ঢাকা , রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ Logo ইরানে খামেনির জানাজা, শেষ শ্রদ্ধায় উপচে পড়া ভিড় Logo পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর Logo কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর Logo নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে সরকার: সফিকুর রহমান কিরণ এমপি Logo কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ট্রাম্প Logo ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ Logo জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

অক্টোবরে সড়কে ঝরেছে ৪৪১ প্রাণ, মোট দুর্ঘটনা ৪৮৬টি

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:  গত অক্টোবর মাসে দেশের সড়কে ৪৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪১ জন, আহত হয়েছেন ১১২৮ জন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি, একই সময়ে নৌপথ ও রেলপথেও ঘটেছে বহু প্রাণহানির ঘটনা। বুধবার ১৯ নভেম্বর রোড সেফটি ফাউন্ডেশন গণমাধ্যমে পাঠানো মাসিক প্রতিবেদনে অক্টোবরের এই সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৯২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩৭ জন। যা মোট মৃত্যুর প্রায় এক তৃতীয়াংশ। একই সময়ে ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, নিখোঁজ রয়েছেন ৪ জন। রেলপথে ৪৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৩ জনের এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৫৭ জন এবং শিশুর সংখ্যা ৬৩।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১২ জন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ২৪ জন। দুর্ঘটনাগুলোর ১৬৬টি ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৮টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৮৭টি শহরের সড়কে। বাকি চারটি দুর্ঘটনা ঘটেছে অন্যান্য স্থানে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, “অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটছে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে।” তিনি আরও বলেন, “গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং চালকদের নিয়মিত মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ জরুরি।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিল ১৩ দশমিক ৯ জন। অক্টোবর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৭ জনে। হিসাব অনুযায়ী অক্টোবর মাসে সড়কে প্রাণহানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় নিহতদের ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী মারা গেছেন ১৩৭ জন। বাসযাত্রী ৩০ জন, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ির আরোহী ২৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ৭ জন। থ্রি হুইলারে নিহত ১০৩ জন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন, ভটভটি, আলমসাধু, টমটম ও মাহিন্দ্রর যাত্রী মারা গেছেন ৩৪ জন। রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের সমস্যা, চালকদের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি, স্বল্পগতির যানবাহন মহাসড়কে চলাচল, যাত্রী ও পথচারীদের আইন না জানা বা না মানা এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলো বড় ভূমিকা রাখছে।

এ ছাড়া নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেছে সংস্থাটি। তাদের ভাষায়, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়াতে হবে এবং চালকদের নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা প্রণয়ন জরুরি।” পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড, রেল ও নৌপথ সংস্কার এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
৮ বার পঠিত হয়েছে

অক্টোবরে সড়কে ঝরেছে ৪৪১ প্রাণ, মোট দুর্ঘটনা ৪৮৬টি

আপডেট এর সময় : ০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:  গত অক্টোবর মাসে দেশের সড়কে ৪৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪১ জন, আহত হয়েছেন ১১২৮ জন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি, একই সময়ে নৌপথ ও রেলপথেও ঘটেছে বহু প্রাণহানির ঘটনা। বুধবার ১৯ নভেম্বর রোড সেফটি ফাউন্ডেশন গণমাধ্যমে পাঠানো মাসিক প্রতিবেদনে অক্টোবরের এই সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৯২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩৭ জন। যা মোট মৃত্যুর প্রায় এক তৃতীয়াংশ। একই সময়ে ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, নিখোঁজ রয়েছেন ৪ জন। রেলপথে ৪৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৩ জনের এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৫৭ জন এবং শিশুর সংখ্যা ৬৩।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১২ জন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ২৪ জন। দুর্ঘটনাগুলোর ১৬৬টি ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ১৪৮টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৮৭টি শহরের সড়কে। বাকি চারটি দুর্ঘটনা ঘটেছে অন্যান্য স্থানে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, “অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটছে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে।” তিনি আরও বলেন, “গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং চালকদের নিয়মিত মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ জরুরি।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিল ১৩ দশমিক ৯ জন। অক্টোবর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৭ জনে। হিসাব অনুযায়ী অক্টোবর মাসে সড়কে প্রাণহানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় নিহতদের ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী মারা গেছেন ১৩৭ জন। বাসযাত্রী ৩০ জন, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ির আরোহী ২৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ৭ জন। থ্রি হুইলারে নিহত ১০৩ জন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন, ভটভটি, আলমসাধু, টমটম ও মাহিন্দ্রর যাত্রী মারা গেছেন ৩৪ জন। রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের সমস্যা, চালকদের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি, স্বল্পগতির যানবাহন মহাসড়কে চলাচল, যাত্রী ও পথচারীদের আইন না জানা বা না মানা এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলো বড় ভূমিকা রাখছে।

এ ছাড়া নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেছে সংস্থাটি। তাদের ভাষায়, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়াতে হবে এবং চালকদের নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা প্রণয়ন জরুরি।” পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড, রেল ও নৌপথ সংস্কার এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।