1. rajubdnews@gmail.com : 24jibonnews : admink
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ:
আলোর পথে যাত্রা: ছায়াবীথি জামে মসজিদে বয়স্ক শিক্ষার্থীদের পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান ও দোয়া মাহফিল জলাবদ্ধতা রোধ ও পানি সংরক্ষণে খাল খনন কর্মসূচি: প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলের বিমান হামলায় লেবাননে ১২ জন নিহত মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের জন্য ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের গরমে সুস্থ থাকতে জেনে নিন শসা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি সিলেট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন ডেমরা থানা কমিটির পক্ষ থেকে মে দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও বিশাল সমাবেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত এনপিটি সম্মেলনে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে জোরালো পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

ইয়েমেনে কে জিতবে : সৌদি আরব না ইরান

প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮

ইয়েমেন সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান কোন পথে

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সম্প্রতি ইয়েমেনের যুদ্ধ ও সঙ্ঘাত অবসানে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য নিউ ইয়র্কে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। কিন্তু উভয় পক্ষ একটি চুক্তি বা সমাঝোতায় না পৌঁছার কারণে সম্মেলনটি সফল হয়নি। সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের অনমনীয়তাকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু একটি পক্ষের ওপর দায় চাপালেই কি চলবে? যুদ্ধ ও বিরোধ নিরসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশা ভরসারস্থল জাতিসঙ্ঘ কী এ ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে?

হুতি বিদ্রোহীরা তাদের ঘানা দখলের চতুর্থবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে উচ্চপর্যায়ের এক সমাবেশের আয়োজন করে ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। তারা সেখানে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো কিভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়, সে ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। তাদের এই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে সেখানে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

ইয়েমেনে যে অস্বাভাবিক যুদ্ধ চলছে- প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ব্যাপারে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি মতৈক্য রয়েছে। ২০১১ সালে জিসিসি যে উদ্যোগ নিয়েছিল সে ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে মতৈক্য তৈরি হয়েছিল। ২০১৩-২০১৪ সালে ইয়েমেনের জাতীয় সংলাপ সম্মেলন এবং ২০১৫ সালের জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২১৬ নম্বর প্রস্তাবের ফলাফল কী? ওই সমঝোতা বা মতানৈক্য সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছা সম্ভব হয়নি কেন?

দুই কোটি ৭৫ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ ইয়মেনের প্রাচীন শিকড় আফ্রিকা মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার সংযোগস্থলে হলেও আধুনিক ইয়মেন প্রজাতন্ত্র একটি নতুন রাষ্ট্র। কয়েক বছরের বিরোধ ও দ্বন্দ্বের পর ১৯৯০ সালে কমিউনিস্ট দক্ষিণ ইয়েমেন এবং ঐতিহ্যবাহী উত্তর ইয়মেন একীভূত হয়। কিন্তু উত্তর ও দক্ষিণ ইয়মেনের মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকে। ১৯৯৪ সালে স্বল্প সময় স্থায়ী এক গৃহযুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে পরাজিত করা হয়। ২০০৯ সালে সরকারি সৈন্য এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলে সঙ্ঘাত শুরু হলে ইয়েমেনে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত লোক নিহত এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ স্থানচ্যুত হয়ে পড়ে।

তিউনিসিয়া ও মিসরে আরব বসন্ত শুরু হলে তার প্রভাব পড়ে ইয়েমেনে। ফলে ২০১১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এক সময়ে ইয়েমেনে আলকায়েদা এবং আইএসের মতো উগ্রপন্থীদের তৎপরতাও বেড়ে যায় এবং দেশে অস্থিরতা দেখা দেয়। এরপর ২০১৪ সালে দেশটিতে সর্পিল গতিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। শান্তি উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশটিতে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, হুতি বিদ্রোহীরা প্রধানত শিয়া এবং ইরান তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করাসহ নানাভাবে সহযোগিতা ও উসকানি দিয়ে আসছে। আলী আবদুল্লাহ সালেহকে পদত্যাগে বাধ্য করার পর ২০১২ সালে মনসুর হাদী ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর তিনি ২০১৫ সালে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরবর্তীকালে তিনি এডেন শহরে অস্থায়ী রাজধানী গঠন করেন। সৌদি আরব তাকে সহায়তা দিয়ে আসছে। জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং জিসিসি হুতিদের বিরুদ্ধে হাদি সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যকার যুদ্ধে দেশটিতে বহু লোক নিহত হয়েছে। সৌদি সামরিক জোটের হামলায় অনেক বেসামরিক লোকও নিহত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে দুর্ভিক্ষসহ নানা রোগব্যাধি দেখা দিয়েছে।

