েক পরে ওই তরুণী পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু জন্ম থেকেই শিশুটি প্রতিবন্ধী। সেই কারণেই পায়েলকেই দোষারোপ করা হত। গত মঙ্গলবার রাতে সেই পায়েলেরই নিথর দেহ মিলে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে।

পায়েলের বাবা ত্রিদিব মিস্ত্রি কান্দি থানায় পায়েলের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার পায়েলের স্বামী তপন কোনাই, শ্বশুর লোহারাম কোনাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পায়েলের বাবার অভিযোগ, ‘যৌতুকের জন্য ওরা প্রায়ই মেয়েটাকে অত্যাচার করত। নাতিটা প্রতিবন্ধী হওয়ায় মেয়ের উপরে অত্যাচার আরও বাড়ে। মঙ্গলবার রাতে জামাই ও তার বাড়ির লোকজন মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে।’

স্থানীয় পুলিশও একই কথা বলেছে। পুলিশ জানায়, মামলার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই শ্বশুর ও স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পায়েলের বাবা ত্রিবিদ কোনাই বলেন, ‘আমার তিন মেয়ের মধ্যে পায়েল বড়। তখন ও আমাদের কারও কথা শুনল না। বাড়ি থেকে চলে গিয়ে তপনকেই বিয়ে করল। তবে বিয়ের পরে মেয়ের উপর আর রাগ করে থাকতে পারিনি। ওদের সম্পর্কটা মেনেই নিয়েছিলাম। আমার আর্থিক অবস্থাও ভাল নয়। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তাই ওদের চাহিদা মতো পণও দিতে পারিনি। কিন্তু সেই কারণে মেয়েটাকে যে ওরা মেরেই ফেলবে, স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি ওদের কঠোর শাস্তি চাই।’