২০১৬ সালের আগস্টে হুতি এবং সরকারি আলোচকেরা একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছার জন্য বিস্তারিত একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছিলেন। জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে কুয়েতে পাঁচ মাস আলাপ-আলোচনার পর রাজনৈতিক সমাধানের ওই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে হুতি নেতৃত্ব এই সমঝোতা উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করে। এরপর আলাপ-আলোচনার অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং জাতিসঙ্ঘও সঙ্কট সমাধানে সফল হতে পারেনি। জাতিসঙ্ঘের তিনজন বিশেষ দূত চেষ্টা চালানোর পরও ইয়েমেনে রাজনৈতিক সমাধান সফল না হওয়ার কারণ কী?

দুইপক্ষের রাজনৈতিক নিষ্পত্তিতে পৌঁছতে না পারার বড় কারণ হলো ইরান। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বৃদ্ধির জন্য হুতিদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ইরান হিজবুল্লাহর মতো হুতিদেরও শক্তিশালী হিসেবে দেখতে চায়। হুতি মিলিশিয়াদের প্রতি ইরান সমর্থন বৃদ্ধি করেছে এবং সমঝোতায় না পৌঁছার জন্য হুতিদের উৎসাহিত করছে। জাতিসঙ্ঘও হুতিদের ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ। কারণ, কুয়েত আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছার ব্যাপারে একটি সম্মত কাঠামোয় পৌঁছার পর হুতিরা তা থেকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সরে গেছে। কুয়েতে আলোচনার পর হুতিরা জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবিত কাঠামো মেনে নিয়েছিল। হুতিরা ওই কাঠামো প্রত্যাখ্যান করার পর জাতিসঙ্ঘ তাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছে না। হুতিরা একটি ডি-এসকেলেশন কো-অর্ডিনেশন কমিটি (ডিসিসি) গঠনের ব্যাপারে প্রথমে সম্মত হয় এবং সাতটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, কিন্তু পরে তারা ওই চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়।

শিগগির বা যেকোনো সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল না হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে- যেসব হুতি যুবকের হাতে এখন অস্ত্র আছে, তারা কোনো সঙ্কটে নেই। আর্থিক দৈন্যতায় নেই। তারা মনে করছে- গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে তারা আরো লাভবান হবে। যুদ্ধ নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে যে তারা আরো লাভবান হবে- এটি তাদের উপলব্ধিতে আসতে হবে। তাই তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্যও কাজ করতে হবে।

মানবিক পরিস্থিতি অবশ্য গত বছরের চেয়ে ভালো। তবে স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন কাজ চলছে খুব ধীরে। যেসব এলাকা থেকে মিলিশিয়াদের বের করে দেয়া হয়েছে- যেখানেও ধীরগতিতে পুনর্গঠন কাজ চলছে। জিসিসি দেশগুলো ইয়েমেনের জন্য ২২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ইয়েমেনের সহায়তা ও পুনর্গঠনে এগিয়ে আসছে না। ইয়েমেনে হুতিদের গোষ্ঠীগত ভিশন কী সে সম্পর্কে পশ্চিমারা জনে না। তাই কিছু কিছু পশ্চিমা গ্রুপও হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে কিছু পশ্চিমা গ্রুপের এ অবস্থান অনাকাক্সিক্ষত।

প্রকৃতপক্ষে হুতি প্রকল্প হচ্ছে ইয়েমেনকে ধ্বংস করার প্রয়াস। তারা যে শুধু জাতিসঙ্ঘ নীতির বিরোধিতা করছে তা নয়, বরং তারা দেশটির সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ধ্বংস করে দিয়ে থিওক্রেসি-ভিত্তিক জাতিপ্রথা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইয়েমেনে শত শত বছর ধরে যে ব্যবস্থা চালু ছিল- হুতিরা তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা একটি ছোট জাতিসত্তার পারিবারিক শাসন পুরো জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, অথচ ইয়েমেনিরা ১৯৬২ সালেই ওই ব্যবস্থাকে চিরতরে কবর দিয়েছিল।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © জীবন নিউজ ২৪ ডট কম লিমিটেড
Theme Customized BY LatestNews